মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ আব্দুস সাত্তার

মোঃ আব্দুস সাত্তার

Md Abdus Sattar

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ আব্দুস সাত্তার নীলফামারী-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, নীলফামারী জেলা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ আব্দুস সাত্তার (Md Abdus Sattar) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নীলফামারী-১ (ডোমার ও ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদে আসেন। একই সঙ্গে তিনি নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর।

অন্তত ২০১৮ সাল থেকে জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে থাকা এই নেতা ডিমলা ও ডোমার উপজেলার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী আব্দুস সাত্তারের জন্ম ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি। তাঁর পিতা প্রয়াত সহির উদ্দিন এবং মাতা প্রয়াত অলিজুন নেছা। সংসদের তথ্যে তাঁর পেশা শিক্ষকতা। স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁকে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার নামে উল্লেখ করা হয়।

রাজনৈতিক জীবন

আব্দুস সাত্তারের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। ভোটের দিন ধানের শীষ প্রতীকে লড়া দলের দুই প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন; তাঁদের একজন, নীলফামারী-২ আসনের মনিরুজ্জামান মন্টুর সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি জেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পান। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দলের জেলাব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ এপ্রিল নীলফামারী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য দেন এবং সাংবাদিকদের আরও স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। ২৫ এপ্রিল সৈয়দপুরের আল ফারুক একাডেমি মিলনায়তনে দলের রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ইসলামী দলগুলোর ঐক্যজোট গঠনের আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাঁকে নীলফামারী-১ আসনে প্রার্থী করে। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর দলের স্থানীয় নেতারা ডিমলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি ডিমলার সদর ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি সভা করেন।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নীলফামারী-১ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; মোট ভোটার ছিলেন ৪,৫৬,৬১০ জন। আসনের ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আব্দুস সাত্তার ১,৫০,৮২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোট-সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (Jamiat Ulema-e-Islam Bangladesh) মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম (Mawlana Mohammad Monzurul Islam) খেজুরগাছ প্রতীকে পান ১,১৯,০৫৯ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৩১,৭৬৫ ভোট। তৃতীয় হন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মোঃ তসলিম উদ্দিন (Md. Taslim Uddin), তাঁর ভোট ১২,২৭৬। বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি (Jebel Rahman Ghaani) ৪,৪৭৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের হাতে থাকা এই আসনে এটিই জামায়াতের প্রথম জয়। একই নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), banglatribune.com, dailyjanakantha.com ১, dailyjanakantha.com ২, thebangladeshtoday.com, gramerkagoj.com, prothomalo.com ১, bssnews.net, tbsnews.net, dailyinqilab.com, dhakatimes24.com, bangla.bdnews24.com, prothomalo.com ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ জানুয়ারি ১৯৭২, ৫৪ বছর
জন্মস্থানডিমলা, নীলফামারী*
লিঙ্গপুরুষ
পেশাশিক্ষকতা
পিতামৃত. সহির উদ্দিন
মাতামৃত. অলিজুন নেছা
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংসদ ভবনের শপথকক্ষে তিনি সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য। পাশাপাশি তিনি নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন।

আইন প্রণয়ন ও সংসদে ডোমার-ডিমলার প্রতিনিধিত্ব তাঁর মূল দায়িত্ব। শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের (Shamsur Rahman Shimul Biswas) সভাপতিত্বাধীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন।

৫ মার্চ ২০২৬ ডিমলা থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি মাদক ও অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর আহ্বান জানান। ২৪ ও ২৫ মে ডিমলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বাঁধের ভাঙন মেরামতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ এবং গয়াবাড়ী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ উদ্বোধন করেন; প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ৫০০ জনকে ১,০০০ টাকা করে সহায়তাও দেন। ১৩ অক্টোবর ডোমারের মটুকপুর এলাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক ও ইভটিজিং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

সূত্র: dhakatimes24.com, dailysangram.com ১, dailysangram.com ২, amarpranerbd.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

নীলফামারী-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

নীলফামারী-১ জাতীয় সংসদের ১২ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা অনুযায়ী রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলার ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত; এতে ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৪,৫৬,৬১০ জন।

ডিমলা উপজেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, দক্ষিণে জলঢাকা ও পশ্চিমে ডোমার। আয়তন ৩২৬.৭৪ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,১৬,৮৪৬। তিস্তা, বুড়ি তিস্তা ও নাউতারা নদী এ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের (Teesta Barrage) ডালিয়া পয়েন্ট ডিমলায়। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, তামাক, মরিচ ও পেঁয়াজ এলাকার বাইরে পাঠানো প্রধান পণ্য। ডিমলা রাজবাড়ি ও ডিমলা শিবমন্দির উল্লেখযোগ্য প্রত্নস্থান।

ডোমার উপজেলার আয়তন ২১৬.৩৬ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৮২,৬৩০; এতে ১০টি ইউনিয়ন ও ডোমার পৌরসভা রয়েছে। যমুনেশ্বরী, বুড়ি তিস্তা ও দেওনাই নদী এখানে প্রবাহিত। কৃষিই প্রধান জীবিকা; পাট, আদা, আলু ও টমেটো উল্লেখযোগ্য পণ্য। সীমান্তবর্তী চিলাহাটি রেলস্টেশন এই উপজেলায়; ১৯৬৫ সাল থেকে বন্ধ থাকা চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবার চালু হয়। হরিণচড়ার ময়নামতি দুর্গ ও সোনারায়ের শাহ কলন্দরের মাজার এখানকার ঐতিহাসিক স্থান।

১৯৮৪ সালে রংপুর-১ থেকে আসনটি গঠিত হয়। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি, জুনে জাতীয় পার্টি, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আসনটিতে জয়ী হয়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের আফতাব উদ্দিন সরকার (Aftab Uddin Sarkar) নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে প্রথমবার জয় পায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সূত্র: bangla.bdnews24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bbs.portal.gov.bd, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, en.prothomalo.com, dhakatribune.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬নীলফামারী-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৯৩,৫৩০ ভোট
  1. মোঃ আব্দুস সাত্তারBJEIবিজয়ী১,৫০,৮২৪৫১.৪%
  2. Mawlana Mohammad Monzurul IslamJUIB১,১৯,০৫৯৪০.৬%
  3. Md. Taslim UddinJP(ERSHAD)১২,২৭৬৪.২%
  4. Md. Makhdum Azam MashrafeJP(ERSHAD)৪,৫০১১.৫%
  5. Jebel Rahman GhaaniBNAP৪,৪৭৭১.৫%
  6. Md Abdul JalilIAB১,৮৭১০.৬%
  7. Md Rafiqul IslamSPB-M৩১২০.১%
  8. Md. Sirajul IslamBNF২১০০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উৎসে একই প্রার্থী দুবার আছে (Md. Taslim Uddin, Md Taslim Uddin; একই দল, একই ভোট); একবার দেখানো হয়েছে। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজি) বিজয়ীর ভোট ১,৪৯,২১৪।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: নীলফামারী-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)ডোমার এবং(খ) ডিমলা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →