
আখতার হোসেন
Akhter Hossen
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
আখতার হোসেন (Akhter Hossen) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (National Citizen Party, এনসিপি) সদস্যসচিব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতা নিজের জন্মস্থান কাউনিয়াকে ধারণ করা আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়ায় ১৯৯৭ সালে তাঁর জন্ম। পরিবারটি স্থানীয়ভাবে মুন্সিবাড়ি নামে পরিচিত; দাদা তুফান মুন্সি ছিলেন এলাকার মসজিদের ইমাম, তাঁর নামেই গ্রামের নাম। বাবা মৌলভি আব্দুস ছালাম ভায়ারহাট মাদ্রাসায় আরবির শিক্ষক ছিলেন, পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন; ২০১২ সালে তিনি মারা যান। মা রোকেয়া বেগম। চার বোন ও পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ভাইদের সবার ছোট।
সরদা তালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ২০১৩ সালে ভায়ারহাট পিয়ারিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০১৫ সালে রংপুরের ধাপ সাতগাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Dhaka) আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ২০২২ সালে আইনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালের মার্চে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হন। ২০২৩ সালে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি গঠিত হলে তিনি এর আহ্বায়ক হন; সদস্যসচিব ছিলেন নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam)।
২০২৪ সালে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। রংপুরে নিহত আবু সাঈদের (Abu Sayed) গায়েবানা জানাজায় যোগ দিতে ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁকে আটক করে। গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ঘোষিত জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব হন; আহ্বায়ক ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (Nasiruddin Patwari)। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটলে নাহিদ ইসলাম আহ্বায়ক এবং তিনি সদস্যসচিব মনোনীত হন।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নয়জন প্রার্থীর এই লড়াইয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসাকে (Emdadul Haque Bharsa) পরাজিত করেন; জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারি ফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন একটা বাংলাদেশ করতে চাই।’
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
২০১৮ সালের অক্টোবরে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে নতুন করে পরীক্ষা ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে তিনি রাজু ভাস্কর্যের সামনে একক অনশন শুরু করেন। এই প্রতিবাদই তাঁকে প্রথম দেশজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।
তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির দুই নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ (Asif Mahmud) পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন।
সূত্র: prothomalo.com ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), thedailystar.net, ittefaq.com.bd ১, bangla.bdnews24.com ১, bangla.bdnews24.com ২, dhakatribune.com ১, en.prothomalo.com, aljazeera.com, prothomalo.com ২, ittefaq.com.bd ২, tbsnews.net, dhakatribune.com ২। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে দলের সদস্যসচিবের দায়িত্বও পালন করে চলেছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর কাজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব, আইন প্রণয়ন ও বাজেট বিতর্কে অংশ নেওয়া এবং বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে সরকারের জবাবদিহি আদায় করা। ১৪ জুন ২০২৬ গঠিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তিনি তাঁর দলের একমাত্র সদস্য।
৯ এপ্রিল ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অধ্যাদেশটি বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছিল; তাঁর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়। ২৫ জুন ২০২৬ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় তিনি চার মাসে সরকারের ঋণ এক লাখ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব বলে সমালোচনা করেন।
সূত্র: tbsnews.net, bangla.bdnews24.com, bssnews.net, banglatribune.com, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
রংপুর-৪ আসন রংপুর বিভাগের রংপুর জেলার পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত; নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণেও এই দুই উপজেলাই আসনটির এলাকা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,০৯,৯০৬ জন।
পীরগাছা উপজেলা রংপুর শহরের দক্ষিণ-পূর্বে; আয়তন প্রায় ২৬৭ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন নয়টি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩,২৬,৬২২। তিস্তা ও ঘাঘট এর প্রধান নদী। প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, পাট ও পান প্রধান ফসল। ইটাকুমারী ও মন্থনার জমিদারবাড়ি, ইটাকুমারীর শিবমন্দির এবং চণ্ডীপুরের গুপ্ত দুর্গ এখানকার প্রাচীন নিদর্শন; ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সালের ফকির-সন্ন্যাসী প্রতিরোধের সঙ্গেও এলাকাটির নাম জড়িয়ে আছে। পীরগাছা কলেজ (১৯৭০) এখানকার পুরোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কাউনিয়া উপজেলা পীরগাছার উত্তরে, তিস্তা নদীর তীরে; আয়তন প্রায় ১৪৮ বর্গকিলোমিটার। হারাগাছ পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারিতে ২,৩৯,৬৮৯। কৃষি প্রধান পেশা; ধান, গম, তামাক, আলু ও সবজি প্রধান ফসল। তিস্তার ওপর রেলসেতু, টেপা জমিদারবাড়ি ও বুড়ির দিঘি এখানকার পরিচিত স্থাপনা; কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২) ও হারাগাছ ডিগ্রি কলেজ (১৯৭৩) প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আসনটি ১৯৭৩ সালে সৃষ্টি হয় এবং ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের আগে এর সীমানায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি এবং ২০০১ সালে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এখানে জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি (Tipu Munshi) আসনটির সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৬ সালে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারের মতো আসনটিতে জয় পায়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- আখতার হোসেন
NCPবিজয়ী১,৪৯,৯৬৬৪৫.৪%
- Mohammad Emdadul Haque Varosha
BNP১,৪০,৫৬৪৪২.৬% - Abu Naser Shah Md Mahbubar RahmanJP(ERSHAD)৩৩,৬৬৪১০.২%
- Md Zahid Hossain
IAB৪,৪৩৭১.৩% - Ujjal Chandra RoyBangladesh Congress৫৪৩০.২%
- Abu Sahma
BKM৩৪১০.১% - Progoti Barman TomaSPB-M২৪৩০.১%
- Md Joynul AbedinInd১৬৭০.১%
- Md Shah Alam BasarInd১২৬০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: রংপুর-৪
আসনের পাতা →(ক)পীরগাছা এবং(খ) কাউনিয়া উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৫)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…