মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আলী আজম মোঃ আবু বকর

আলী আজম মোঃ আবু বকর

Ali Azam Md. Abu Bakr

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আলী আজম মোঃ আবু বকর ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির, ঝিনাইদহ। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আলী আজম মোঃ আবু বকর (Ali Azam Md. Abu Bakr) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর নাম কখনো আবু বক্কর বা আবুবকর বানানেও লেখা হয়।

পেশায় শিক্ষক এই রাজনীতিক জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ জেলা শাখার আমির। দলীয় কর্মসূচি ও সংবাদমাধ্যমে তাঁর নামের আগে সাধারণত ‘অধ্যাপক’ লেখা হয়।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী আলী আজম মোঃ আবু বকরের জন্ম ১৯৬৯ সালের ২৭ অক্টোবর; তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম শেখ মোঃ এছেম আলী এবং মায়ের নাম জামিলা খাতুন।

রাজনৈতিক জীবন

আলী আজম মোঃ আবু বকরের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে। দলটির ঝিনাইদহ জেলা শাখার আমির হিসেবে তিনি জেলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাঁকে ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রার্থী করে। প্রচারণার সময় ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ঝিনাইদহ শহরের আল-হেরা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং জামায়াতের সমর্থকদের, বিশেষ করে নারী সমর্থকদের হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, প্রতিটি ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে; তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঝিনাইদহ-২ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আলী আজম মোঃ আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,৯৫,৭০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ (Md. Abdul Majid) পান ১,৭৫,৯৮৪ ভোট। ফলে তিনি ১৯,৭১৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। আসনের ৫,০৬,৬৩৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ৭৫.৯৩ শতাংশ এবার ভোট দেন, আর বৈধ ভোটের প্রায় ৫১.৮ শতাংশ পান তিনি। ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed) আগারগাঁওয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন।

এই নির্বাচনে বিএনপির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহের চারটি আসনের তিনটিতে জয় পায় জামায়াতে ইসলামী: ঝিনাইদহ-২ ছাড়াও ঝিনাইদহ-৩ ও ঝিনাইদহ-৪। জেলার বাকি আসনটি, ঝিনাইদহ-১, পায় বিএনপি।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bd-pratidin.com, bssnews.net, prothomalo.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, unb.com.bd, bangla.thedailystar.net, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৭ অক্টোবর ১৯৬৯, ৫৬ বছর
জন্মস্থানঝিনাইদহ সদর উপজেলা, ঝিনাইদহ জেলা
লিঙ্গপুরুষ
পেশাশিক্ষক
পিতাশেখ মোঃ এছেম আলী
মাতাজামিলা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন; সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০৩১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সংসদ সদস্য হিসেবে আলী আজম মোঃ আবু বকরের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুণ্ডুর মানুষের দাবি সংসদ ও সরকারের কাছে তুলে ধরা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঝিনাইদহের ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন, সেখানে ডাস্টবিন ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বিতরণ করেন, চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং শিশু হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর দাবি জানান। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পোড়াহাটি ইউনিয়নে এক সংবর্ধনায় তিনি বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক সহ্য করা হবে না। ১৮ অক্টোবর সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে জেলা জামায়াতের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, bssnews.net, risingbd.com, dailysangram.com, ajkerpatrika.com, dhakamail.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ঝিনাইদহ-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ঝিনাইদহ-২ জাতীয় সংসদের ৮২ নম্বর আসন, খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলায়। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী নলডাঙ্গা, ঘোড়াশাল, ফুরসুন্দি ও মহারাজপুর ইউনিয়ন বাদে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা এবং পুরো হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,০৬,৬৩৮ জন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আয়তন ৪৭০.১১ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে পুরো উপজেলার জনসংখ্যা ৫,৪৩,৯০৬। ঝিনাইদহ পৌরসভা এবং উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ১৩টি এই আসনের অংশ। নবগঙ্গা ও বেগবতী নদী এ উপজেলার প্রধান নদী। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, পান, কলা, খেজুরের গুড় ও সবজি এখান থেকে বাইরে যায়, রয়েছে চাল, ডাল, আটা ও তেলের কল। জেলা শহরের সরকারি কেসি কলেজ (১৯৬০), ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৭৭), শিশু হাসপাতাল ও চক্ষু হাসপাতাল এখানকার পরিচিত প্রতিষ্ঠান।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা ঝিনাইদহ সদরের উত্তরে, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমানাঘেঁষা। আয়তন ২২৭.৫৪ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,১৮,৮৫৭; একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। কুমার ও নবগঙ্গা নদী এবং কয়েকটি বাঁওড় রয়েছে। কর্মজীবীদের প্রায় ৭৮ শতাংশ কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, আখ ও পান প্রধান ফসল। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাউল সাধক লালন শাহ (Lalon Shah) ও পাঞ্জু শাহের জন্ম এই উপজেলায়। লালন শাহ সরকারি কলেজ (১৯৭২) এবং ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জোড়াদহ ও হরিণাকুণ্ডু প্রিয়নাথ উচ্চ বিদ্যালয় এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে আসনটিতে জেতেন বিএনপির মসিউর রহমান (Mashiur Rahman)। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মো. শফিকুল ইসলাম, ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে তাহজীব আলম সিদ্দিকী এবং ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে প্রথমবার জয় পায় জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন সময়ের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে আগের ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নাও হতে পারে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, bssnews.net, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ঝিনাইদহ-২বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,৭৮,১৪৮ ভোট
  1. আলী আজম মোঃ আবু বকরBJEIবিজয়ী১,৯৫,৭০২৫১.৮%
  2. Md Abdul MajidBNP১,৭৫,৯৮৪৪৬.৫%
  3. HM Momtajur RahmanIAB৪,৫৭১১.২%
  4. Saogat ul IslamJP(ERSHAD)৯৯৪০.৩%
  5. Md Abu TowabCPB৫৫৭০.১%
  6. Md Asadul IslamBasad৩৪০০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: ঝিনাইদহ-২

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত ঝিনাইদহ সদরঃ নলডাঙ্গা, ঘোড়াশাল, ফুরসুন্দি ও মহারাজপুর এবং (খ)হরিণাকুণ্ডু উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →