
শামা ওবায়েদ ইসলাম
Shama Obaed Islam
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
শামা ওবায়েদ ইসলাম ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম (Shama Obaed Islam) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) এবং দলের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য তিনি। প্রশিক্ষণে কম্পিউটার বিজ্ঞানী শামা ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী সাত নারীর একজন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৭৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরে তাঁর জন্ম; পৈতৃক বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান (K. M. Obaidur Rahman) ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির সাবেক মহাসচিব; ২০০৭ সালে তিনি মারা যান। মা শাহেদা ওবায়েদ শিক্ষাবিদ, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান।
ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (California State University) থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসহ কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি অব ফিনিক্স (University of Phoenix) থেকে এমবিএ করেন। কর্মজীবন শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট ইউনিয়ন ব্যাংকে (First Union Bank) কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে। স্বামী মোস্তাজিরুল শোভন ইসলাম পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক; তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
২০০৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বাবার আসন ফরিদপুর-২ থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি হন; তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনের কমিটি ঢাকা মহানগরসহ ৩৫টি জেলায় বিস্তৃত হয়।
২০১৩ ও ২০১৪ সালে চীন সরকারের আমন্ত্রণে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে চীন সফর করেন এবং ২০১৫ সালে বেইজিংয়ে এশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসনে আবার দলের প্রার্থী হন, তবে পরে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) হওয়ার পাশাপাশি তিনি চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সহায়ক কমিটিতে কাজ করেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
২০২৬ নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে ১,২১,৬৯৪ ভোট পেয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আকরাম আলী পান ৮৯,৩০৫ ভোট; ব্যবধান ৩২,৩৮৯ ভোট। ছয় প্রার্থীর এই লড়াইয়ে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৫৬.৬ শতাংশ পান তিনি, আর আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে বিএনপির হাতে আসে।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
কম্পিউটার বিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের ঝুঁকি ও সুরক্ষা নিয়ে জনমত গঠনে সামনের সারিতে ছিলেন; এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করেন। ‘ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি’ (Youth Movement for Democracy) প্ল্যাটফর্মে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বিষয়ে একাধিক সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠক করেন।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ব্যানারে সীমান্ত হত্যা (ফেলানী হত্যাকাণ্ডসহ), শেয়ারবাজার ধস, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের মতো বিষয়ে তিনি সোচ্চার ছিলেন। তরুণদের পরিচালিত চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (Institute for Global Cooperation Foundation) পরিচালনায়ও তিনি যুক্ত।
সূত্র: bdhcdelhi.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন; সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর মেয়াদও শুরু হয় সেদিন। মন্ত্রিসভার তিন নারী সদস্যের একজন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর পদে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বিষয়গুলো দেখেন। ২১ আগস্ট ২০২৬-এর মন্ত্রিসভা রদবদলে মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হওয়ার পর ২৩ আগস্টের পরিপত্রে তাঁকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্রসম্পদ, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতির দায়িত্ব দেওয়া হয়; সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিষয়ও তিনি দেখেন।
২০২৬ সালের ২ জুন ঢাকায় সুইজারল্যান্ডের সহকারী পররাষ্ট্রসচিব মার্কুস লাইটনারের (Markus Leitner) সঙ্গে সাক্ষাতে এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনে সুইস সমর্থন চান। ১৯ থেকে ২১ মে মরক্কোয় শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন এবং ১৭ থেকে ১৯ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে যোগ দিতে যান। ৯ আগস্ট দুই দিনের সরকারি সফরে সিঙ্গাপুর পৌঁছান।
সূত্র: observerbd.com ১, dhakatribune.com ১, en.prothomalo.com, unb.com.bd, dhakatribune.com ২, observerbd.com ২, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ফরিদপুর-২ জাতীয় সংসদের ২১২ নম্বর আসন, ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত। সীমানা অনুযায়ী আসনটি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৩২,০৪১ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১,৭২,৯০৪ এবং নারী ১,৫৯,১৩৭।
নগরকান্দা উপজেলার আয়তন প্রায় ১৯২ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,২২,৯৩৮। এর উত্তরে ফরিদপুর সদর, পূর্বে ভাঙ্গা ও সদরপুর এবং দক্ষিণে মুকসুদপুর। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ ও পেঁয়াজ প্রধান ফসল। ভুবনেশ্বর নদ ও জালিবাড়ি খাল এখানকার জলপথ। বিলনালিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১০) ও এম এন একাডেমি (১৯১৬) পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লস্করদিয়ায় পীর শাহ আবদুর রহমান দানিশমন্দের মাজার রয়েছে। ১৯৭১ সালে কোদালিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালায়; কোদালিয়ায় গণকবর রয়েছে।
সালথা উপজেলা ২০০৬ সালে নগরকান্দা থেকে আলাদা হয়ে গঠিত হয়। আয়তন প্রায় ১৮৬ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন আটটি; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৮৬,২১৫। উত্তরে ফরিদপুর সদর, পশ্চিমে বোয়ালমারী এবং দক্ষিণে মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ, মরিচ ও সবজি প্রধান ফসল। কুমার নদ এবং ঘুঘিল ও কাগদি বিল উল্লেখযোগ্য জলাশয়। সালথা কলেজ ও সালথা উচ্চ বিদ্যালয় এখানকার পরিচিত প্রতিষ্ঠান।
১৯৯১ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগের সাজেদা চৌধুরী, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এ বিএনপির আবুল হোসেন মিয়া এবং জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির কে এম ওবায়দুর রহমান জয়ী হন। ২০০৮ সালের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণে আসনের এলাকা বদলায়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল; সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর ২০২২ সালের উপনির্বাচনে শাহদাব আকবর চৌধুরী সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- শামা ওবায়েদ ইসলাম
BNPবিজয়ী১,২১,৬৯৪৫৬.৬% - Md Akram Ali
BKM৮৯,৩০৫৪১.৬% - Shah Md Jamal Uddin
IAB২,৩৬৮১.১% - Faruk Fakir
GOP৬৭৫০.৩%
- AkramuzzamanIBB৬১৭০.৩%
- Md Nazmul HasanBangladesh Congress২৫৭০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: ফরিদপুর-২
আসনের পাতা →(ক)নগরকান্দা,(খ) সালথা উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ৩টি খবর