মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
ইয়াসের খান চৌধুরী

ইয়াসের খান চৌধুরী

Yasser Khan Choudhury

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

ইয়াসের খান চৌধুরী (Yasser Khan Choudhury) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিক, ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে যোগ দেন। ময়মনসিংহ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রী হওয়া দুজনের একজন তিনি।

পেশায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ইয়াসের দীর্ঘদিন লন্ডনে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা এই নেতা দেশে ফিরে নান্দাইলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং বাবার একসময়ের আসন থেকেই সংসদে এসেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৮২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় তাঁর জন্ম। বাবা আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী (Anwarul Hossain Khan Choudhury) ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, বিএনপির ময়মনসিংহ জেলা উত্তর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটেও নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

মা রাহাত খান চৌধুরী। চাচা খুররম খান চৌধুরী (Khurram Khan Chowdhury) চারবারের সংসদ সদস্য এবং এই আসনেরই সাবেক প্রতিনিধি; ১৯৮৮ ও ২০০১ সালে তিনি ময়মনসিংহ-৯ থেকে জয়ী হন। স্ত্রী সানজীনা খান চৌধুরী ব্যবসায় যুক্ত।

রাজনৈতিক জীবন

প্রবাসে থাকার সময়েও ইয়াসের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দেশে ফেরার পর তিনি নান্দাইলের স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নান্দাইলে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে বিএনপি তাঁকে ময়মনসিংহ-৯ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী করে।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫,৭৬১ ভোট পেয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (AKM Anwarul Islam) পান ৭১,১৬৮ ভোট; জয়ের ব্যবধান ১৪,৫৯৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী পান ৩০,৫০৯ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৪,৬৪১ জন, প্রার্থী ছিলেন ছয়জন; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাঈদুর রহমান, জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ এবং গণফোরামের মো. লতিফুল বারীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের পর আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

রাজনীতিতে আসার আগে ইয়াসের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ পেশাজীবন কাটিয়েছেন। তিনি আইবিএমে (IBM) কাজ করেছেন এবং লন্ডনে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (BBC) তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে জ্যেষ্ঠ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), prothomalo.com ১, ekhon.tv, dhakatimes24.com, dhakatribune.com, dailynayadiganta.com, bangla.bdnews24.com ১, tbsnews.net, bangla.bdnews24.com ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, prothomalo.com ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২, ৪৪ বছর
জন্মস্থানমোয়াজ্জেমপুর, নান্দাইল, ময়মনসিংহ
লিঙ্গপুরুষ
পেশাতথ্যপ্রযুক্তিবিদ
পিতাআনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী
মাতারাহাত খান চৌধুরী
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর একই দিন তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মনোনীত হন। ২১ আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও তিনি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের (Andaleeve Rahman Partho) সঙ্গে গণমাধ্যমনীতি, সরকারি তথ্যপ্রবাহ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বাসস ও চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাজে যুক্ত। ১৬ জুন ২০২৬ ঢাকায় সাংবাদিকদের এক আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার কোনো গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করবে না। ১ আগস্ট ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ‘বাংলাফ্যাক্ট’ উদ্যোগ চালু করেছে এবং বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠানসূচির সংস্কার ও ফরেনসিক অডিট চলছে। ৪ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তিনি জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বাজেট ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: dhakatribune.com ১, dhakatribune.com ২, bssnews.net ১, bssnews.net ২, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ময়মনসিংহ-৯

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ময়মনসিংহ-৯ জাতীয় সংসদের ১৫৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও নান্দাইল পৌরসভা রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৪,৬৪১ জন।

ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরের নান্দাইলের আয়তন ৩২৬.৩৭ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ঈশ্বরগঞ্জ, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ও কিশোরগঞ্জ সদর, পূর্বে নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল এবং পশ্চিমে ত্রিশাল ও গফরগাঁও। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪,২১,২৭৯। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, আলু ও সবজি প্রধান ফসল, পাশাপাশি আটা ও চালকল এবং তাঁত, মৃৎশিল্প ও কামারশিল্পের মতো কুটিরশিল্প আছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দা নদী এবং হামাই, আড়ালিয়া, বলদা ও টংগী বিল এ এলাকার পরিচিত জলাভূমি। নান্দাইল বাজার উপজেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র।

সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলের (১৪৯৩-১৫১৯) মোয়াজ্জমাবাদ মসজিদ এবং জাহাঙ্গীরপুরে জাহাঙ্গীর শাহের মাজার এখানকার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা। মৈমনসিংহ গীতিকার ‘মলুয়া’ পালার সঙ্গে নান্দাইলের নাম জড়িয়ে আছে, আর আঠারো শতকে এখানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়; পরে এখানেও নীলবিরোধী আন্দোলন হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর সম্মুখযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মরণে দিনটি নান্দাইল শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

নান্দাইলকেন্দ্রিক এই আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী জয়ী হন; ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি এবং জুনে আওয়ামী লীগ, ২০০১ সালে আবার বিএনপির খুররম খান চৌধুরী জেতেন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হাতে ছিল, যার মধ্যে ২০১৪ সালে জয় আসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ২০২৬ সালে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী আসনটিতে জয়ী হন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), bangla.bdnews24.com, tbsnews.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ময়মনসিংহ-৯বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৯৪,০৮৩ ভোট
  1. ইয়াসের খান চৌধুরীBNPবিজয়ী৮৫,৭৬১৪৪.২%
  2. AKM Anwarul IslamBDP৭১,১৬৮৩৬.৭%
  3. Hasina Khan ChowdhuryInd৩০,৫০৯১৫.৭%
  4. Md. Saidur RahmanIAB৫,৫৯৫২.৯%
  5. Hasmat MahmudJP(ERSHAD)৭৯৮০.৪%
  6. Md. Latiful Bari (Hamim)GF২৫২০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: ময়মনসিংহ-৯

আসনের পাতা →
এলাকা

নান্দাইল উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →