মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আব্দুল মুনতাকিম

আব্দুল মুনতাকিম

Abdul Muntakim

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আব্দুল মুনতাকিম নীলফামারী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, সৈয়দপুর উপজেলা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আব্দুল মুনতাকিম (Abdul Muntakim) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। দলে তিনি সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশায় শিক্ষক এই রাজনীতিক শৈশবে পবিত্র কুরআন হিফজ করেছেন; স্থানীয়ভাবে ও সংবাদমাধ্যমে তিনি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম নামে পরিচিত। সৈয়দপুরেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষকতা ও দলীয় রাজনীতি। রেলওয়ে কারখানা ও বিমানবন্দরের শহর সৈয়দপুর এবং কৃষিপ্রধান কিশোরগঞ্জ উপজেলার মানুষ এখন সংসদে তাঁর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

আব্দুল মুনতাকিম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোঃ আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোছাঃ মোসলেমা বেগম। বাবা-মা দুজনেই জীবিত।

ছোটবেলায় তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। পরে সাধারণ শিক্ষাধারায় পড়াশোনা চালিয়ে তিনি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং সংসদ সদস্য হওয়ার আগে সৈয়দপুরের আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন।

রাজনৈতিক জীবন

আব্দুল মুনতাকিম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের সৈয়দপুর উপজেলা শাখার আমীর। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিজেকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে নীলফামারী-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। একই নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হন।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটির নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৫১,৮১৪ জন। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী আব্দুল মুনতাকিম ১,২৬,২২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ও সৈয়দপুর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল গফুর সরকার (Md. Abdul Gafur Sarkar), যিনি পান ৮২,০৮৬ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৪৪,১৩৬ ভোট। তৃতীয় হন জাতীয় পার্টির মোঃ সিদ্দিকুল আলম (Md Siddiqul Alam), যিনি ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন; তিনি পান ৬৭,৭৫৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ শহিদুল ইসলাম পান ৮,৩৩৫ ভোট; বাকি পাঁচ প্রার্থীর কেউই চার হাজার ভোট পাননি।

১৯৮৪ সালে আসনটি গঠনের পর থেকে এখানে এর আগে কখনো জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হননি।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), prothomalo.com, banglatribune.com, dailynayadiganta.com, bssnews.net, tbsnews.net, deshrupantor.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১০ জানুয়ারি ১৯৮১, ৪৫ বছর
জন্মস্থানরেল বাজার, সৈয়দপুর, নীলফামারী*
লিঙ্গপুরুষ
পেশাশিক্ষক*
পিতামোঃ আব্দুল কাদের সৈয়দী
মাতামোছাঃ মোসলেমা বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩ জুলাই ২০২৬ সংসদে গঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি একজন সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে আব্দুল মুনতাকিম আইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কাজে সংসদে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনায় অংশ নেন।

২০২৬ সালের জুনে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের যুব বিভাগের শোভাযাত্রা শেষে বক্তব্যে তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানান এবং সবার সহযোগিতায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার কথা বলেন। ২৫ আগস্ট ২০২৬ সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধনের দিন নামফলকে শুধু তাঁর নাম থাকা নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের খবর সংবাদমাধ্যমে আসে।

সূত্র: deshrupantor.com, ittefaq.com.bd, dailynayadiganta.com, dhakatimes24.com, bangla.bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

নীলফামারী-৪

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

নীলফামারী-৪ জাতীয় সংসদের ১৫ নম্বর আসন। রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত; নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণেও এই দুই উপজেলাই এর অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটির ভোটার ছিলেন ৪,৫১,৮১৪ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২,২৬,৭২৮, নারী ২,২৫,০৮১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন।

সৈয়দপুর উপজেলা জেলার দক্ষিণাংশে, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার সীমানাঘেঁষা। এর আয়তন প্রায় ১২২ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩,১২,৯৯৩, যার অর্ধেকের বেশি শহরবাসী। সৈয়দপুর শহর উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র; শহরের মানুষের বড় অংশ ব্যবসা ও কারখানার কাজে যুক্ত, গ্রামে কৃষিই প্রধান। ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, সেনানিবাস, বিসিক শিল্প এলাকা এবং ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চিনি মসজিদ এখানে অবস্থিত।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা সৈয়দপুরের উত্তর-পূর্বে, রংপুর জেলার গংগাচড়া ও তারাগঞ্জের সীমানায়; নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে এটি গঠিত। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ২,৬৯,৩৩২। কৃষিপ্রধান এই উপজেলায় আলু, ধান, আদা ও ভুট্টা প্রধান ফসল; মৌসুমের আগাম আলু ডিসেম্বরের শুরুতে বড় শহরগুলোতে পাঠানো হয়। যমুনেশ্বরী ও বুল্লাই নদী, আঠারো শতকের চাঁন খোশালের তিন গম্বুজ মসজিদ এবং ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ সরকারি কলেজ এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থান ও প্রতিষ্ঠান।

আসনটি গঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে কিশোরগঞ্জের বড়ভিটা, পুটিমারী ও রণচণ্ডী ইউনিয়ন যুক্ত হয়ে আসনটি পুরো দুই উপজেলায় বিস্তৃত হয়, তাই আগের ও পরের ফল পুরোপুরি তুলনীয় নয়। আব্দুল হাফিজ ১৯৯১ সালে ন্যাপ (মোজাফফর) ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। জুন ১৯৯৬, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টি, ২০০১ সালে বিএনপি এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আসনটিতে জয়ী হয়। ২০২৪ সালে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এখানে নির্বাচিত হন।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, bbs.portal.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬নীলফামারী-৪বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৯০,৩৯৭ ভোট
  1. আব্দুল মুনতাকিমBJEIবিজয়ী১,২৬,২২২৪৩.৫%
  2. Md. Abdul Gafur SarkarBNP৮২,০৮৬২৮.৩%
  3. Md Siddiqul AlamJP(ERSHAD)৬৭,৭৫৭২৩.৩%
  4. Md. Shahidul IslamIAB৮,৩৩৫২.৯%
  5. Md. Riyad Arfan SarkarInd৩,৮২৬১.৩%
  6. Jobaidur Rahman HiraInd১,০০৮০.৩%
  7. Md Maidul IslamSPB-M৬৩০০.২%
  8. S.M. Mamunur RashidInd৪৩৬০.২%
  9. Mirza Md. Shawkat Akbar (Roshan)BJP৯৭০.০%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)

জনাব আব্দুল মুনতাকিম, ১৫ নীলফামারী-৪৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
বাংলাদেশ সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি-এর ১৫ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশসমূহ সফরের অনুমোদনপত্র প্রেরণ।২ জুন ২০২৬, সরকারি আদেশPDF

আসন: নীলফামারী-৪

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)সৈয়দপুর এবং(খ) কিশোরগঞ্জ উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →