
হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার
Hafez Muhammad Rabiul Bashar
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার (Hafez Muhammad Rabiul Bashar) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আশাশুনি ও কালীগঞ্জ (কালিগঞ্জ) উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য। স্থানীয় রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে তিনি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার নামে পরিচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই তিনি সংসদে এসেছেন।
পবিত্র কোরআনের হাফেজ রবিউল বাশার পেশায় শিক্ষক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য এবং দলের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক আমির।
শৈশব ও পরিবার
রবিউল বাশারের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি; তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায়। তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ সরদার, মা আনোয়ারা খাতুন।
রাজনৈতিক জীবন
রবিউল বাশারের রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা সংগঠনকে ঘিরে। দীর্ঘদিন জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় তিনি জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে, গণ-অভ্যুত্থানের পরপর, দেবহাটার সখিপুরে ছাত্র-জনতার এক শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউকে হয়রানি বা হামলা না করার, যেকোনো ধর্মের মানুষের বাড়িঘর ও সম্পদে আঘাত না করার এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই বছরের ১৫ অক্টোবর সখিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয় উদ্বোধনে জেলা আমির হিসেবে তিনি বলেন, নেতার নয়, নীতির পরিবর্তন প্রয়োজন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত সাতক্ষীরার চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলে সাতক্ষীরা-৩ আসনে তাঁর নাম আসে; তখন তিনি কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির। পরে তিনি ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নামেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে সাতক্ষীরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের (Shafiqur Rahman) নির্বাচনী জনসভায় তিনিও বক্তব্য দেন। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আশাশুনির প্রতাপনগরে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, জামায়াতকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও জমি দখলসহ দুর্নীতি নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে এবং সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে রবিউল বাশার পান ১,৮৪,২৩৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল আলম (Md. Shahidul Alam) ফুটবল প্রতীকে পান ১,০৫,৩৭৯ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৭৮,৮৫৪ ভোট। বিএনপির (Bangladesh Nationalist Party) প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন (Kazi Alauddin) ৫৬,৮১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। মোট ছয়জন প্রার্থীর এই লড়াইয়ে রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী বৈধ ভোট ছিল ৩,৫০,২৩৩ এবং ভোট পড়ে ৭০.৯৯ শতাংশ। প্রথম আলোর বিশ্লেষণে বলা হয়, বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় বিরোধের জেরে শহিদুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এই নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), জাতীয় সংসদ ১, satkhirarsakal.com, bartabazar.com, khulnagazette.com, banglatribune.com, bangla.bdnews24.com, dailysangram.com ১, dailysangram.com ২, 103.183.38.66, bssnews.net, prothomalo.com, en.prothomalo.com, tbsnews.net, ajkerpatrika.com, জাতীয় সংসদ ২। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য; সংসদে তিনি বিরোধী দলের সদস্য। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদে গঠিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের তিন সদস্যের একজন তিনি; কমিটির সভাপতি সরকারি দলের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া (Md. Akhtaruzzaman Mia)।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রবিউল বাশার মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর কাজ পর্যালোচনা ও তদারকিতে অংশ নেন। নির্বাচনী এলাকায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি আশাশুনি উপজেলার দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনা দেন। ১১ মে ২০২৬ আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন; হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল সংকট চরম আকার নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং যন্ত্রপাতির সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দেন। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দরিদ্র হিন্দু পরিবারের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে তিনি সব ধর্মের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সম্প্রীতির সমাজ গড়ার কথা বলেন এবং পূজায় নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।
সূত্র: ajkerpatrika.com, voiceofsatkhira.com, patradoot.net, deshrupantor.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
সাতক্ষীরা-৩ জাতীয় সংসদের ১০৭ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ (কালিগঞ্জ) ও আশাশুনি উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত; দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭০৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী এখানে ভোটার ছিলেন ৫,০২,২২১ জন।
কালীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে শ্যামনগর। আয়তন ৩৩৩.৭৮ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,০৫,৪৯৫। ১২টি ইউনিয়নের এই উপজেলার নদী কাকশিয়ালী, গলঘেসিয়া ও কালিন্দী। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, আলু ও পান হয়, আর পান ও চিংড়ি বাইরে যায়। প্রবাজপুর জামে মসজিদ, নলতায় পীর আহছানউল্লাহর মাজার, মথুরেশপুরে বিক্রমাদিত্যের দুর্গ এবং কালীগঞ্জ সরকারি কলেজ এখানকার পরিচিত স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান।
আশাশুনি উপজেলার উত্তরে সাতক্ষীরা সদর ও তালা, পূর্বে পাইকগাছা ও কয়রা, দক্ষিণে শ্যামনগর। আয়তন ৩৭৪.৮১ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৮১,৭৫৮। ১১টি ইউনিয়নের এই উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ, বেতনা ও খোলপেটুয়া নদী। কৃষির পাশাপাশি মাছ ও চিংড়ি চাষ অর্থনীতির বড় ভিত্তি; চিংড়ি প্রধান রপ্তানি পণ্য। বুধহাটা শিব কালীমন্দির, শ্রীউলার তিন গম্বুজ মসজিদ ও আশাশুনি সরকারি কলেজ উল্লেখযোগ্য। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়; বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকি এখনো রয়েছে।
১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর এ এম রিয়াছাত আলী বিশ্বাস, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির আলী আহম্মেদ ও জুনে আওয়ামী লীগের এস এম মোখলেসুর রহমান জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারবার আসনটি আওয়ামী লীগের আ ফ ম রুহুল হকের দখলে ছিল; ২০২৬ সালে জেতেন জামায়াতের প্রার্থী। আগের সীমানায় দেবহাটা উপজেলা ও কালীগঞ্জের একাংশ এ আসনে ছিল; সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে দেবহাটা বাদ পড়ে এবং কালীগঞ্জের ভাড়াশিমলা, চাম্পাফুল, নলতা ও তারালী ইউনিয়ন যুক্ত হয়, তাই পুরোনো ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নয়।
সূত্র: 103.183.38.66, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, khulnagazette.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার
BJEIবিজয়ী১,৮৪,২৩৩৫২.৬%
- Md Shahidul AlamInd১,০৫,৩৭৯৩০.১%
- Kazi Alauddin
BNP৫৬,৮১৯১৬.২% - Md Waj Qurani
IAB২,৪৯৭০.৭% - Md Alip HossainJP(ERSHAD)৭২২০.২%
- Rubel HossainBMJP৫৮৩০.২%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: সাতক্ষীরা-৩
আসনের পাতা →(ক) কালিগঞ্জ উপজেলা এবং (খ) আশাশুনি উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…