মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
রফিকুল ইসলাম জামাল

রফিকুল ইসলাম জামাল

Rafiqul Islam Jamal

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

রফিকুল ইসলাম জামাল ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম জামাল (Rafiqul Islam Jamal) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি, Bangladesh Nationalist Party) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে আসেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং সংসদে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। পেশায় ব্যবসায়ী এই রাজনীতিক ২০০৮ সাল থেকে ঝালকাঠিতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়।

শৈশব ও পরিবার

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী রফিকুল ইসলাম জামাল ১৯৬৪ সালের ১০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল আজিজ মিয়া, মাতা শেফালী বেগম।

রাজনৈতিক জীবন

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে ঝালকাঠি-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেয়; সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়জুড়ে তিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন।

দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর (Shahjahan Omar) বিএনপি ছাড়লে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি শাহজাহান ওমরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে; জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে জামাল সে সময় এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বক্তব্য দেন।

২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি তাঁকে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বদরুজ্জামান খান খসরুর মৃত্যুর পর থেকে পদটি শূন্য ছিল। দলীয় সূত্রের বরাতে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নিয়োগের একটি লক্ষ্য ছিল ঝালকাঠি-১ আসনে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা; প্রতিবেদনে ঝালকাঠি জেলা বিএনপিকে নতুন করে সংগঠিত করায় তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ঝালকাঠি-১ আসনে প্রার্থী হন। প্রচারণায় তিনি বিষখালী নদীর ভাঙন ঠেকাতে আমুয়া বন্দর পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন। নেতাকর্মীদের তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন, ১৯৯১ সালের মতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা জানান এবং একই দিনের গণভোটে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে বলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী তিনি ৬২,০১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) ফয়জুল হক (Faizul Haq) পান ৫৫,১২০ ভোট; ব্যবধান ৬,৮৯০ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম পান ৭,৭৪৪ ভোট। আসনের ২,২৮,৪৩০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১,৩১,৫৮৯ জন, অর্থাৎ ৫৭.৬১ শতাংশ; বৈধ ভোট ছিল ১,২৯,০০০।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, bangla.bdnews24.com, banglatribune.com, tbsnews.net, bssnews.net, 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, ittefaq.com.bd, dhakatimes24.com, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১০ জানুয়ারি ১৯৬৪, ৬২ বছর
জন্মস্থানরাজাপুর উপজেলা, ঝালকাঠি
লিঙ্গপুরুষ
পেশাব্যাবসা
পিতাআব্দুল আজিজ মিয়া
মাতাশেফালী বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য। একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠিত হলে তিনি এর সভাপতি হন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সংসদের পক্ষে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোর কাজ পর্যালোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন; ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (Kazi Shah Mofazzal Hossain Kaikobad) এই কমিটির সদস্য।

নির্বাচনের পরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাঁঠালিয়ায় জামায়াতের কার্যালয়, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করার কথা বলেন; জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান। ২২ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সাধারণ আলোচনায় তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলেন। ৬ আগস্ট নিজের ফেসবুক পেজে তিনি ঝালকাঠির বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনৈতিক সুবিধা নেওয়া বন্ধ করে দলের প্রতি আনুগত্য ধরে রাখার আহ্বান জানান। অক্টোবরে তাঁর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক হয়।

সূত্র: ittefaq.com.bd, dhakatimes24.com, ourislam24.com, barta24.com, bangla.bdnews24.com, prothomalo.com, jugantor.com ১, jugantor.com ২, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ঝালকাঠি-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ঝালকাঠি-১ জাতীয় সংসদের ১২৫ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ২,২৮,৪৩০ জন, ভোটকেন্দ্র ৯০টি।

রাজাপুর উপজেলা ঝালকাঠি সদরের দক্ষিণে; এতে গালুয়া, বড়ইয়া, মঠবাড়ী, রাজাপুর, সাতুরিয়া ও শুক্তাগড় ইউনিয়ন রয়েছে। আয়তন প্রায় ১৬৪.৬ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৪৪,৬৮১। গাজালিয়া, বিষখালী ও জাঙ্গালিয়া এখানকার নদী। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, ডাল ও পান প্রধান ফসল। সাতুরিয়া গ্রামে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের (A. K. Fazlul Huq) জন্ম। মুঘল আমলের সুরিচোরা জামে মসজিদ, রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৬) ও রাজাপুর ফাজিল মাদ্রাসা (১৯৪০) উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা রাজাপুর থানা দখল করলে উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়।

কাঁঠালিয়া উপজেলা আসনের দক্ষিণাংশে, বিষখালী নদীর তীরে; এতে আওড়াবুনিয়া, আমুয়া, কাঁঠালিয়া, চেঁচরীরামপুর, পাটিখালঘাটা ও শৌলজালিয়া ইউনিয়ন রয়েছে। আয়তন প্রায় ১৫২ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,১১,৬৬৩। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, পান, সুপারি ও নারকেল উৎপন্ন হয়, বিষখালী থেকে ইলিশসহ নানা মাছ দেশের অন্য অঞ্চলে যায়। সরকারি তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কলেজ, আমুয়ার হাট ও আমুয়া ফেরিঘাট পরিচিত। ১৯৭১ সালে আমুয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তীব্র যুদ্ধ হয়।

১৯৮৪ সালে বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ ভেঙে জেলা গঠনের সময় আসনটি তৈরি হয়। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে বিএনপির শাহজাহান ওমর এবং ১৯৯৬ সালের জুনে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এখানে জয়ী হন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের বজলুল হক হারুন এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শাহজাহান ওমর নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে বিএনপি আসনটি ফিরে পায়।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, 103.183.38.66, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, prothomalo.com, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ঝালকাঠি-১বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬১,২৯,০০০ ভোট, ভোট পড়েছে ৫৭.৬১%
  1. রফিকুল ইসলাম জামালBNPবিজয়ী৬২,০১০৪৮.১%
  2. Faizul HaqBJEI৫৫,১২০৪২.৭%
  3. IbrahimIAB৭,৭৪৪৬.০%
  4. Md Rubel HowladerJatiya Party (JP)২,৫৬২২.০%
  5. M Moin Alam FiroziInd৫৯৩০.৫%
  6. Md Sabbir AhmedInd৩৪৫০.৩%
  7. Md Kamruzzaman KhanJP(ERSHAD)৩২১০.২%
  8. Md Shahadat HossainGOP১৩২০.১%
  9. Md Sohrab HossainJSD১১০০.১%
  10. Md Jasim Uddin TalukdarJanotar Dol৬৩০.০%
উৎস: নির্বাচন কমিশনের ফলাফল শিট। রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল শিট (বার্তা প্রেরণ শিট)। আগে এখানে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাব দেখানো হচ্ছিল, যা এই শিটের সঙ্গে মেলেনি।ফলাফল শিট

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল১৭ মে ২০২৬, অনাপত্তিপত্র

আসন: ঝালকাঠি-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)রাজাপুর এবং (খ)কাঁঠালিয়া উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →