মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোহাম্মদ শামীম কায়সার

মোহাম্মদ শামীম কায়সার

Mohammad Shamim Kaiser

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোহাম্মদ শামীম কায়সার গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (Mohammad Shamim Kaiser Lincoln) গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা একই আসন থেকে দুবার সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন: প্রথমবার ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে, দ্বিতীয়বার ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে।

পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। বাবার মৃত্যুর পর তরুণ বয়সে রাজনীতিতে আসা লিংকন প্রায় দুই দশক পর আবার সংসদে ফিরেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৮০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তাঁর জন্ম। বাবা এম এ মোত্তালিব আকন্দ (M A Mottalib Akand) ছিলেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য; মা আফরোজা আনার। পারিবারিক বাড়ি গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে।

তাঁর শিক্ষাজীবন কেটেছে ঢাকায়। ১৯৯৫ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (North South University) থেকে ২০০৩ সালে বিবিএ এবং ২০০৬ সালে এমবিএ ডিগ্রি নেন। মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর এবং এনআইআইটি (NIIT) থেকে একটি ডিপ্লোমাও করেছেন।

রাজনৈতিক জীবন

রাজনীতি তাঁর পরিবারেই ছিল। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা মোত্তালিব আকন্দ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৯৬,১০৮ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মো. মোজাম্মেল হোসেন প্রধানকে (Md. Mozammel Hossain Pradhan) হারিয়ে আসনটি জিতেছিলেন। ২০০৬ সালের ১১ মার্চ বাবা মারা গেলে গাইবান্ধা-৪ আসন শূন্য হয়। ওই বছরের ৯ মে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন; তখন তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ছিলেন, বয়স ছিল ছাব্বিশ বছর।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১২,৭২০ ভোট পান; আসনটিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগের মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (Monowar Hossain Chowdhury)। পরের দেড় দশকের বেশি সময় বিএনপি বিরোধী রাজনীতিতে ছিল, আর তিনি ছিলেন সংসদের বাইরে।

২০২৬ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসনে ছয়জন প্রার্থী ছিলেন; নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬৮,৩৮৪ জন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি পান ১,৪২,৭৭২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুর রহিম সরকার (Md Abdur Rahim Sarkar) পান ১,৩৯,৭৩৮ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৩,০৩৪ ভোট; ভোট পড়ে প্রায় ৬১.৫ শতাংশ। এ জয়ের মধ্য দিয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আবার বিএনপির হাতে আসে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

নির্বাচনী হলফনামায় তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া রংপুর চিনিকল (Rangpur Sugar Mills) আবার চালু করা, আব্দুল কুদ্দুস সরকার কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করেছেন। রংপুর চিনিকল তাঁর নির্বাচনী এলাকার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত।

রাজনীতির বাইরে তিনি একসময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে (BRAC University) খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

সূত্র: banglatribune.com ১, banglatribune.com ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, archive.thedailystar.net, tbsnews.net, dhakatribune.com, en.prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০, ৪৬ বছর
জন্মস্থানগোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাআইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এসএসসি)ঢাকা কলেজ (এইচএসসি)নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (বিবিএ)
পেশাব্যবসা
পিতাএম এ মোত্তালিব
মাতাআফরোজা আনার
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) তাঁকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান। একই দিন তাঁকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়; মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (Kazi Shah Mofazzal Hossain Kaikobad)।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সব ধর্মের ধর্মীয় বিষয়, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, বিশ্ব ইজতেমা ও ওয়াক্ফ সম্পত্তি দেখাশোনা করে; ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর অধীন। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, আর মন্ত্রণালয় সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করবে। তাঁর নিয়োগে হেফাজতে ইসলাম আপত্তি জানানোর পর ২৯ আগস্ট তিনি ফটিকছড়িতে সংগঠনটির আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে দেখা করে বলেন, যোগাযোগ যত বাড়বে, বিভ্রান্তি তত কাটবে। সেপ্টেম্বরের শেষে দুর্গাপূজার আন্তমন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সভায় তিনি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ উৎসব নিশ্চিত করা, পূজা কমিটিগুলোর অনুদান সুষ্ঠুভাবে বিতরণ এবং পুরোনো বা সম্পাদিত কনটেন্ট দিয়ে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), bssnews.net ১, dhakatribune.com, bangla.bdnews24.com, bssnews.net ২, dailyinqilab.com, newsonair.gov.in। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

গাইবান্ধা-৪

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

গাইবান্ধা-৪ জাতীয় সংসদের ৩২ নম্বর আসন, রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায়। সীমানা অনুযায়ী আসনটি একটিমাত্র উপজেলা, গোবিন্দগঞ্জ নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬৮,৩৮৪ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২,৩১,৬১৬, নারী ২,৩৬,৭৫৮ এবং হিজড়া ১০ জন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৬০ বর্গকিলোমিটার; এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ বরেন্দ্র অঞ্চলের অংশ। উত্তরে ঘোড়াঘাট ও পলাশবাড়ী, দক্ষিণে বগুড়ার সোনাতলা ও শিবগঞ্জ, পূর্বে সাঘাটা এবং পশ্চিমে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ও কালাই উপজেলা। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৫,৪৩,১৪৪। একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটি আয়তন ও ইউনিয়নের সংখ্যায় দেশের বড় উপজেলাগুলোর একটি; এখানে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীরও বসবাস। করতোয়া, বাঙালি ও নলুয়া এখানকার নদী।

অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, ভুট্টা, আখ, গম, আলু ও সরিষা প্রধান ফসল। মহিমাগঞ্জে রয়েছে রংপুর চিনিকল (Rangpur Sugar Mills)। কামদিয়ায় রাজা বিরাটের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, বর্ধনকুঠি জমিদারবাড়ির নিদর্শন এবং মাস্তা মসজিদ এখানকার পুরোনো স্থাপনা। গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২) ও গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৫) উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; মহিমাগঞ্জ ও বিরাটের হাট পরিচিত।

১৯৯১ সালে আসনটিতে জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান চৌধুরী জয়ী হন; ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এ বিএনপির আবদুল মান্নান মণ্ডল এবং জুন ১৯৯৬-এ আবার লুৎফর রহমান চৌধুরী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচন ও ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে বিএনপি জয় পায়। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মো. আবুল কালাম আজাদ সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org, citypopulation.de। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬গাইবান্ধা-৪বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ১টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৮২,৫১০ ভোট
  1. মোহাম্মদ শামীম কায়সারBNPবিজয়ী১,৪২,৭৭২৫০.৫%
  2. Md Abdur Rahim SarkarBJEI১,৩৯,৭৩৮৪৯.৫%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উৎসে ৪ জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা নেই। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: গাইবান্ধা-৪

আসনের পাতা →
এলাকা

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →