মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
নিতাই রায় চৌধুরী

নিতাই রায় চৌধুরী

Nitai Roy Chowdhury

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

নিতাই রায় চৌধুরী (Nitai Roy Chowdhury) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এবং মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এই নেতা পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

১৯৮৮ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য এবং ১৯৯০ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হওয়ার সাড়ে তিন দশক পর তিনি ২০২৬ সালে আবার সংসদে ও মন্ত্রিসভায় ফিরেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

নিতাই রায় চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৯ সালের ৭ জানুয়ারি, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে। বাবা কালীপদ রায় চৌধুরী, মা ছায়া রানী রায় চৌধুরী।

আলোকদিয়া পুখুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Dhaka) উচ্চশিক্ষা নেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, পরে আইন পেশায় যুক্ত হন।

তাঁর স্ত্রী প্রয়াত ঝুমা রায় চৌধুরী; তাঁদের দুই পুত্র ও তিন কন্যা। কন্যা নিপুণ রায় চৌধুরী (Nipun Roy Chowdhury) ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (Goyeshwar Chandra Roy) তাঁর বেয়াই।

রাজনৈতিক জীবন

মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (Hussain Muhammad Ershad) সরকারে ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি মাগুরা-২ আসনে পরাজিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন এবং সে বছর মাগুরা-১ আসনে দলের প্রার্থী হন। ২০০৮ সালে মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের বীরেন শিকদারের (Biren Sikder) কাছে ৫,৪৬৭ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান; ২০১৮ সালেও একই প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হন। দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির সময়জুড়ে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থেকেছেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১,৪৭,৮৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ পান ১,১৭,০১৮ ভোট; ব্যবধান ৩০,৮৭৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোস্তফা কামাল পান ১৬,২২৩ ভোট। প্রচারের সময় কন্যা নিপুণ রায় চৌধুরী মাগুরায় বাবার পক্ষে মাঠে ছিলেন।

ফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, আসনের হিন্দু ভোটাররা ব্যাপকভাবে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন এবং বিএনপি ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত হতে দেবে না।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে বিরোধী রাজনীতির বছরগুলোতে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের মামলায় আদালতে লড়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে কেরানীগঞ্জের এক সংঘর্ষের মামলায় নিপুণ রায় চৌধুরীর আগাম জামিনের শুনানিতে তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী ছিলেন, আর একই বছরের আগস্টে আপিল বিভাগে ঢাকার ধোলাইখাল সংঘর্ষের মামলার শুনানিতেও তাঁর পক্ষে দাঁড়ান।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tritiyomatra.com, জাতীয় সংসদ, thedailystar.net, archive.thedailystar.net, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net ১, ittefaq.com.bd ১, ittefaq.com.bd ২, bssnews.net, tbsnews.net ২, dhakatribune.com, tbsnews.net ৩। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৭ জানুয়ারি ১৯৪৯, ৭৭ বছর
জন্মস্থানহাটবাড়িয়া, মহম্মদপুর, মাগুরা
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়*
পেশাআইনজীবী
পিতাকালীপদ রায় চৌধুরী
মাতাছায়া রানী রায় চৌধুরী
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রত্নস্থল ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সরকারের নীতি ও কর্মসূচির দায়িত্বে আছেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি মাগুরা সার্কিট হাউসে তিনি জানান, প্রায় ৮০টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা হবে। ১৪ মে জাতীয় জাদুঘরে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য কল্যাণ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন। ১৪ জুন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলায় ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধনী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুষ্ঠানে তিনি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগের কথা জানান।

সূত্র: en.prothomalo.com ১, dhakatribune.com, observerbd.com, bssnews.net, tbsnews.net, en.prothomalo.com ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

মাগুরা-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

মাগুরা-২ (Magura-2) জাতীয় সংসদের ৯২ নম্বর আসন, খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় অবস্থিত। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত মহম্মদপুর উপজেলা, শালিখা উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর, গোপালগ্রাম, কুচিয়ামোড়া ও বেরইল পলিতা ইউনিয়ন নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,১৬,৬৩৪ জন।

মহম্মদপুর উপজেলার আয়তন প্রায় ২৩৩.৭০ বর্গকিলোমিটার; ফরিদপুর ও নড়াইল জেলার সীমানাঘেঁষা এ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে গড়াই-মধুমতী ও নবগঙ্গা নদী। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ২,৪২,৮০৮। কৃষি প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ ও রসুন প্রধান ফসল, মৎস্যচাষও গুরুত্বপূর্ণ। মোগল আমলে রাজা সীতারাম রায় মহম্মদপুরকে রাজধানী করেছিলেন; তাঁর রাজবাড়ি, দশভুজা কালীমন্দির (১৬৯৯) ও লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির (১৭০৪) এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনা।

শালিখা উপজেলার আয়তন প্রায় ২২৮.৬৫ বর্গকিলোমিটার, সদর আড়পাড়া; ফটকি, চিত্রা ও নবগঙ্গা এর প্রধান নদী। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৭৯,৬৬৬। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, ডাল, তেলবীজ ও আখ উৎপন্ন হয়। আড়পাড়া, সীমাখালী ও বুনাগাতী এখানকার পরিচিত হাট; তালখড়ির লোকনাথ আশ্রম এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উল্লেখযোগ্য।

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান আসনটিতে জয়ী হন; ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে জেতেন বিএনপির কাজী কামাল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের বীরেন শিকদার, ২০০১ সালে আবার কাজী কামাল এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা চারবার বীরেন শিকদার নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরীর জয়ে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে। এসব ফলাফল সংশ্লিষ্ট সময়ের সীমানা অনুযায়ী।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ২, bbs.portal.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬মাগুরা-২বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ১টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৮৪,০৮৪ ভোট
  1. নিতাই রায় চৌধুরীBNPবিজয়ী১,৪৭,৮৯৬৫২.১%
  2. Md Mushtarshed BillahBJEI১,১৭,০১৮৪১.২%
  3. Mostofa KamalIAB১৬,২২৩৫.৭%
  4. Moshiyar RahmanJP(ERSHAD)২,৯৪৭১.০%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: মাগুরা-২

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)মহম্মদপুর উপজেলা(খ)শালিখা উপজেলা এবং(গ) মাগুরা সদর উপজেলার নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ : (১)শত্রুজিৎপুর,(২) গোপালগ্রাম, (৩)কুচিয়ামোড়া,(৪) বেরইল পলিতা ইউনিয়ন

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →