
সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ
Sarder Sharfuddin Ahmed
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ বরিশাল-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু (Sardar Sarfuddin Ahmed Santu) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য ১৯৯৬ সাল থেকে এ আসনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; ২০২৬ সালে প্রথমবার সংসদে এসেছেন।
পেশায় ব্যবসায়ী সান্টু নিজ এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৪৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। বাবা আলহাজ্ব এ মজিদ মিয়া, মা আলহাজ্ব মালেকা বেগম। তাঁর বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নে। তিনি বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজে (Government Brajamohan College) পড়াশোনা করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৯৬ সালের জুনের সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হন; ৮৭,৯৭৬ ভোট পেলেও আওয়ামী লীগের মো. মনিরুল ইসলামের (Manirul Islam) কাছে ১২,০২৬ ভোটে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন; সেবার আসনটিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগের মো. শাহে আলম (Shah-e-Alam)।
২০১৮ সালের পর একটি মামলায় আসামি হওয়ায় তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। এরপর তিনি দলের সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় হন। ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বরিশাল জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উজিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) ২৩৭ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন; তাতে বরিশাল-২ আসনে তাঁর নাম ছিল। ২৮ ডিসেম্বর তিনি বানারীপাড়ায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪১,৬২২ ভোট পান, যা প্রদত্ত বৈধ ভোটের প্রায় ৬২ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল মান্নান (Abdul Mannan); জয়ের ব্যবধান ছিল ৬০ হাজারের বেশি ভোট। এ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের সবকটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর তিনি এ বিজয় এলাকার সাধারণ ভোটারদের উৎসর্গ করেন এবং সহিংসতা, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে একটি উন্নত ও নিরাপদ এলাকা গড়ার অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর গুঠিয়ায় প্রায় ১৪ একর জমিতে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয়; ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করা হয়। ২০টি গম্বুজ, ৫৮ মিটার উঁচু মিনার, তিনটি লেক, বড় ঈদগাহ মাঠ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কবরস্থান নিয়ে গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্স ‘গুঠিয়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এর বাইরে এলাকায় শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ানোর জন্যও তিনি এলাকায় পরিচিত।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, janobani.com, samakal.com, barishalcrimenews.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২, prothomalo.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, dhakatribune.com, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য। সংসদে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকির জন্য সংসদে গঠিত স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিল ও নীতি পর্যালোচনা করে; ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদ অধিবেশনে এম নাসের রহমানকে (M Naser Rahman) সভাপতি করে দশ সদস্যের এ কমিটি গঠিত হয়, যার একজন সদস্য তিনি। নিজ এলাকায় ২৪ এপ্রিল তিনি গুঠিয়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার খাল পুনঃখননকাজ কোদাল হাতে উদ্বোধন করেন; প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে এতে জলাবদ্ধতা কমবে ও চাষাবাদে সুবিধা হবে। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি সানুহারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকার সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কের ৮ কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। ১৮ অক্টোবর দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব, এবং দলীয় কর্মীদের সব ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সূত্র: dailyinqilab.com, dhakatimes24.com, ekusheysangbad.com, amarsangbad.com, deshrupantor.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
বরিশাল-২ জাতীয় সংসদের ১২০ নম্বর আসন, বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলায় অবস্থিত। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৫,৮০৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১,৯৬,২৬২, নারী ১,৮৯,৫৪৪ এবং হিজড়া ১ জন।
উজিরপুর উপজেলার আয়তন প্রায় ২৪৮ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৫৪,৫০৬। একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির উত্তরে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী, পূর্বে বাবুগঞ্জ। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, আলু, পান, আখ ও সবজি প্রধান ফসল। গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স এবং শিকারপুরের সুগন্ধা শক্তিপীঠ (উগ্রতারা মন্দির) এখানকার পরিচিত স্থান। শেরেবাংলা কলেজ ও ধামুরা কলেজ (দুটিই ১৯৭০) উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বানারীপাড়া উপজেলা উজিরপুরের দক্ষিণ-পশ্চিমে, সন্ধ্যা নদীর তীরে। আয়তন প্রায় ১৩৪ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৬৯,৮৭৬। একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার অর্থনীতি কৃষি ও ব্যবসানির্ভর। সন্ধ্যা নদীর বুকে নৌকায় বসা ধান-চালের ভাসমান হাট প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো; বালাম চালের জন্য বানারীপাড়ার খ্যাতি আছে। সরকারি ফজলুল হক কলেজ (১৯৪০) এখানকার প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের সময় গাভা গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালায়।
১৯৯১ সালে আসনটিতে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন জয়ী হন। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং জুন ১৯৯৬-এ জাতীয় পার্টির গোলাম ফারুক অভি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হয়; ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল, ২০২৪ সালে আবার মেনন জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটি বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, citypopulation.de, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, bangla.thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ
BNPবিজয়ী১,৪১,৬২২৬২.৬% - Abdul Mannan
BJEI৭৪,০৮২৩২.৭%
- Md Nesar Uddin
IAB৬,০২১২.৭% - A. HaqueJP(ERSHAD)২,৩২৯১.০%
- M A JalilJP(ERSHAD)১,১৯৯০.৫%
- Ranjit Kumar Baroi
GOP৭০০০.৩%
- Saheb AliNPP১৮৫০.১%
- Md Abul Kalam AzadBangladesh JaSad১৩৫০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)
আসন: বরিশাল-২
আসনের পাতা →(ক)উজিরপুর এবং(খ) বানারীপাড়া উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…