মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আলফারুক আব্দুল লতীফ

আলফারুক আব্দুল লতীফ

Al Faruq Abdul Latif

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আলফারুক আব্দুল লতীফ নীলফামারী-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি, নীলফামারী জেলা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আলফারুক আব্দুল লতীফ (Al Faruq Abdul Latif) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নীলফামারী-২ (নীলফামারী সদর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। পেশায় তিনি আইনজীবী; সংবাদমাধ্যমে তাঁকে অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ নামে উল্লেখ করা হয়।

দলীয়ভাবে তিনি নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি। সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

আলফারুক আব্দুল লতীফের জন্ম নীলফামারীতে; জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ ১৯৭০ সালের ১ সেপ্টেম্বর। তাঁর বাবা মুহাম্মদ আব্দুল লতীফ এবং মা হাসনা বানু। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এক প্রতিবেদনে তাঁর প্রয়াত বাবাকে একজন সুপরিচিত আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবার দেখানো পথ ধরেই তিনি আইন পেশা ও রাজনীতিতে আসেন।

রাজনৈতিক জীবন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাঁকে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে প্রার্থী করে। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত বাসসের এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে তিনি জেলা শহরকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে ছিল উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (উত্তরা ইপিজেড) সম্প্রসারণ, চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু করা, কনটেইনার টার্মিনাল ও ভারী শিল্প স্থাপন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কারিগরি শিক্ষা ও মেডিকেল কলেজের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নীলফামারী-২ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান (Mohammad Nayiruzzaman) ১৩৪টি কেন্দ্রের ফল একীভূত করে তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। বাসসের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আলফারুক আব্দুল লতীফ পান ১,৪৬,৪৩০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (Shahrin Islam Chowdhury Tuhin) পান ১,৩৫,৪১৮ ভোট; ব্যবধান ১১,০১২ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাসিবুল ইসলাম পান ৩,২৬০ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৫,৭৮৫ জন। ছয় প্রার্থীর পাওয়া মোট ২,৮৫,৯৫৯ ভোটের ৫১ শতাংশের বেশি তিনি একাই পান।

২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা পাঁচটি নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান নূর (Asaduzzaman Noor) জয়ী হয়েছিলেন। জামায়াত এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এখানে দ্বিতীয় হলেও এবারই প্রথম দলটির কোনো প্রার্থী আসনটিতে জিতলেন। একই নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয় পান। ফল চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীর করা নির্বাচনী আবেদন ২০২৬ সালের ১২ মার্চ হাইকোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং আসনটির ব্যালটসহ নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।

সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, tbsnews.net, thefinancialexpress.com.bd, dailynayadiganta.com, banglatribune.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ সেপ্টেম্বর ১৯৭০, ৫৬ বছর
জন্মস্থাননীলফামারী*
লিঙ্গপুরুষ
পেশাআইনজীবী
পিতামুহাম্মদ আব্দুল লতীফ
মাতাহাসনা বানু
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি একজন সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি আইন প্রণয়নে অংশ নেন এবং জাতীয় সংসদে নীলফামারী সদর উপজেলার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়াও তাঁর দায়িত্বের অংশ।

২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি অংশ নেন; সেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠ নির্মাণ, সব উপজেলায় প্রতিবছর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং নারী ক্রীড়াবিদদের হয়রানির বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ২২ অক্টোবর নীলফামারী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করে তিনি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের মাদক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে, তাই খেলাধুলাকে গ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় ছড়িয়ে দিতে হবে।

সূত্র: dhakatimes24.com, dinajpurtv.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

নীলফামারী-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

নীলফামারী-২ আসন রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি পুরো নীলফামারী সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত; এর মধ্যে আছে ১৫টি ওয়ার্ডের নীলফামারী পৌরসভা এবং ১৫টি ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৫,৭৮৫ জন।

জেলা সদর উপজেলাটির চারপাশে ডোমার, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা এবং দিনাজপুরের খানসামা ও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা। আয়তন প্রায় ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ৫,২৩,৯৬৬; সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৬৯.৭৯ শতাংশ। ১৮৭০ সালে নীলফামারী থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি উপজেলা হয়।

এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি; ধান, গম, পাট, আলু, তামাক ও আদা প্রধান ফসল। সংগলশী ইউনিয়নে ২০০১ সালে চালু হওয়া উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (উত্তরা ইপিজেড) উত্তরাঞ্চলের শিল্প ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে যমুনেশ্বরী ও চিকলি নদী। দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে গোড়গ্রামের নীলসাগর দীঘি, পলাশবাড়ীর বিষ্ণু মন্দির এবং দারোয়ানীর সৈয়দ পাগলা পীরের মাজার, যেখানে মেলাও বসে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য নীলফামারী মেডিকেল কলেজ, নীলফামারী সরকারি কলেজ, ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং জেলা সদর হাসপাতাল।

১৯৮৪ সালে গঠিত এই আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. শামসুদ্দোহা, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির দেওয়ান নুরুন্নবী এবং জুনে জাতীয় পার্টির আহসান আহমেদ জয়ী হন। ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা পাঁচবার আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান নূর নির্বাচিত হন; ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় হয়েছিল। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো জামায়াতের প্রার্থী আসনটিতে জয়ী হন।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org, bepza.gov.bd, nilphamari.gov.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬নীলফামারী-২বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৮৫,৯৫৯ ভোট
  1. আলফারুক আব্দুল লতীফBJEIবিজয়ী১,৪৬,৪৩০৫১.২%
  2. Shahrin IslamBNP১,৩৫,৪১৮৪৭.৪%
  3. Hasibul IslamIAB৩,২৬০১.১%
  4. Md Sarwarul AlamKM৩৫১০.১%
  5. Md Minhazul Islam MinhazInd৩০৭০.১%
  6. Md. Sirajul IslamBNF১৯৩০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৩)

Mr. Alfaruq Abdul Latif (13 Nilphamari-2)৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
জনাব আলফারুক আব্দুল লতীফ, ১৩ নীলফামারী-২ (মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, ওমান ও বাহরাইন সফর)৯ আগস্ট ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
জনাব আলফারুক আব্দুল লতীফ, ১৩ নীলফামারী-২ (পাকিস্তান সফর)৩ জুলাই ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: নীলফামারী-২

আসনের পাতা →
এলাকা

নীলফামারী সদর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →