
শেখ রবিউল আলম
Shaikh Rabiul Alam
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
শেখ রবিউল আলম ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম (Shaikh Rabiul Alam) ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বাধীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী। দেশের যোগাযোগ খাতের তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে তাঁর দায়িত্বে। এটি তাঁর প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল আলম পেশায় ব্যবসায়ী; তিনি আবাসন প্রতিষ্ঠান প্লিজেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেডের (Pleasant Properties Limited) ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাটে তাঁর জন্ম। বাবা শেখ লোকমান হাকিম, মা আছিয়া বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত।
রাজনৈতিক জীবন
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রাজনীতিতে তাঁর ৩৩ বছর কেটেছে; ধানমন্ডির ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কাজ শুরু করে তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে এসেছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
শেখ ফজলে নূর তাপস (Sheikh Fazle Noor Taposh) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে আসন ছাড়লে ২০২০ সালের ২১ মার্চ ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচন হয়। মনোনয়নের একমাত্র আবেদনকারী হিসেবে রবিউল আলম সেখানে বিএনপির প্রার্থী হন। করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম; আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। রবিউল আলম কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করেন।
নিজের ভাষ্যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দীপ্ত টিভির এক প্রকৌশলী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাঁর নাম আসায় দল তাঁকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়; অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হলে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ আদালত তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন এবং ৫ অক্টোবর বাদীর রিভিশন আবেদন খারিজ করে সেই অব্যাহতি বহাল রাখা হয়। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে তাঁকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রচারে তিনি বলেন, কঠিন ১৭ বছর তিনি এই এলাকাতেই থেকে রাজনীতি করেছেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৮,৬৬০ জন, প্রার্থী ছিলেন দশজন। প্রচারে তিনি আসনটিকে সুশাসনের মডেল করা এবং ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও সিটি করপোরেশনের মতো সেবা সংস্থাকে জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। ধানের শীষ প্রতীকে শেখ রবিউল আলম পান ৮০,৪৩৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. জসিম উদ্দিন সরকার (Md. Jasim Uddin Sarkar) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৭৭,১৩৬ ভোট। ৩,৩০০ ভোটের ব্যবধানে জিতে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; ১৩ ফেব্রুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ফল ঘোষণা করেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bssnews.net, bangla.thedailystar.net ১, dhakatribune.com ১, thefinancialexpress.com.bd, observerbd.com, unb.com.bd, thedailystar.net, bangla.thedailystar.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, dhakatribune.com ২, tbsnews.net, dhakatimes24.com, en.prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (বাংলা) ও উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (ইংরেজি) থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (Mohammed Shahabuddin) কাছে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেদিন থেকে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সড়ক-মহাসড়ক ও সেতু, বিআরটিএ ও বিআরটিসির মতো সড়ক পরিবহন সংস্থা, রেল যোগাযোগ এবং সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত নীতি ও প্রকল্প তদারকি তাঁর দায়িত্ব।
২০২৬ সালের ২৫ জুন সংসদে তিনি জানান, দেশে চিহ্নিত নদী দখলদার ২১,৯৮৮ জন; জেলা প্রশাসকদের উচ্ছেদ পরিকল্পনা পেলে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ চালানো হবে। ১৮ আগস্ট তিনি নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়ে বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সেবা উদ্বোধন করেন; শুরুতে ১৩টি রুটে চলছে ১৪টি বাস। ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিরীক্ষার ফল তুলে ধরে তিনি জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি বিয়ারিং প্যাড ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলানো হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ট্রেনের ভাড়া না বাড়িয়ে সমন্বয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bangla.thedailystar.net ১, bangla.thedailystar.net ২, bangla.thedailystar.net ৩, banglatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ঢাকা-১০ (Dhaka-10) জাতীয় সংসদের ১৮৩ নম্বর আসন, ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় রাজধানীর ভেতরে। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (Dhaka South City Corporation) ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। আগের ছয়টি ওয়ার্ডের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে কামরাঙ্গীরচর থানার ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড। এলাকাটি মূলত ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ জুড়ে, সঙ্গে জিগাতলা ও কামরাঙ্গীরচরের একাংশ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৮,৬৬০ জন।
২০২২ সালের জনশুমারিতে ধানমন্ডি থানার জনসংখ্যা ১,০১,৯৩৭, কলাবাগানের ১,১৪,২৫৮, নিউমার্কেটের ৫৪,২২০, হাজারীবাগের ২,০০,৪৭৬ এবং কামরাঙ্গীরচরের ৩,৭২,৩০২; থানা আর আসনের সীমানা অবশ্য পুরোপুরি এক নয়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ধানমন্ডিতে আছে ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্র সরোবর, আবাহনী মাঠ, সিটি কলেজ ও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কলাবাগান ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা; আসনের মধ্যে আরও আছে গ্রিন রোড, সোবহানবাগ ও স্কয়ার হাসপাতাল। নিউমার্কেট, চাঁদনী চক ও ঢাকা কলেজ মিলে নিউমার্কেট থানা রাজধানীর বড় বাণিজ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র। বুড়িগঙ্গার কাছে হাজারীবাগে একসময় দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ ট্যানারি ছিল, যা পরে সাভারের হেমায়েতপুরে সরানো হয়; এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট অবস্থিত। বুড়িগঙ্গা তীরের কামরাঙ্গীরচর রাজধানীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শ্রমজীবী এলাকা।
ধানমন্ডিকেন্দ্রিক রূপে আসনটির শুরু ২০১৪ সালের নির্বাচনে; তখন থেকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে শেখ ফজলে নূর তাপস, ২০২০ সালের উপনির্বাচনে মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং ২০২৪ সালে ফেরদৌস আহমেদ, সবাই আওয়ামী লীগ থেকে জয়ী হন। এর আগে ভিন্ন সীমানার একই নামের আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং ১৯৯৬ সালের জুনে ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ জয় পায়। ২০২৬ সালে বিএনপির শেখ রবিউল আলম আসনটিতে জয়ী হন।
সূত্র: prothomalo.com, bangla.bdnews24.com, bangla.thedailystar.net, bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৬, dhakatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- শেখ রবিউল আলম
BNPবিজয়ী৮০,৪৩৬৫১.০% - Md. Jasim Uddin Sarkar
BJEI৭৭,১৩৬৪৯.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: ঢাকা-১০
আসনের পাতা →ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর- ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ৪টি খবর