
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
Syed Abdullah Mohammed Taher
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (Syed Abdullah Mohammed Taher) কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা। পেশায় চিকিৎসক এই রাজনীতিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) নায়েবে আমির, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।
২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার প্রায় আড়াই দশক পর ২০২৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বার নিজ উপজেলা চৌদ্দগ্রাম থেকে সংসদে এসেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৮ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের পশ্চিম ডেকরা গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা ছিলেন ইসলামি বক্তা ও আলেম, মা আকসিরে জাহান চৌধুরানী। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের পরিবারে তিনি বড় হন।
ছাত্রজীবনে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বৃত্তি পান এবং এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (Dhaka Medical College) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নেন। তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ; এই দম্পতির এক ছেলে ও তিন মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত হন। শিবিরের ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি ছিলেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৫-৮৬ ও ১৯৮৬-৮৭ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন কুমিল্লা-১২ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগের মুজিবুল হককে (Mujibul Haque) হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর আসনটি কুমিল্লা-১১ নাম পায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ৭৭,৯২৪ ভোট পেয়ে মুজিবুল হকের কাছে পরাজিত হন; ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জয় পাননি। দলের দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির সময়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি সরকারবিরোধী কর্মসূচি-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে তিনি দলের নায়েবে আমির হন।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ আসনে সাতজন প্রার্থী ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে তিনি পান ১,৩৩,৩০৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. কামরুল হুদা (Md. Kamrul Huda) পান ৭৬,৬৩৮ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৫৬,৬৭০ ভোট। ২০০১ সালের পর এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হলেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
আন্তর্জাতিক ছাত্র সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনসে (IIFSO) তিনি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এশিয়া পরিচালক এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মহাসচিব ছিলেন।
চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং কুমিল্লা টাওয়ার হসপিটাল ও ঢাকার আল মানার হসপিটালের চেয়ারম্যান। শিশু-কিশোরদের মাসিক পত্রিকা ‘নতুন কিশোরকণ্ঠ’ তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, tbsnews.net, dhakatimes24.com ১, dhakatimes24.com ২, en.prothomalo.com, observerbd.com, thefinancialexpress.com.bd, unb.com.bd, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই বিরোধী জোট তাঁকে বিরোধীদলীয় উপনেতা মনোনীত করে; বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman)। স্পিকারের স্বীকৃতির পর মার্চে প্রকাশিত গেজেট প্রজ্ঞাপনে পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। ৮ জুলাই ২০২৬ সংসদ তাঁকে সভাপতি করে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করে; জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্যের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়া এটিই প্রথম।
বিরোধীদলীয় উপনেতা সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রম সমন্বয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে সহায়তা করেন এবং নেতার অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি সরকারি অর্থ ব্যয়, নিরীক্ষা আপত্তি এবং আর্থিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা তদারক করে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদ ভবনে তাঁর সভাপতিত্বে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়। বড় বাজেটের মন্ত্রণালয় ও বিভাগে তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা নিয়েও আলোচনা হয় এবং মাসে অন্তত দুটি বৈঠক করার বিষয়ে কমিটি একমত হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি আসনসংখ্যার অনুপাতে স্থায়ী কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশ সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধিতে এই পদ বণ্টনের নিয়ম লেখা নেই, তাই বিষয়টি পারস্পরিক সমঝোতায় ঠিক হওয়া উচিত।
সূত্র: observerbd.com, tbsnews.net, teachers.gov.bd, prothomalo.com, banglatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
কুমিল্লা-১১ জাতীয় সংসদের ২৫৯ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার পুরো চৌদ্দগ্রাম উপজেলা (Chauddagram) নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,২১,৬৩২ জন।
চৌদ্দগ্রাম কুমিল্লা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের উপজেলা, আয়তন প্রায় ২৭০ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, দক্ষিণে ফেনী জেলার ফেনী সদর ও দাগনভূঞা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে নাঙ্গলকোট ও লাকসাম। উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে; আলকরা, গুণবতী, বাতিসা, চিওড়া ও শুভপুর এর কয়েকটি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৫,০১,৮১৫, যা ২০১১ সালে ছিল ৪,৪৩,৬৪৮। প্রধান নদী ডাকাতিয়া ও ছোট ফেনী।
কৃষি এখানকার আয়ের প্রধান উৎস; ধান, ভুট্টা, গম, সরিষা, আলু ও সবজি প্রধান ফসল। প্রবাসী আয়ও স্থানীয় অর্থনীতির বড় ভিত্তি। মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজার, গুণবতী ও বাতিসা এলাকার পরিচিত হাটবাজার। চান্দিশকরার আঠারো শতকের সেনবাহাদুরের প্রাসাদ, জগন্নাথ দিঘি ও বর্ধন রাজার মুড়া উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা জগন্নাথ দিঘির পাকিস্তানি সেনাক্যাম্প দখল করেন এবং ৭ ডিসেম্বর চৌদ্দগ্রাম শত্রুমুক্ত হয়; বেতিয়ারায় রয়েছে স্মৃতিসৌধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ ও চৌদ্দগ্রাম নাজমিয়া কামিল মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য; স্বাস্থ্যসেবায় রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের আগে চৌদ্দগ্রাম কুমিল্লা-১২ আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের মুজিবুল হক এবং ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এখানে জয়ী হন। মুজিবুল হক মোট পাঁচবার আসনটির সংসদ সদস্য ছিলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালে। প্রথম আলোর বিশ্লেষণে বিএনপি কখনো আসনটিতে জেতেনি; ২০২৬ সালে জামায়াত আসনটি আবার জিতে নেয়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, citypopulation.de, ittefaq.com.bd, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
BJEIবিজয়ী১,৩৩,৩০৮৬২.৩%
- Md. Kamrul Huda
BNP৭৬,৬৩৮৩৫.৮% - Md. Mohiuddin (Shahid)
IAB২,৭৬৬১.৩% - Md Main UddinJP(ERSHAD)৭০৪০.৩%
- A F M Abdur RahimBangladesh Congress১৯৪০.১%
- Mohammad YusufBSM১৮৬০.১%
- Md. AlamgirGF৯৮০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৪)
আসন: কুমিল্লা-১১
আসনের পাতা →চৌদ্দগ্রাম উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৫)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…