
মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
Md. Shahiduddin Chowdhury Anee
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (Md. Shahiduddin Chowdhury Anee) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভারপ্রাপ্ত ভিপি ছিলেন। পরে দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব হিসেবে গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৬৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা হাজী বশির উল্যাহ চৌধুরী (Bashirullah Chowdhury) ছিলেন ব্যবসায়ী, মা হোসনে আরা বেগম (Hoshne Ara Begum)। দাদা হাজী পানা মিয়া ব্রিটিশ আমলে চর কাদিরা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। চাচাতো ভাই সাহাবুদ্দিন চৌধুরী ও চৌধুরী খোরশেদ আলমও লক্ষ্মীপুর থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।
লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগ থেকে ১৯৮৮ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৮৯ সালে এমএসসি করেন; ১৯৯৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষায় ডিপ্লোমা নেন। স্ত্রী পারভীন আক্তার চৌধুরী; তাঁদের দুই পুত্র ও এক কন্যা।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৮০ সালে স্কুলছাত্র অবস্থায় লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন; তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৯২ সালে ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। ২০০১ সালে অষ্টম এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ থেকে জয়ী হন। দলে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক (২০০৯) এবং ২০১৬ সাল থেকে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন; সে সময় লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কও ছিলেন। পরে দলের যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। বিরোধী দলে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জামিন না পেয়ে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়।
২০২৬ নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে তিনি ১,৩৫,৬১২ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ রেজাউল করিম (Md Rezaul Karim) পান ১,২২,৮০২ ভোট; জয়ের ব্যবধান ১২,৮১০ ভোট। এর মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের পর প্রথমবার আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
অষ্টম সংসদে তিনি শিক্ষা এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত, আর নবম সংসদে বস্ত্র ও পাট এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের (APPG) ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ২০১০ সালে এই গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সভায় অংশ নেন। ২০১৩ সালে সংসদে বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপের দায়িত্বও পালন করেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, deshrupantor.com, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, samakal.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং এখনো এই দায়িত্বে আছেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ ও আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টনের দায়িত্বে রয়েছে। ২১ জুন ২০২৬ সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ চলছে। ২৮ জুন বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, একনেকে অনুমোদিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ দরপত্রের মাধ্যমে শিগগির শুরু হবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক নদী সংলাপে তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বদলে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহের নিশ্চয়তা-ধারাসহ নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরেই লক্ষ্মীপুরে রহমতখালী খালের তীর রক্ষা কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৩০০ কোটি টাকার নতুন তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কথা জানান।
সূত্র: tbsnews.net ১, unb.com.bd, tbsnews.net ২, samakal.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
লক্ষ্মীপুর-৩ জাতীয় সংসদের ২৭৬ নম্বর আসন, চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুর জেলায় অবস্থিত। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, চর রুহিতা, পার্বতীনগর, শাকচর, টুমচর, চর রমনীমোহন ও বশিকপুর, এই নয়টি ইউনিয়ন বাদে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাকি অংশ নিয়ে আসনটি গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এবং বাঙ্গাখাঁ, দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, চর শাহী, দিঘলী, মান্দারী, লাহারকান্দি, ভবানীগঞ্জ, কুশাখালী ও তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটির ভোটার ছিলেন ৪,৪৪,৪৭২ জন।
অবিভক্ত লক্ষ্মীপুর সদর ছিল জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা; আয়তন প্রায় ৪৮০ বর্গকিলোমিটার, পশ্চিমে মেঘনা নদী। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পুরো উপজেলার জনসংখ্যা ৮,১৪,৮৪৭। ২০২৬ সালের ৪ জুনের গেজেটে সদরের নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠিত হয়েছে, যার আটটি এই আসনের অংশ। কৃষি ও ব্যবসা এখানকার প্রধান জীবিকা, প্রবাসী আয়ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ধান, সয়াবিন ও সবজি প্রধান ফসল; সুপারি, নারিকেল ও ইলিশ এখান থেকে বাইরে যায়। লক্ষ্মীপুর বাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার, মান্দারী বাজার ও ভবানীগঞ্জ বাজার পরিচিত বাণিজ্যকেন্দ্র। জেলা শহরে রয়েছে সদর হাসপাতাল, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ (১৯৬৪) এবং ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার পুরোনো স্থাপনার মধ্যে তিতা খান জামে মসজিদ উল্লেখযোগ্য। ভবানীগঞ্জ এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে রহমতখালী খাল।
১৯৯১ সালে এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনের নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন; ২০০১ ও ২০০৮ সালেও আসনটি বিএনপির ছিল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং ২০২৩ সালের উপনির্বাচন ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক পিংকু নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে ফেরে। বিভিন্ন সময়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হওয়ায় আগের ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নয়।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, samakal.com, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
BNPবিজয়ী১,৩৫,৬১২৫১.১% - Md Rezaul Karim
BJEI১,২২,৮০২৪৬.২%
- Md. Ibrahim
IAB৫,০৫১১.৯% - A K M Mohi UddinJP(ERSHAD)১,৩৩৯০.৫%
- Md. ShamsuddinLDP৪৮৮০.২%
- Salim MahmudNPP২৮৯০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: লক্ষ্মীপুর-৩
আসনের পাতা →নিম্নলিখিত ইউনিয়ন সমূহ ব্যতীত লক্ষীপুর সদর উপজেলা: (১)উত্তর হামছাদী,(২) দক্ষিন হামছাদী,(৩) দালাল বাজার,(৪) চর রুহিতা, (৫)পার্বতী নগর,(৬) শাকচর,(৭) টুমচর,(৮) চর রমনীমোহন ও(৯) বশিকপুর
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…