মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ শফিকুল হক মিলন

মোঃ শফিকুল হক মিলন

Mohammad Shofiqul Haque Milon

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ শফিকুল হক মিলন রাজশাহী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন (Mohammad Shofiqul Haque Milon) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি, Bangladesh Nationalist Party) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

পেশায় আইনজীবী মিলন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক। নিজের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী তিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজশাহীতে আইন পেশায় যুক্ত।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

শফিকুল হক মিলনের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বাবা মোঃ হিসুম উদ্দিন এবং মা মাবিয়া খাতুন।

রাজনৈতিক জীবন

মিলনের রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ কেটেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে। তিনি দলের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন; ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর মহানগর বিএনপির কাউন্সিলে মিজানুর রহমান মিনু (Mizanur Rahman Minu) সভাপতি এবং তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদকের পদ পান।

বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে, সেই সময় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাঁকে রাজশাহী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করে। সেবার আসনটিতে আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দিন (Ayeen Uddin) জয়ী হন। প্রচারের শেষ দিকে মিলন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর পোস্টার-ব্যানার নষ্ট করায় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলে রাজশাহী-৩ আসনে আবারও তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রচারে তিনি দলের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে শফিকুল হক মিলন পান ১,৭৬,৩১৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ (Md. Abul Kalam Azad) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,৩৭,৯২৭ ভোট; ব্যবধান ৩৮,৩৯১ ভোট। জাতীয় পার্টির মো. আফজাল হোসেন পান ২,৩৯০ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,২৩,৭৩৮ জন।

ফল ঘোষণার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে দুজনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়; আজাদ ফুল দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং দুজন মিষ্টি বিনিময় করেন। সেখানে মিলন বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব’; রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে তিনি সবার মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চান। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নির্দেশনায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), advshofiqulhaquemilon.com, bdnews24.com, dhakatribune.com, tbsnews.net, khoborsangjog.com, en.prothomalo.com, bssnews.net ১, gramerkagoj.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bssnews.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, dailyinqilab.com, জাতীয় সংসদ, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮, ৫৮ বছর
জন্মস্থানরাজশাহী
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাআইনজীবী*
পিতামোঃ হিসুম উদ্দিন
মাতামাবিয়া খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সভাপতি।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের কাজ, উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দের ব্যবহার পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার কাজে তিনি সংসদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি সংসদে পবা ও মোহনপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন।

২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট তাঁর সভাপতিত্বে কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ছয় মাসের কাজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭,৮৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ আগামী বছর শুরু হবে। কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা ও বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের তাগিদ দেয়। এর আগে ৪ আগস্ট মোহনপুরের বাকশিমইলে জুলাই শহীদদের স্মরণসভায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি পবায় প্রশিক্ষণে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের পরিবারকে সমবেদনা জানান।

সূত্র: bssnews.net, prothomalo.com, dailyinqilab.com ১, dailyinqilab.com ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

রাজশাহী-৩

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

রাজশাহী-৩ জাতীয় সংসদের ৫৪ নম্বর আসন। রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলার পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৫০৩ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,২৩,৭৩৮ জন।

পবা উপজেলা (আয়তন ৩৪০.০৩ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ৩,৬৮,৮৮৯) রাজশাহী নগরের কাছের জনপদ; আটটি ইউনিয়ন এবং কাটাখালী ও নওহাটা পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার প্রধান নদী পদ্মা ও শিব, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত। জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি; ধান, গম, পাট, আলু, পেঁয়াজ, সবজি ও পান প্রধান ফসল, আর আম, লিচু ও পেঁপে বাইরে যায়। নওহাটায় রয়েছে শাহ মখদুম বিমানবন্দর (Shah Makhdum Airport)। নওহাটার বাগধানী মসজিদ (১৮৩০) ও মিয়াপুর মসজিদ উল্লেখযোগ্য প্রাচীন স্থাপনা।

মোহনপুর উপজেলা (আয়তন ১৬২.৬৫ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১,৮৬,৯০৪) জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে; কেশরহাট পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। শিব ও বারনই এখানকার নদী। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম ও সরিষার পাশাপাশি এখানকার পান দেশজুড়ে পরিচিত। সাঁকোয়া বাকশৈল কামিল মাদ্রাসা ও মোহনপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৮) উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান, কেশরহাট প্রধান বাজার।

২০০৮ সালের আগে আসনটি মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল; ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণে বাগমারা আলাদা হয়ে রাজশাহী-৪ আসন হয় এবং পবা এ আসনে যুক্ত হয়। পুরোনো সীমানায় ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির সরদার আমজাদ হোসেন (Sardar Amjad Hossain) জেতেন, আর ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন ও ২০০১ সালে বিএনপি জয়ী হয়। বর্তমান সীমানায় ২০০৮ সালে মেরাজ উদ্দিন মোল্লা (Meraj Uddin Mollah), ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আয়েন উদ্দিন (Ayeen Uddin) এবং ২০২৪ সালে আসাদুজ্জামান আসাদ (Asaduzzaman Asad) আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, bangla.bdnews24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৬, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬রাজশাহী-৩বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,১৮,৯৬৬ ভোট
  1. মোঃ শফিকুল হক মিলনBNPবিজয়ী১,৭৬,৩১৮৫৫.৩%
  2. Md. Abul Kalam AzadBJEI১,৩৭,৯২৭৪৩.২%
  3. Md. Afzal HossainJP(ERSHAD)২,৩৯০০.৭%
  4. Mst.Habiba BegumInd১,১৭৭০.৪%
  5. Md. Fazlur RahmanIAB১,১৫৪০.৪%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: রাজশাহী-৩

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)পবা এবং(খ) মোহনপুর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →