
এ টি এম আজহারুল ইসলাম
A T M Azharul Islam
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
এ টি এম আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম (A T M Azharul Islam) রংপুর-২ (তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) নায়েবে আমীর। দলের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এই প্রবীণ নেতা নিজের জন্মস্থানের আসনে চতুর্থবার প্রার্থী হয়ে প্রথমবার সংসদে এসেছেন।
কয়েক দশকের সাংগঠনিক রাজনীতি, দীর্ঘ কারাবাস এবং সর্বোচ্চ আদালতে খালাসের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর জয় রংপুর অঞ্চলে জামায়াতের জন্যও নতুন অধ্যায়।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বাতাসন লোহানীপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা নজির হোসাইন আহমদ, মা রমিছা বেগম।
১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে পরের বছর তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে (Carmichael College) ভর্তি হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) থেকে ১৯৮০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। সংসদের তথ্যে তাঁর পেশা ব্যবসা।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের রাজনীতিতে যুক্ত হন; মামলার নথি অনুযায়ী ১৯৭১ সালে সংগঠনটির রংপুর জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। পরে জামায়াতে ইসলামীতে সক্রিয় হয়ে ১৯৯১ সালে ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (Ali Ahsan Mohammad Mujahid) গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
রংপুর-২ আসনে তিনি ১৯৯৬ সালে ৮,২৭৩ ভোট ও ২০০১ সালে ১৭,৭৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ২০০৮ সালে ৩৬,৫৮৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
১৯৭১ সালে রংপুর অঞ্চলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ সেই দণ্ড বহাল রাখে। রিভিউ আবেদনের পর পুনরায় আপিল শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের (Syed Refaat Ahmed) নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ তাঁকে খালাস দেয় এবং পরদিন তিনি মুক্তি পান।
কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তিনি দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তির পর দল তাঁকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মনোনীত করে।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮০,৯২১ জন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার (Mohammad Ali Sarkar)। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মণ্ডলও (Anisul Islam Mondal) এ আসনে প্রার্থী ছিলেন।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে জামায়াত কখনো এ আসনে জয় পায়নি।
সূত্র: bdnews24.com ১, dhakatribune.com ১, prothomalo.com, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bdnews24.com ২, thefinancialexpress.com.bd, en.bonikbarta.com, tbsnews.net, dhakatribune.com ২, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। দলে তিনি নায়েবে আমীর; ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সমাপনী অধিবেশনে তিনি এ পদে শপথ নেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর কাজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব, আইন প্রণয়ন ও বাজেট বিতর্কে অংশ নেওয়া এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ১২ মার্চ ২০২৬ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য যে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনীত করেন, তিনি তার সদস্য; স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা ক্রম অনুযায়ী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
২৮ জুন ২০২৬ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় তিনি অবিলম্বে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ, মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন এবং সুদমুক্ত অর্থায়নের জন্য সুকুক বন্ড ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। ঋণনির্ভরতা ও রাজস্ব আদায়ের অনিশ্চয়তার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে মত দেন এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সূত্র: bssnews.net, dailyinqilab.com, en.prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
রংপুর-২ জাতীয় সংসদের ২০ নম্বর আসন, রংপুর বিভাগের রংপুর জেলায়। সীমানা অনুযায়ী আসনটি তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত; দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৪৩০ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮০,৯২১ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১,৯২,২৮৭, নারী ১,৮৮,৬২৫ এবং হিজড়া ৯ জন।
বদরগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৩০১.২৮ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। পশ্চিমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর, পূর্বে রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,১৪,৮৬৫। অর্থনীতি কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, আলু ও সবজি প্রধান ফসল, আর এখানকার শতরঞ্জি পরিচিত কুটিরশিল্প। যমুনেশ্বরী, চিকলী ও কাটগড়া এখানকার নদী। লালদিঘির নয় গম্বুজ মসজিদ, হজরত বদরুদ্দিন শাহের মাজার ও বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য; ১৯৭১ সালের ঝাড়ুয়ার বিল ও পদ্মপুকুর বধ্যভূমিও এই উপজেলায়।
উত্তরের তারাগঞ্জ উপজেলার আয়তন ১২৮.৬৬ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন পাঁচটি; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৬০,৮৯৫। প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের আয় কৃষি থেকে; ধান, আলু, আদা, তামাক ও পাট প্রধান ফসল। যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদী এবং উত্তরাঞ্চলের বড় বাজার তারাগঞ্জ হাট এখানে। মুঘল আমলের চার গম্বুজ তারাগঞ্জ মসজিদ ও ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত তারাগঞ্জ ও. এ. ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য।
আসনের সীমানা বিভিন্ন সময়ে বদলেছে। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (Hussain Muhammad Ershad) জেতেন; ১৯৯৬ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ২০০১ সালে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মোহাম্মদ আলী সরকার এবং ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মণ্ডল আসনটি পান। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের আহসানুল হক চৌধুরী এবং ২০২৬ সালে প্রথমবার জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, dhakatribune.com, bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- এ টি এম আজহারুল ইসলাম
BJEIবিজয়ী১,৩৫,৫৫৬৫২.৯%
- Mohammad Ali Sarkar
BNP৮০,৫৩৮৩১.৪% - Anisul Islam MondolJP(ERSHAD)৩৩,৯৩০১৩.২%
- Md Ashraf Ali
IAB৫,৮৫৮২.৩% - Md Azizur RahmanJSD৩২১০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৭)
আসন: রংপুর-২
আসনের পাতা →(ক)তারাগঞ্জ এবং(খ) বদরগঞ্জ উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর