
জয়নুল আবেদীন
Zainul Abedin
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
জয়নুল আবেদীন বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
জয়নুল আবেদীন (Zainul Abedin) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তিনি বরিশাল-৩ (মুলাদী ও বাবুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য; এবারই প্রথম তিনি সংসদে এসেছেন।
আইন অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি মূলত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বের সূত্রে। সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। আইনজীবীদের সংগঠনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সংসদে এসেছেন।
শৈশব ও পরিবার
জাতীয় সংসদের সদস্য-তথ্য অনুযায়ী জয়নুল আবেদীনের জন্ম ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই। তাঁর পিতা দলিল উদ্দিন এবং মাতা আমেনা বেগম। পেশায় তিনি আইনজীবী।
রাজনৈতিক জীবন
আইন পেশার পাশাপাশি জয়নুল আবেদীন দীর্ঘদিন বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীদের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। পরে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন।
২০২৪ সালের জুনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর বিএনপি তাঁকে ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব দেয়। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় দফায় ৩৬টি আসনের প্রার্থীর নাম জানান। সেই তালিকায় বরিশাল-৩ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে জয়নুল আবেদীনের নাম ঘোষণা করা হয়; তখন তাঁর পরিচয় দেওয়া হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হিসেবে।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়নুল আবেদীন ৮০,৯৩২ ভোট পান, যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ৪৬.৬ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া (ফুয়াদ) ঈগল প্রতীকে পান ৬১,১৯২ ভোট; ব্যবধান ১৯,৭৪০ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ১৬,৩২৫ এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ১৪,১৮৪ ভোট পান। গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচএম ফারদিন পান ৮৬০ এবং বাসদের মোঃ আজমুল হাসান জিহাদ ২১৪ ভোট। রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী আসনটির ৩,৩২,০৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ১,৭৭,৭১৬ জন ভোট দেন, যা ৫৩.৫১ শতাংশ; এর মধ্যে ৪,০০৯টি ভোট বাতিল হয়।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দেশের উচ্চ আদালতে কর্মরত আইনজীবীদের সংগঠন। সমিতির তালিকা অনুযায়ী জয়নুল আবেদীন ১৯৯৭-৯৮ মেয়াদে সমিতির সম্পাদক এবং ২০১২-১৩ ও ২০১৭-১৯ মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ সালের মার্চের নির্বাচনে তিনি ১,৯২৮ ভোট পেয়ে আবদুল মতিন খসরুকে (Abdul Matin Khasru) ৩৩ ভোটে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বার কাউন্সিল আইনজীবীদের সনদ ও পেশাগত আচরণ দেখভালের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, scba.org.bd ১, scba.org.bd ২, en.prothomalo.com, deshrupantor.com ১, deshrupantor.com ২, bangla.bdnews24.com, prothomalo.com, 103.183.38.66, tbsnews.net ১, ittefaq.com.bd, tbsnews.net ২, bssnews.net, জাতীয় সংসদ ২, জাতীয় সংসদ ৩, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য। একই বছরের ১৩ জুলাই সংসদে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন তিনি; সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিরও তিনি সদস্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করে, আইন ও বিধি পরীক্ষা করে এবং নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সুপারিশ দেয়। এর আগে ১২ মার্চ ২০২৬, সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির সভাপতি হন জয়নুল আবেদীন। ২ এপ্রিল সংসদে উপস্থাপিত কমিটির প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ বহাল রাখা, ১৫টি সংশোধিত আকারে আনা এবং ২০টি পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। ১৩ আগস্ট তাঁর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের বাজেট পর্যালোচনা হয় এবং মাদক ও জুয়া নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকার সুপারিশ করা হয়। ৩০ আগস্ট কমিটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬ পরীক্ষা শেষে সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্র: bssnews.net, bangla.bdnews24.com ১, bangla.bdnews24.com ২, tbsnews.net, deshrupantor.com, bangla.thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
বরিশাল-৩ জাতীয় সংসদের ১২১ নম্বর আসন। বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার মুলাদী ও বাবুগঞ্জ, এই দুটি পূর্ণ উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৩,৩২,০৯৭ জন।
মুলাদী উপজেলার আয়তন প্রায় ২৬১ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, পূর্বে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এবং দক্ষিণে বরিশাল সদর। একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১,৮১,৯২৯। আড়িয়াল খাঁ নদী এই এলাকার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি; ধান, ডাল, পান ও সুপারি এখানকার প্রধান ফসল ও পণ্য। মুলাদী বন্দর হাট ও খাসেরহাট এলাকার পরিচিত বাজার।
বাবুগঞ্জ উপজেলার আয়তন প্রায় ১৬৫ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ছয়টি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ১,৫৪,৫৫৮। আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা ও সুগন্ধাসহ কয়েকটি নদী উপজেলাটিকে ঘিরে রেখেছে। এখানেও কৃষি প্রধান জীবিকা, সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা। মাধবপাশার দুর্গাসাগর দিঘি একটি প্রত্নঐতিহ্য স্থান এবং বরিশালের পরিচিত দর্শনীয় জায়গা। রহমতপুরে বরিশাল বিমানবন্দর অবস্থিত, আর খানপুরায় রয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি অনুষদ।
নির্বাচনী ইতিহাসে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালে আসনটিতে বিএনপির মোশাররফ হোসেন মঙ্গু জয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়, তাই আগের ফলাফল হুবহু একই এলাকার নয়। ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ২০১৪ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান এখানে নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, 103.183.38.66, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, tbsnews.net, bangla.bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- জয়নুল আবেদীন
BNPবিজয়ী৮০,৯৩২৪৬.৬% - Md Asaduzzaman BhuiyaAB৬১,১৯২৩৫.২%
- Md Sirajul Islam
IAB১৬,৩২৫৯.৪% - Golam Kibria TipuJP(ERSHAD)১৪,১৮৪৮.২%
- Yamin HM Fardin
GOP৮৬০০.৫%
- Md Azmul Hasan JihadBasad২১৪০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)
আসন: বরিশাল-৩
আসনের পাতা →(ক)মুলাদী এবং(খ) বাবুগঞ্জ উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…