মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
শেখ ফরিদুল ইসলাম

শেখ ফরিদুল ইসলাম

Shaikh Faridul Islam

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

শেখ ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

শেখ ফরিদুল ইসলাম (Shaikh Faridul Islam) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সুন্দরবন-ঘেঁষা রামপালের সন্তান শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন সরব; এলাকায় তিনি মানবিক ও সামাজিক কাজের জন্যও পরিচিত।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭০ সালের ৩ জানুয়ারি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় তাঁর জন্ম। বাবা শেখ আব্দুর রহমান, মা সখিনা বেগম।

রাজনৈতিক জীবন

২০১৮ সালে তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন; তখন প্রায় এক দশক ধরে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৯৬ সালের পর বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি, জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী সেখানে প্রার্থী দিত। ২০১৮ সালের নভেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে তিনি দলের কেন্দ্র থেকে এ আসনের মনোনয়নপত্র পান এবং রামপালে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

পরে তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দল তাঁকে আবারও বাগেরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে বাগেরহাট-৩ আসনে প্রার্থী হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে তিনি ১,০২,৬৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ শেখ (Mohammad Abdul Wadud Sheikh) পান ৮৩,৫৫০ ভোট; ব্যবধান ১৯,১১১ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ৩,৬৪০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

জয়ের পর তিনি বলেন, এই বিজয় রামপাল-মোংলার সব ধর্মের মানুষের। মোংলা বন্দরকে ঘিরে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দিনমজুর, জেলে ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

তিনি সুন্দরবন রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘সেভ দ্য সুন্দরবন’-এর (Save the Sundarbans) চেয়ারম্যান। ২০২৩ সালে সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে খুলনা প্রেসক্লাবের আলোচনায় তিনি সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরে বন রক্ষার মধ্য দিয়ে দেশ রক্ষার আহ্বান জানান।

প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি মোংলা-রামপালের নানা পেশার মানুষের পাশে সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন। বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রম তাঁর সামাজিক কাজের বড় অংশ; সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এর মাধ্যমে কয়েক লাখ মানুষের চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), জাতীয় সংসদ, prothomalo.com, dailyinqilab.com, banglatribune.com, bssnews.net, bangla.thedailystar.net, tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, unb.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩ জানুয়ারি ১৯৭০, ৫৬ বছর
জন্মস্থানবড়দিয়া, রামপাল উপজেলা, বাগেরহাট*
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাবাইনতলা কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (এসএসসি, ১৯৮৪)আবুল কালাম কলেজ, রামপাল (এইচএসসি, ১৯৮৬)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দর্শন (বিএ সম্মান, এমএ)
পেশাব্যবসা
পিতাশেখ আব্দুর রহমান
মাতাসখিনা বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (বাংলা) ও উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (ইংরেজি) থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেদিন রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর (Abdul Awal Mintoo) সঙ্গে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার কাজ দেখেন। ২০ মে ২০২৬ ঢাকায় সুন্দরবন অঞ্চলের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার উদ্যোগ (CRIS) প্রকল্পের কর্মশালায় তিনি বিষ দিয়ে মাছ ধরা, বাঘ ও হরিণ শিকার এবং তেল-কয়লাবাহী নৌযান দুর্ঘটনাকে সুন্দরবনের বড় হুমকি উল্লেখ করে বন বিভাগকে পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ১৭ জুলাই তিনি বাগেরহাটের কচুয়া ও মোরেলগঞ্জের মাঝে বিষখালী নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শন করে দুই তীরে গাছ লাগান। ৩০ আগস্ট সংসদে প্রশ্নোত্তরে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২,৩০০ একর বনভূমি উদ্ধার হয়েছে; সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অবৈধ রিসোর্ট নির্মাণ বন্ধে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করার কথাও তিনি বলেন।

সূত্র: unb.com.bd, bssnews.net, bangla.bdnews24.com, thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

বাগেরহাট-৩

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

বাগেরহাট-৩ জাতীয় সংসদের ৯৭ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৬৬,৮৬৪ জন।

উত্তরের রামপাল উপজেলার আয়তন প্রায় ৩৩৫ বর্গকিলোমিটার। ১৮৯২ সালে থানা ও ১৯৮৩ সালে উপজেলা হওয়া রামপালে ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে; ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ১,৭৬,০৫৮। কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা; ধান, মিষ্টি আলু ও সবজির পাশাপাশি চিংড়ি চাষ ব্যাপক, আর চিংড়ি ও কাঁকড়া প্রধান রপ্তানি পণ্য। পশুর, দাউদখালী ও ঘষিয়াখালী এখানকার নদী। উপজেলায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত, যার প্রথম ইউনিট ২০২২ সালে উদ্বোধন হয়। রামপাল ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৮) এলাকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

দক্ষিণের মোংলা উপজেলা পশুর নদীর তীরে; এর দক্ষিণে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর। মোংলা পৌরসভা ও সুন্দরবন ইউনিয়নসহ ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলার আয়তন প্রায় ১,৪৬১ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৫৮,৪৭০, যার অর্ধেকের বেশি শহরে বাস করেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর এবং ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল এখানকার অর্থনীতির কেন্দ্র; সিমেন্ট কারখানা ও এলপি গ্যাস প্ল্যান্টও রয়েছে। করমজল, হিরণ পয়েন্ট ও সেন্ট পলস গির্জা পরিচিত দর্শনীয় স্থান। মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের আগস্টে পশুর নদীতে নৌ-কমান্ডো অভিযান উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতেও আসনটি এই দুই উপজেলা নিয়েই গঠিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন; তালুকদার আবদুল খালেক (Talukder Abdul Khaleque) ও হাবিবুন নাহার (Habibun Nahar) একাধিকবার এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২৬ সালে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে হারিয়ে আসনটিতে জয়ী হন।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, unb.com.bd, bepza.gov.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬বাগেরহাট-৩বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৯০,৬২৫ ভোট
  1. শেখ ফরিদুল ইসলামBNPবিজয়ী১,০২,৬৬১৫৩.৯%
  2. Mohammad Abdul Wadud SheikhBJEI৮৩,৫৫০৪৩.৮%
  3. Sheikh Zillur RahmanIAB৩,৬৪০১.৯%
  4. M A H SelimInd৪২৫০.২%
  5. Md Habibur Rahman MasterJSD৩৪৯০.২%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজি) বিজয়ীর ভোট ১,০৩,৭১১।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: বাগেরহাট-৩

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)রামপাল এবং(খ) মোংলা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →