
ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান
Dr Md Shafiqur Rahman
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman) ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনের সংসদ সদস্য এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) আমির; ২০১৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে দলটির শীর্ষ পদে আছেন। এটি তাঁর প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।
পেশায় চিকিৎসক শফিকুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই সাংগঠনিক রাজনীতিতে যুক্ত। সিলেটে দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের পর তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদে প্রবেশ করেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে তাঁর জন্ম। বাবা মো. আবরু মিয়া, মা খতিবুন্নেছা। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
১৯৭৪ সালে বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ (বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নেন।
১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি আমেনা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। আমেনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এই দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখা ও পরে সিলেট শাখার সভাপতি হন। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন, পরের বছর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হন এবং সিলেটের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০১৬ সালে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান। রুকনদের ভোটে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মকবুল আহমাদের (Maqbul Ahmad) উত্তরসূরি হিসেবে তিনি দলের আমির নির্বাচিত হন। ২০২৩–২০২৫ মেয়াদেও আমির ছিলেন; ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ঘোষিত ফলে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য টানা তৃতীয়বার আমির নির্বাচিত হন।
২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়; প্রায় ১৫ মাস পর হাইকোর্টের জামিনে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
সংসদ নির্বাচনে তিনি ২০০১ সালে মৌলভীবাজার-২ এবং ২০১৮ সালে ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে জয়ী হননি।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে আটজন প্রার্থী ছিলেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শফিকুর রহমান পান ৮৫,১৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান (Md. Shafiqul Islam Khan) পান ৬৩,৫১৭ ভোট। ব্যবধান ছিল ২১,৬১৪ ভোট।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সিলেটে চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবায় যুক্ত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সেখানকার চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, মানবসেবার জন্যই হাসপাতালটি গড়ে তোলা হয়েছে, আর প্রতিষ্ঠানটি সিলেটে নারীশিক্ষা এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ২০১৯ সালে আমির নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), thedailystar.net, unb.com.bd ১, en.prothomalo.com, bangla.thedailystar.net, dhakatribune.com, tbsnews.net, prothomalo.com, unb.com.bd ২, bssnews.net, bangla.bdnews24.com, inews.zoombangla.com। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং সেদিনই সংসদীয় দলের সভায় বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত হন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে স্বীকৃতি দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে সরকারের বাইরে থাকা বৃহত্তম দল বা জোটের নেতৃত্ব দেন, সরকারের নীতি ও আইন প্রণয়নে বিরোধী পক্ষের অবস্থান তুলে ধরেন এবং জবাবদিহি নিশ্চিতে ভূমিকা রাখেন। পদটি পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুবিধাসম্পন্ন।
স্বাধীনতা দিবসে, ২৬ মার্চ, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে প্রায় ১৮ মিনিট বৈঠক করেন। ১৫ জুলাই দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি সংসদকে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মিলনস্থল করার আহ্বান জানান এবং বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য বিশেষ পুনর্বাসনের দাবি তোলেন। ২৭ আগস্ট সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে তিনি বিরোধী সদস্যদের নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
সূত্র: bangla.bdnews24.com ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), en.prothomalo.com, bangla.bdnews24.com ২, observerbd.com ১, observerbd.com ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ঢাকা-১৫ জাতীয় সংসদের ১৮৮ নম্বর আসন, ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় অবস্থিত এবং পুরোটাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি উত্তর সিটির ০৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত; এলাকাটি মিরপুর ও কাফরুল থানার আওতায় পড়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৫১,৭১৮ জন: পুরুষ ১,৭৯,৬১৬, নারী ১,৭২,০৯৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চারটি ওয়ার্ডে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার মানুষের বাস। কাফরুল থানা পুরোটাই এই আসনে পড়েছে: ৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ মিলিয়ে থানাটির জনসংখ্যা ৩,৩৯,৭৮৯। মিরপুর থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড (১,৭৩,৩৩০ জন) এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অবশিষ্ট অংশও (৯৬,৩৭৬ জন) এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
ঘনবসতিপূর্ণ এই আবাসিক এলাকায় পোশাকশ্রমিক, তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারসহ বিপুলসংখ্যক শহুরে মানুষ থাকেন; দোকানপাট, পরিবহন ও পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অংশ। কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাফরুল, উত্তর কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, মনিপুর, ষাট ফুট সড়ক, মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও মিরপুর-১৪ মোড় এখানকার পরিচিত এলাকা। রোকেয়া সরণি ধরে চলা মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশন এই আসনে। জলাবদ্ধতা, দুর্বল পয়োনিষ্কাশন, যানজট, খোলা জায়গা কমে যাওয়া এবং মেট্রোরেল চালুর পর বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এখানকার প্রধান নাগরিক সমস্যা হিসেবে উঠে আসে।
২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণে রাজধানীর আসনসংখ্যা বাড়ানো হলে আসনটি নতুন করে গঠিত হয়, তাই আগের ঢাকা-১৫ আর বর্তমান এলাকা এক নয়। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার (Kamal Ahmed Majumder) এখানে টানা চারবার জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), prothomalo.com, khoborsangjog.com, tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, citypopulation.de। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান
BJEIবিজয়ী৮৫,১৩১৫৫.৮%
- Md. Safiqul Islam Khan
BNP৬৩,৫১৭৪১.৭% - Md Shamsul HaqueJP(ERSHAD)১,৪২১০.৯%
- Ahmed Sajedul HaqueCPB৭৯৬০.৫%
- Md. Nilav ParvezCPB৭০৫০.৫%
- Khan Shoaib AmanullahJanotar Dol৩৭৮০.২%
- Mubarak HossainBSP৩২৬০.২%
- Md. Ashfaqur RahmanBangladesh JaSad২১০০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৭)
আসন: ঢাকা-১৫
আসনের পাতা →ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড- ০৪,১৩,১৪, ও ১৬
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর