
মোরশেদ মিলটন
Morshed Milton
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোরশেদ মিলটন বগুড়া-৭ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি, গাবতলী উপজেলা। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোরশেদ মিলটন (Morshed Milton) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি, Bangladesh Nationalist Party) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদে আসেন।
ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত এই নেতা প্রায় দুই দশক স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি ছিলেন। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) নির্বাচনী এলাকা হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত আসনটিতে তিনি এখন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) জন্মস্থানও এই এলাকায়, গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামে।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী মোরশেদ মিলটনের জন্ম ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি। তাঁর বাবা ডা. আব্দুর রউফ এবং মা জাহানারা খানম।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবনে তিনি বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। দলের স্থানীয় নেতাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে তিনি গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে তিনি গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পান। বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করছেন।
স্থানীয় সরকারে তিনি তিনবার গাবতলী পৌরসভার মেয়র এবং একবার গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন; সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৭০টি মামলা হয়েছিল।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে কারাদণ্ডের কারণে খালেদা জিয়া প্রার্থী হতে না পারায় বিএনপি বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ মিলটনকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করে। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার আগেই মনোনয়ন দাখিলের কারণ দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ২ ডিসেম্বর তা বাতিল করলেও নির্বাচন কমিশনে আপিলে তা বৈধ হয়; তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতা টেকেনি। ফলে ওই নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী ছিল না এবং দল স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে (Rezaul Karim Bablu) সমর্থন দেয়।
২০২৬ নির্বাচন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করে এবং দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে (Helaluzzaman Talukder Lalu) সঙ্গে নিয়ে তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তিনিই এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হন।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২,৬৪,২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মো. গোলাম রব্বানী (Md Golam Rabbani) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,১৬,৬৬৫ ভোট। জয়ের ব্যবধান ১,৪৭,৫৪৭ ভোট। বগুড়া রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী আসনটিতে ভোট পড়ে ৭২.৪৯ শতাংশ। একই নির্বাচনে বগুড়া জেলার সাতটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bd-pratidin.com, ittefaq.com.bd, prothomalo.com, tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, bssnews.net, tbsnews.net ৩, dailynayadiganta.com, dhakatimes24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ গঠিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।
সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া এবং সংসদে গাবতলী ও শাজাহানপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর মূল দায়িত্ব। বিজয়ের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) গাবতলীর বাগবাড়ী এলাকার নশিপুরে চৌকিদহ খালের খনন কাজ উদ্বোধন করেন; স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ৬ আগস্ট গাবতলীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাপ্রধানদের নিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। ৭ অক্টোবর মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়ার (Md. Abul Khayer Bhuiyan) সভাপতিত্বে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি অংশ নেন; সেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং নারী ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সুপারিশ করা হয়।
সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, bograsangbad.com, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
বগুড়া-৭ জাতীয় সংসদের ৪২ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৪৬১ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,৩৮,০৯২ জন।
গাবতলী (Gabtali) উপজেলা বগুড়া সদরের সীমানাঘেঁষা; এর আয়তন ২৩৯.৬১ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩,৪৪,৯০২। উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। বোরো ধান, আলু, সরিষা ও পাট এখানকার প্রধান ফসল; বাঙালি ও ইছামতি নদী উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। মহিষাবানে ইছামতির তীরে মাঘের শেষ বুধবারকে ঘিরে বসে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) জন্মস্থান এই উপজেলার বাগবাড়ী গ্রাম। গাবতলী ও সুখানপুকুরে রেলস্টেশন আছে, আর গাবতলী সরকারি কলেজ উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজ।
শাজাহানপুর (Shajahanpur) ২০০৩ সালে গঠিত জেলার নবীনতম উপজেলা, বগুড়া সদরের দক্ষিণে; আয়তন ২২১.৬৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৩৩,৬৭৬। এখানে ৯টি ইউনিয়ন এবং বগুড়া পৌরসভার একাংশ রয়েছে; মাঝিড়া ও জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাস এই উপজেলায়। করতোয়া নদী উপজেলার ভেতর দিয়ে দক্ষিণে বয়ে গেছে। কৃষি প্রধান জীবিকা; ধান, আলু, ভুট্টা ও সবজি প্রধান ফসল, আর আড়িয়া পালপাড়ার মৃৎশিল্প, খরনা বাজার ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট গোহাইল জামে মসজিদ পরিচিত।
১৯৯১, ১৯৯৬ (জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) এখান থেকে জয়ী হয়ে আসনটি ছেড়ে দিলে প্রতিবার উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জেতেন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি, ২০১৮ সালে বিএনপি-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ আসনটি পায়; ২০২৬ সালে আবার বিএনপি জয়ী হয়। শাজাহানপুর উপজেলা গঠন এবং ২০০৮ সালের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে আগের নির্বাচনী এলাকা বর্তমানের সঙ্গে হুবহু এক নয়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, bangla.dhakatribune.com, bd-pratidin.com, bssnews.net, en.banglapedia.org। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোরশেদ মিলটন
BNPবিজয়ী২,৬৪,২১২৬৮.৯% - Md Golam Rabbani
BJEI১,১৬,৬৬৫৩০.৪%
- Md Shafiqul Islam
IAB২,০৬১০.৫% - Md Ansar AliBangladesh Muslim League৫৩৬০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)
আসন: বগুড়া-৭
আসনের পাতা →(ক)গাবতলী এবং(খ) শাজাহানপুর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…