মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মীর শাহে আলম

মীর শাহে আলম

Mir Shahe Alam

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মীর শাহে আলম বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মীর শাহে আলম (Mir Shahe Alam) বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নেতৃত্ব থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় রাজনীতিতে এসেছেন; তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী। কৃষি, পুষ্টি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে যুক্ত রূপসী বিডি গ্রুপের (Ruposhi BD Group) তিনি চেয়ারম্যান।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭০ সালের ৭ আগস্ট বগুড়ায় তাঁর জন্ম। বাবা মরহুম মীর মোজাফ্ফর রহমান, মা রাজেনা বেগম; ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। পরিবারটি স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত; তাঁর চাচা মীর আবু জাকের মাকু দীর্ঘদিন আটমূল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ এম. এইচ. কলেজে পড়াশোনা করেন; পরে এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। স্ত্রী মীর লাবনী আক্তার ঢাকা ও বগুড়ায় সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৮৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে আসা। ১৯৯১ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হন। ১৯৯৭ সালে তরুণ বয়সেই আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০২ সালে তিনি শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হন। ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলে ২০১০ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৩ সালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং ২০২২ সালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হন।

২০২৩ সালের মার্চে মোকামতলায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়; ১৬ দিন পর হাইকোর্টের জামিনে তিনি মুক্তি পান।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনে শুরুতে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্নার (Mahmudur Rahman Manna) নাম ঘোষিত হয়েছিল। পরে বিএনপি মীর শাহে আলমকে দলীয় প্রার্থী করে; নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্নাও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকেন। মীর শাহে আলম ১,৪৫,১৩৭ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান (Abul Azad Mohammad Shahaduzzaman) পান ৯৩,৫৪৮ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৫১,৫৮৯ ভোট।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় সরকারের দুই স্তরে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র: bssnews.net, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), prothomalo.com, dailyinqilab.com ১, dailyinqilab.com ২, ajkerpatrika.com, tbsnews.net, bangla.thedailystar.net, bangla.bdnews24.com, lgd.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৭ আগস্ট ১৯৭০, ৫৬ বছর
জন্মস্থানবেতগাড়ি, আটমূল, শিবগঞ্জ, বগুড়া
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাশিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (এসএসসি)শিবগঞ্জ এম.এইচ কলেজ (এইচএসসি)
পেশাব্যবসায়ী (চেয়ারম্যান, রূপসী বিডি গ্রুপ)
পিতামীর মোজাফ্ফর রহমান
মাতামীর রাজেনা বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই দিন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর মেয়াদ শুরু হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এবং এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ এই মন্ত্রণালয়ের আওতায়; প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে এসব দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় তিনি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সূর্যমুখী ও সরিষা চাষ বাড়ানো এবং বন্ধ প্ল্যান্টগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। ১৯ মে সচিবালয়ে তিনি জানান, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে প্রায় এক বছরে পাঁচটি প্রধান নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ৭ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে তিনি নগর জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজ দ্রুত করা এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুটি নতুন প্রকল্প শুরুর অনুরোধ জানান।

সূত্র: lgd.gov.bd, bssnews.net ১, ittefaq.com.bd, bssnews.net ২, unb.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

বগুড়া-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

বগুড়া-২ জাতীয় সংসদের ৩৭ নম্বর আসন, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। প্রায় ৩১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৪২,১৫৫ জন।

শিবগঞ্জের উত্তরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পশ্চিমে জয়পুরহাটের কালাই ও ক্ষেতলাল, দক্ষিণে বগুড়া সদর, কাহালু ও দুপচাঁচিয়া এবং পূর্বে সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলা। করতোয়া, নাগর ও গাংনই নদী এ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪,০০,৪৫৬। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, আলু, ভুট্টা, গম, কলা, হলুদ, আদা ও পানের চাষ হয়, আর কলা, আলু ও সবজি এখান থেকে অন্যত্র যায়। উপজেলায় সাতটি হিমাগার রয়েছে; মোকামতলা, মহাস্থান ও চণ্ডীহারা এলাকার প্রধান হাট।

এ উপজেলাতেই প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের নিদর্শন মহাস্থানগড়, মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ারের (রহ.) মাজার ও ভাসু বিহার। ২০২৬ সালের মে মাসে সরকার শিবগঞ্জ ভাগ করে নতুন মোকামতলা উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেয়; তবে নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণে আসনটি শিবগঞ্জ উপজেলা হিসেবেই বর্ণিত।

১৯৯১ সালে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়ী হন। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি আসনটি পায়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (Shariful Islam Jinnah) নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।

সূত্র: tbsnews.net, en.banglapedia.org, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), bangla.thedailystar.net, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬বগুড়া-২বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৪৩,৯১৫ ভোট
  1. মীর শাহে আলমBNPবিজয়ী১,৪৫,১৩৭৫৯.৫%
  2. Abul Azad Mohammad ShaduzzamBJEI৯৩,৫৪৮৩৮.৪%
  3. Mahmudur Rahman MannaNO৩,৪২৬১.৪%
  4. Md Jamal UddinIAB৯১৩০.৪%
  5. Shariful Islam JinnahJP(ERSHAD)৪৩৪০.২%
  6. Md Selim SarkarGOP২৭৪০.১%
  7. Md Rezaul Karim TaluInd১৮৩০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: বগুড়া-২

আসনের পাতা →
এলাকা

শিবগঞ্জ উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(৩)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১৮টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →