
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
Sultan Salauddin Tuku
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (Sultan Salauddin Tuku) টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক টুকু দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা রাজনীতিক।
ছাত্রদল ও যুবদল দুই সংগঠনেরই কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন এবং প্রথম মেয়াদেই সরকারের দায়িত্ব পান।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৭১ সালে টাঙ্গাইলে তাঁর জন্ম। বাবা মোঃ মহিউদ্দিন মিঞা, মা মোছাঃ সালমা খাতুন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু (Abdus Salam Pintu) তাঁর বড় ভাই। পিন্টু ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন; ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের খালাসের রায়ের পর ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান।
রাজনৈতিক জীবন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের শুরু। ২০১০ সালে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
এরপর তিনি দলের যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলে আসেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত কমিটিতে সাইফুল আলম নীরব (Saiful Alam Nirob) সভাপতি ও টুকু সাধারণ সম্পাদক হন। ২০২২ সালের ২৭ মে ঘোষিত নতুন কমিটিতে তিনি যুবদলের সভাপতি হন, সাধারণ সম্পাদক হন মোনায়েম মুন্না (Monayem Munna)। পরে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান; ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই এই পদে তাঁর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে আসে।
বড় ভাই কারাগারে থাকার সময় তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে জয় পাননি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে আন্দোলনের সময় তাঁকে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়; ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশ থেকে ফেরার পথে ঢাকার আমিনবাজারে তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন।
২০২৬ নির্বাচন
ভোটের তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে শেষ নির্বাচনী মিছিলে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আমি আমার এই জীবন টাঙ্গাইল সদরবাসীর জন্য উৎসর্গ করে দিলাম।’ দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি পান ১,৩১,২৭৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব (Ahsan Habib) পান ৮০,২৮৩ ভোট; ব্যবধান ৫০,৯৯৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফরহাদ ইকবাল (Md. Farhad Iqbal) পান ৬৯,৪০৮ ভোট। বেসরকারি ফল অনুযায়ী আসনের ৪,৬২,৪১২ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়ে ২,৮৮,০৮০টি, বাতিল হয় ৪,৪০১টি; ভোটের হার ৬৩.২৫ শতাংশ। একই নির্বাচনে বড় ভাই আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ আসনে জয়ী হলে দুই সহোদর একসঙ্গে সংসদে যান।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
বড় ভাইয়ের দীর্ঘ কারাবাসের সময় টাঙ্গাইল-২ এলাকায় দলের নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর দেখভাল করেছেন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃত্বে থেকে তিনি বিএনপির রাজপথের কর্মসূচিতে সংগঠকের ভূমিকা রাখেন, আর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দলের অবস্থান জনসভা ও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), prothomalo.com ১, en.prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, bangla.thedailystar.net ১, khoborsangjog.com, thedailystar.net, dhakatimes24.com, bangla.bdnews24.com, en.prothomalo.com ২, bssnews.net, dhakatribune.com, bangla.thedailystar.net ২, deshrupantor.com, en.prothomalo.com ৩। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন; শুরুতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ৪ মার্চ ২০২৬ দপ্তর পুনর্বণ্টনের পর থেকে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের মাছ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও দুগ্ধ খাতের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্বে; মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর অধীনে কাজ করে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে টুকুর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম:
৩ জুলাই ২০২৬ নেত্রকোনার মদনে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে তিনি হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং মা মাছ রক্ষার আহ্বান জানান।
১৮ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর এখন অগ্রাধিকার মাছ ও মৎস্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টাঙ্গাইলের সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে ২০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা উদ্বোধন করে তিনি জানান, দেশের অন্যান্য সরকারি মৎস্য খামারেও পর্যায়ক্রমে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালু করা হবে।
সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, dhakatribune.com, unb.com.bd। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
টাঙ্গাইল-৫ ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার একটি সংসদীয় আসন, সংসদের ১৩৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি পুরো টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত; জেলা শহর ও টাঙ্গাইল পৌরসভা এর অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬২,৪১২ জন।
উপজেলার আয়তন ৩৩৪.২৬ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ছাড়াও এখানে ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে: বাঘিল, দাইন্যা, গালা, ঘারিন্দা, হুগড়া, করটিয়া, কাতুলী, কাকুয়া, মগড়া, মাহমুদনগর, পোড়াবাড়ী ও ছিলিমপুর। উত্তরে কালিহাতী, দক্ষিণে নাগরপুর ও দেলদুয়ার, পূর্বে বাসাইল এবং পশ্চিমে যমুনার ওপারে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চৌহালী। যমুনা, ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী এ এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৬,০১,২২৭; এর প্রায় ৩৯ শতাংশ শহরে বাস করেন। কৃষি প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, সরিষা, আখ ও সবজি প্রধান ফসল। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, সুতি শাড়ি, পাট ও চামড়া এখান থেকে বাইরে যায়। করটিয়া হাট ও পোড়াবাড়ী হাট সুপরিচিত। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Mawlana Bhashani Science and Technology University), সরকারি সা'দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (১৯২৬) ও কুমুদিনী সরকারি কলেজ এই উপজেলায়। সন্তোষ ও করটিয়া জমিদারবাড়ি এবং ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনের স্থান কাগমারী এলাকার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন।
১৯৯১ সালে আসনটিতে জাতীয় পার্টি জেতে; ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ২০০৮ সালের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাস হয়; সে বছর জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী জিতলেও আদালতের রায়ে ২০১২ সালে বিএনপির মাহমুদুল হাসান সংসদ সদস্য হন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালে ছানোয়ার হোসেন (Sanowar Hossain) জয়ী হন, প্রথমবার আওয়ামী লীগ ও পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org, khoborsangjog.com, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
BNPবিজয়ী১,৩১,২৭৯৪৫.৬% - Ahsan Habib
BJEI৮০,২৮৩২৭.৯%
- Md. Farhad IqbalInd৬৯,৪০৮২৪.১%
- Khandaker Zakir Hossain
IAB২,৬০০০.৯% - Md. Mozammel HaqueJP(ERSHAD)১,৬৩৬০.৬%
- Md. Hasrat Khan BhasaniBSP১,১৮৯০.৪%
- Syed Khalequzzaman MustafaJSD১,০৯২০.৪%
- Md. Shafiqul Islam
GOP২৬৩০.১%
- Fatema Akter
GSA২২১০.১%
- A.K.M Shafiqul IslamBangladesh Congress১০৯০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: টাঙ্গাইল-৫
আসনের পাতা →টাংগাইল সদর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১৩টি খবর