মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
সালাহউদ্দিন আহমদ

সালাহউদ্দিন আহমদ

Salahuddin Ahmed

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়মোট ৪ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য। আইনজীবী ও প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা এই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের বর্তমান পেকুয়া উপজেলার সিকদারপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা মৌলভী সাঈদুল হক, মা বেগম আয়েশা হক। পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি নেন। পরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত হন। তাঁর স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ (Hasina Ahmed) কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য; তাঁদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।

রাজনৈতিক জীবন

ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন; আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৮৮ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন এবং ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) সহকারী একান্ত সচিব হন। ১৯৯৬ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন।

১৯৯৬ সালে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন, পরে দুই মেয়াদে জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তিনবার কক্সবাজার-১ আসনে জয়ী হন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ২০০৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন; সে সময় ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী আসনটিতে জয়ী হন।

২০১০ সালে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা থেকে তিনি নিখোঁজ হন; ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান মেলে। সেখানে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৮ সালে আদালত তাঁকে খালাস দেয় এবং ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রেখে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়। প্রায় সাড়ে নয় বছর পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ২,২২,০১৯ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল্লাহ আল ফারুক (Abdullah Al Farukh) পান ১,২৯,৭২৮ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৯২,২৯১ ভোট। এটি এই আসন থেকে তাঁর চতুর্থ জয়।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় তিনি কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

দেশে ফেরার পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে তিনি বিএনপির পক্ষে অংশ নেন। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ তাঁর নেতৃত্বে দলের প্রতিনিধিদল কমিশনে সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ে লিখিত সংস্কার প্রস্তাব জমা দেয়।

সূত্র: bssnews.net, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), observerbd.com, unb.com.bd, en.prothomalo.com, thedailystar.net ১, thedailystar.net ২, dhakatribune.com, en.banglapedia.org। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩০ জুন ১৯৬২, ৬৪ বছর
জন্মস্থানসিকদারপাড়া, পেকুয়া, কক্সবাজার, পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশ*
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাশিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়, পেকুয়া (এসএসসি, ১৯৭৭)চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ (এইচএসসি, ১৯৭৯)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (এলএলবি সম্মান ১৯৮৪, এলএলএম ১৯৮৬)
পেশাআইনজীবী; সাবেক সরকারি কর্মকর্তা (বিসিএস প্রশাসন)
পিতামৌলভী সাঈদুল হক
মাতাবেগম আয়েশা হক
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ৪ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পাশাপাশি তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে; পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার তত্ত্বাবধান এই মন্ত্রণালয়ের কাজ।

১৩ জুলাই ২০২৬ তাঁর উত্থাপিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল সংসদে পাস হয়; এতে অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হবে, যাতে চালকদের জীবিকা রক্ষা পায়। ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে তিনি অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম বদলে স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ) করার ঘোষণা দেন।

সূত্র: bangla.thedailystar.net ১, bangla.thedailystar.net ২, bangla.thedailystar.net ৩। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

কক্সবাজার-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

কক্সবাজার-১ জাতীয় সংসদের ২৯৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত; দুই উপজেলার মিলিত আয়তন প্রায় ৬৪৩ বর্গকিলোমিটার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (The Business Standard) নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,৪০,৪৯০ জন।

চকরিয়া উপজেলা জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে, মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায়। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫,৭১,২৮০। কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা; চিংড়ি, লবণ ও তামাক উল্লেখযোগ্য পণ্য। ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ও মানিকপুরের সাতগম্বুজ মসজিদ পরিচিত স্থান। ২০২৬ সালে চকরিয়ার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে; নির্বাচন কমিশনের সীমানা-বিবরণীতে এলাকাটি চকরিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা ২০০২ সালে চকরিয়ার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়। প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটারের এই উপজেলা জেলার সবচেয়ে ছোট; এর পশ্চিমে কুতুবদিয়া চ্যানেল। জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী জনসংখ্যা ২,১৪,৩৫৭। কৃষি, মাছ ধরা, লবণ উৎপাদন ও চিংড়ি এখানকার অর্থনীতির ভিত্তি; রাজাখালী আলেক শাহ বাজার এবং ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশন উল্লেখযোগ্য।

আসনটি ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন ও ২০০১ সালে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ২০০৮ সালে বিএনপির হাসিনা আহমেদ জয়ী হন; ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি আসনটি পায়, আর ২০২৬ সালে আবার বিএনপি জয়ী হয়। পেকুয়া উপজেলা গঠন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে আগের নির্বাচনগুলোর প্রশাসনিক বিন্যাস বর্তমানের সঙ্গে হুবহু এক নয়।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, citypopulation.de। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬কক্সবাজার-১বর্তমান মেয়াদBNP
অষ্টম সংসদ, ২০০১কক্সবাজার-১COX'SBAZAR-1BNP
সপ্তম সংসদ, ১৯৯৬আসন উল্লেখ নেইBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৩টি মেয়াদের মধ্যে ২টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,৫৬,২৭৫ ভোট
  1. সালাহউদ্দিন আহমদBNPবিজয়ী২,২২,০১৯৬২.৩%
  2. Abdullah Al FarukhBJEI১,২৯,৭২৮৩৬.৪%
  3. Sarwar Alam KutubiIAB৪,৫২৮১.৩%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: কক্সবাজার-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক) চকরিয়া উপজেলা এবং (খ)পেকুয়া উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(৫)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১৫টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →