মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
ওবায়দুল্লাহ সালাফী

ওবায়দুল্লাহ সালাফী

Obaidullah Salafi

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

ওবায়দুল্লাহ সালাফী নীলফামারী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য, নীলফামারী জেলা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

ওবায়দুল্লাহ সালাফী (Obaidullah Salafi) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। এলাকায় ও সংবাদমাধ্যমে তিনি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী নামে পরিচিত; ‘মাওলানা’ ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের নামের আগে ব্যবহৃত প্রচলিত উপাধি।

তিস্তাবিধৌত জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ২০০১ সালের পর এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো প্রার্থী জয় পেয়েছেন। দলীয় সংগঠনে তিনি নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

ওবায়দুল্লাহ সালাফী ১৯৭২ সালের ১ এপ্রিল নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা রিয়াজ উদ্দিন এবং মা মালেকা বেগম। জাতীয় সংসদের সদস্য-তথ্যে তাঁর পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবন

সালাফী জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক রাজনীতিতে যুক্ত। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত যায়যায়কালের এক প্রতিবেদনে তাঁকে দলের রংপুর মহানগর সেক্রেটারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়; সে সময় জলঢাকায় সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি নীলফামারী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দল তাঁকে নীলফামারী-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী মনোনীত করে। নির্বাচনের আগে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। প্রচারের সময় তিনি জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের প্রতি সম্মান রেখে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার ছিলেন ২,৯৪,৪৪৬ জন, ভোটকেন্দ্র ১০৫টি। নদীভাঙন, বন্যা, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ ছিল আসনের প্রধান আলোচ্য বিষয়; প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। প্রচারের সময় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বেকারদের কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, রাস্তা-সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত সেবার উন্নয়ন, তিস্তা ও তার শাখানদী নিয়ন্ত্রণ করে বন্যার ক্ষতি কমানো এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। জুলাই সনদ প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে নিজের ও দলের অবস্থানের কথাও তিনি জানান।

ফলাফলে তিনি ১,০৯,৬৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলহাজ সৈয়দ আলী (Alhaj Syed Ali) পান ৮৯,৮০৭ ভোট; ব্যবধান ১৯,৮৭৯ ভোট। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) রোহান চৌধুরী ৩,৩৯১ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমজাদ হোসেন সরকার ৯৯০ ভোট পান। এই নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, dailynayadiganta.com, thefinancialexpress.com.bd, bssnews.net, itvbd.com, jaijaikal.com, bangla.thedailystar.net, ittefaq.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ এপ্রিল ১৯৭২, ৫৪ বছর
জন্মস্থাননীলফামারী
লিঙ্গপুরুষ
পেশাব্যবসায়ী
পিতারিয়াজ উদ্দিন
মাতামালেকা বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে জলঢাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য; কমিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা ও তদারকি করে।

নির্বাচিত হওয়ার পর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া সংবর্ধনা সভায় তিনি রোগীদের মানবিক ও মানসম্মত চিকিৎসা, ওষুধের সরবরাহ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ১৯ মে ২০২৬ তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে কৈমারী, শিমুলবাড়ী ও গাবরোল-চেংমারী এলাকায় তিনটি কাঁচা রাস্তা পাকা করার কাজের উদ্বোধন করেন এবং এলাকাবাসীকে কাজের মান বুঝে নিতে ঠিকাদারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কমিটির প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সেবার মান বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সূত্র: ittefaq.com.bd, prothomalo.com, dailysangram.com ১, dailysangram.com ২, dinajpurtv.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

নীলফামারী-৩

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

নীলফামারী-৩ জাতীয় সংসদের ১৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলায় রয়েছে জলঢাকা পৌরসভা এবং বালাগ্রাম, ধর্মপাল, ডাউয়াবাড়ী, গোলনা, গোলমুন্ডা, কৈমারী, কাঁঠালী, খুটামারা, মীরগঞ্জ, শৌলমারী ও শিমুলবাড়ী, মোট ১১টি ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৯৪,৪৪৬ জন।

জলঢাকা উপজেলার আয়তন প্রায় ৩০৩.৫১ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ডিমলা, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ, পূর্বে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ এবং পশ্চিমে নীলফামারী সদর ও ডোমার উপজেলা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৮৬,৮০১। তিস্তা, যমুনেশ্বরী, বুল্লাই ও ঘাঘট এখানকার প্রধান নদী। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর: বাংলাপিডিয়ার হিসাবে প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। ধান, তামাক, গম, আলু, পাট, ভুট্টা ও সবজি প্রধান ফসল; তামাক, আদা, ভুট্টা ও সবজি বাইরে যায়। জলঢাকা, মীরগঞ্জ ও কৈমারী হাট এলাকার উল্লেখযোগ্য বাজার।

ধর্মপাল ইউনিয়নের রাজা ধর্মপালের গড়, খুটামারার রাজা হরিশচন্দ্রের পাট ও গোলনার ভীমের ধাপ এখানকার প্রত্নস্থান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জলঢাকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৭), গোলমুন্ডা ফাজিল মাদ্রাসা (১৯১৯) ও ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জলঢাকা কলেজ উল্লেখযোগ্য; স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

আসনটিতে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি, জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামী, ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ, ২০১৮ সালে আবার জাতীয় পার্টি এবং ২০২৪ সালে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী জয় পায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছিল, তাই সব নির্বাচনের এলাকা হুবহু এক নয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), bn.banglapedia.org, jaldhaka.nilphamari.gov.bd, bssnews.net, itvbd.com, thefinancialexpress.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬নীলফামারী-৩বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,০৩,৮৭৪ ভোট
  1. ওবায়দুল্লাহ সালাফীBJEIবিজয়ী১,০৯,৬৮৬৫৩.৮%
  2. Alhaz Sayed AliBNP৮৯,৮০৭৪৪.১%
  3. Rohan ChowdhuryJP(ERSHAD)৩,৩৯১১.৭%
  4. Amzad Hossain SarkerIAB৯৯০০.৫%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজি) বিজয়ীর ভোট ১,০৮,৫৬০।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব ওবায়দুল্লাহ সালাফী, ১৪ নীলফামারী-৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: নীলফামারী-৩

আসনের পাতা →
এলাকা

জলঢাকা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →