মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

Sardar Md. Sakhawat Husain

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়মোট ৪ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (Sardar Md. Sakhawat Husain), যিনি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল নামে বেশি পরিচিত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী।

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বকুল এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন: ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৫১ সালের ৩০ আগস্ট নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর গ্রামের সরদার পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা সরদার আছমত আলী।

অর্থনীতিতে তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী; নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী ইটের ব্যবসা তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস।

রাজনৈতিক জীবন

দলে তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৭১,৩৫০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে (Nurul Majid Mahmud Humayun) ২৪,০৪১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এর ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন; ১৯৯১ সালের মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। জুন ১৯৯৬-এর সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নূরউদ্দীন খানের (Nuruddin Khan) কাছে তিনি মাত্র ১,১০৩ ভোটে হেরে যান। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ১,০২,৭১৪ ভোট পেয়ে নূরউদ্দীন খানকে ১০,১৫০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি আসনটি পুনরুদ্ধার করেন এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন।

রাজনৈতিক কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ‘ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা’ কর্মসূচির আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) গুলশানের বাসভবনে প্রবেশের সময় তাঁকে আটক করা হয়।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৬৩,৩৯২ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (Md. Jahangir Alam) পান ৭৮,৭৪৪ ভোট। ৮৪,৬৪৮ ভোটের ব্যবধানে জিতে তিনি চতুর্থবার সংসদে আসেন, আর ২০০১ সালের পর প্রথমবার আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন; বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, thedailystar.net, tbsnews.net, en.prothomalo.com, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩০ আগস্ট ১৯৫১, ৭৫ বছর
জন্মস্থানহাফিজপুর, চালাকচর ইউনিয়ন, মনোহরদী উপজেলা, নরসিংদী জেলা*
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাচালাকচর উচ্চ বিদ্যালয়নরসিংদী সরকারি কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পিতাসরদার আছমত আলী
মাতাবেগম সালেহা খাতুন
মুক্তিযোদ্ধাহ্যাঁ
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ৪ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৬ সালের আগস্টে মন্ত্রিসভায় রদবদলের পরও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা এবং চিকিৎসা শিক্ষার নীতি নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নিজ গ্রাম হাফিজপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে; নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ ও দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ২০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিনি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুর জন্য দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ১৬ আগস্ট ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তিনি জানান, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ধাপে ধাপে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মা ও শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড থাকবে।

সূত্র: bssnews.net, dhakatribune.com, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), banglatv.tv। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

নরসিংদী-৪

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

নরসিংদী-৪ (Narsingdi-4) জাতীয় সংসদের ২০২ নম্বর আসন। ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার মনোহরদী ও বেলাব উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,২৮,৯৫৪ জন।

মনোহরদী উপজেলা জেলার উত্তরাংশে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে; এর উত্তরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী এবং পশ্চিমে গাজীপুরের কাপাসিয়া। আয়তন ১৯৩.৮৭ বর্গকিলোমিটার, একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৯৮,৬০৯। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, পান, রসুন ও সবজি প্রধান ফসল, আর হাতিরদিয়া, মনোহরদী ও চালাকচর হাট এলাকার পরিচিত বাজার। খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২) ও মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৮) এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১৯৬৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর হরতালে হাতিরদিয়া বাজারে মিছিলে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন।

বেলাব উপজেলা মনোহরদীর পূর্বে; ১৯৮২ সালে মনোহরদী ও রায়পুরা থানার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে এটি গঠিত হয়। আয়তন প্রায় ১১৮ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন আটটি; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,১৩,৬০২। ধান, পাট, রসুন, হলুদ ও চীনাবাদাম এখানকার প্রধান ফসল। ওয়ারী ও বটেশ্বর গ্রামে রয়েছে ওয়ারী-বটেশ্বর (Wari-Bateshwar) প্রত্নস্থল, যেখানে খ্রিস্টপূর্ব যুগের একটি দুর্গবেষ্টিত নগরবসতি, পাকা রাস্তা ও ছাপাঙ্কিত মুদ্রা পাওয়া গেছে। শাহ ইরানীর মাজার ও মহারানীর দিঘিও এ উপজেলায়।

১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আসনটিতে বিএনপির সরদার সাখাওয়াত হোসেন জয়ী হন; জুন ১৯৯৬-এ জেতেন আওয়ামী লীগের নূরউদ্দীন খান। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জয়ী হন; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে। বিভিন্ন সময়ে দেশের আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারিত হয়েছে, তাই শুরুর দিকের নির্বাচনগুলোর এলাকা বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু না-ও মিলতে পারে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬নরসিংদী-৪বর্তমান মেয়াদBNP
অষ্টম সংসদ, ২০০১নরসিংদী-৪NARSINGDI-4BNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৩টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৫৪,০৩৫ ভোট
  1. সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনBNPবিজয়ী১,৬৩,৩৯২৬৪.৩%
  2. Md. Jahangir AlamBJEI৭৮,৭৪৪৩১.০%
  3. Md. SaifullahIAB৭,০৭৯২.৮%
  4. Muhammad Milan MiaIBB১,৭২৮০.৭%
  5. Md. Kamal UddinJP(ERSHAD)১,১৭২০.৫%
  6. Kazi Sajjad ZahirCPB৮৩৯০.৩%
  7. Mohammad Nasir UddinBKM৪৬৪০.২%
  8. Abu Darda Md. MajJanotar Dol৪৫৪০.২%
  9. Kazi Shariful IslamBangladesh Congress১৬৩০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উৎসে ১ জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা নেই। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজি) বিজয়ীর ভোট ১,৬১,৯১২।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: নরসিংদী-৪

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)মনোহরদী এবং(খ) বেলাব উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →