মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ রায়হান সিরাজী

মোঃ রায়হান সিরাজী

Md Rayhan Shirazi

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ রায়হান সিরাজী রংপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি, রংপুর মহানগর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ রায়হান সিরাজী (Md Rayhan Shirazi) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য। রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

পেশায় শিক্ষক রায়হান সিরাজী বর্তমানে রংপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭৯ সালের ৩ জুলাই রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় তাঁর জন্ম। বাবা মোঃ রুহুল ইসলাম, মা মোছাঃ ছালেহা খাতুন। সংসদের নথিতে তাঁর পেশা শিক্ষকতা।

রাজনৈতিক জীবন

রায়হান সিরাজী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দল তাঁকে রংপুর-১ আসনে প্রার্থী মনোনীত করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, কৃষকের পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেন। গংগাচড়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধির প্রশ্নে কোনো আপস নেই এবং দলের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল উপায়ে প্রচার চালাতে বলা হয়েছে।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১,৪৭,২৪৫ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মোকাররম হোসেন সুজন (Mokarram Hossain Sujon) পান ৬৯,১৩১ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৭৮,১১৪ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৭৫,২২৭ জন। মোট পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে অন্যরা ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ টি এম গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) আহসানুল আরেফিন এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোঃ আনাস। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় দলটি এবার এ আসনের ব্যালটে ছিল না। দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে এই প্রথম জামায়াতের কোনো প্রার্থী জয়ী হলেন।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

২০২৫ সালের জুলাইয়ে গংগাচড়ার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলোর বাড়িঘরে হামলার পর ২৯ জুলাই তিনি জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি এ দেশের আবহমানকালের ঐতিহ্য, এবং হিন্দুপল্লিতে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net, bssnews.net ১, bssnews.net ২, deshrupantor.com, dailyjanakantha.com, জাতীয় সংসদ ৩, en.prothomalo.com, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩ জুলাই ১৯৭৯, ৪৭ বছর
জন্মস্থানপশ্চিম বড়বিল, গংগাচড়া, রংপুর*
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাকারমাইকেল কলেজ, রংপুর (অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর), এলএলবি, পাকুড়িয়া শরীফ কছিমিয়া মাদ্রাসা (কামিল)
পেশাশিক্ষকতা
পিতামোঃ রুহুল ইসলাম
মাতামোছাঃ ছালেহা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনি রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য। সংসদে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া এবং গংগাচড়া ও রংপুর নগরের নির্বাচনী এলাকার মানুষের দাবি সংসদে তুলে ধরা তাঁর দায়িত্ব; দুই স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকিতে যুক্ত।

১১ মে ২০২৬ তিনি নোহালী ইউনিয়নের চর বিরিফবাজার এলাকায় একটি সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত ঘর এক অসচ্ছল পরিবারের হাতে তুলে দেন এবং তিস্তার ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে জানান, টেকসই বাঁধ ও ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ৪ অক্টোবর গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলায় আহত সাংবাদিক আবদুল বারী দুলালকে দেখতে গিয়ে তিনি হামলার নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। ১২ অক্টোবর উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি চরাঞ্চলের কোলকোন্দ ও নোহালী ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের দাবি জানান; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কিছু বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করেন।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২, checkpost.com.bd, ajkerpatrika.com, prothomalo.com, ittefaq.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

রংপুর-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

রংপুর-১ জাতীয় সংসদের ১৯ নম্বর আসন, রংপুর বিভাগের রংপুর জেলায়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গংগাচড়া উপজেলা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৩,৭৫,২২৭ জন, ভোটকেন্দ্র ১৩৯টি।

গংগাচড়া রংপুর জেলার সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা, আয়তন প্রায় ২৭০ বর্গকিলোমিটার। এর দক্ষিণে রংপুর সদর ও কাউনিয়া, পূর্বে লালমনিরহাট এবং পশ্চিমে নীলফামারী জেলা। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৮৬,৭৩০। বেতগাড়ী, বড়বিল, কোলকোন্দ, লক্ষীটারী, গংগাচড়া, গজঘণ্টা, মর্নেয়া, আলমবিদিতর ও নোহালী, মোট নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। তিস্তা ও ঘাঘট প্রধান নদী; তিস্তার ভাঙন এখানকার বড় সমস্যা। ধান, আলু, ভুট্টা, তামাক ও পাটসহ কৃষিই অর্থনীতির মূল ভিত্তি, আর গজঘণ্টায় রয়েছে বেনারসি পল্লি। তিস্তার ওপর মহিপুর সেতু, মহিপুর জমিদারবাড়ির নিদর্শন, ঘাঘটপাড়ের পুরোনো নীলকুঠি এবং গংগাচড়া সরকারি কলেজ উল্লেখযোগ্য। ২০১২ সালের ২৮ জুন প্রতিষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রথম নয়টি এ আসনের অংশ।

আসনটি দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে করিমউদ্দিন ভরসা, জুন ১৯৯৬-এ শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু এবং ২০০৮ সালে হোসেন মকবুল শাহরিয়ার জাতীয় পার্টি থেকে জয়ী হন; মসিউর রহমান রাঙ্গা জেতেন ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু জয়ী হন এবং ২০২৬ সালে প্রথমবার আসনটি পায় জামায়াতে ইসলামী। সীমানাও বদলেছে: ২০১৪ সালের আগে রংপুর সদরের তিনটি ইউনিয়ন এর অংশ ছিল, পরে সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুক্ত হয় এবং ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যোগ হয়।

সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, deshrupantor.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬রংপুর-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬২,২৩,১৪৪ ভোট, ভোট পড়েছে ৬০.৮৯%
  1. মোঃ রায়হান সিরাজীBJEIবিজয়ী১,৪৭,২৪৫৬৬.০%
  2. Md. Mokarram Hossain SujonBNP৬৯,১৩১৩১.০%
  3. A T M Golam MostafaIAB৫,২২৪২.৩%
  4. Md AnasIFB১,১০৩০.৫%
  5. Ahsanul ArefinSPB-M৪৪১০.২%
উৎস: নির্বাচন কমিশনের ফলাফল শিট। রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল শিট (বার্তা প্রেরণ শিট)। আগে এখানে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাব দেখানো হচ্ছিল, যা এই শিটের সঙ্গে মেলেনি।ফলাফল শিট

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব মোঃ রায়হান সিরাজী, ১৯ রংপুর-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: রংপুর-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক) গংগাচড়া উপজেলা এবং (খ) রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯

সংসদীয় কমিটি(২)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →