
মোঃ আব্দুল করিম
Md Abdul Karim
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ আব্দুল করিম গাইবান্ধা-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির, গাইবান্ধা। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ আব্দুল করিম (Md Abdul Karim) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-২ (গাইবান্ধা সদর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। সংবাদমাধ্যমে তিনি আব্দুল করিম সরকার নামেও পরিচিত।
পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এই রাজনীতিক স্থানীয় সরকারে ইউনিয়ন পরিষদ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্যের পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী আব্দুল করিমের জন্ম ১৯৬০ সালের ৬ জুলাই। তাঁর বাবার নাম নজিব উদ্দিন এবং মায়ের নাম জরিনা খাতুন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলায়। সংসদের নথিতে তাঁর পেশা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন
আব্দুল করিমের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে। স্থানীয় সরকারে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনি জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি অনেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন।
জেলা আমিরের দায়িত্বে তিনি অন্তত ২০২৩ সাল থেকে আছেন। বিরোধী রাজনীতির সেই বছরগুলোতে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছে; তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী আগের সরকারের আমলে তিনি ২৬ মাস কারাগারে ছিলেন। তাঁর মতে, এই কারাবাস তাঁর ও তাঁর দলের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁকে গাইবান্ধা-২ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়; বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের কাছেই আসনটি তখন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছিল। সে সময় তিনি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের আশা প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-২ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৪,১১,৪৬০ জন। আব্দুল করিম পান ১,২২,৬৩০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আনিসুজ্জামান খান বাবু (Md Anisuzzaman Khan Babu) পান ৯২,৮৯০ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ২৯,৭৪০ ভোট। ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের ফল সংগ্রহ ও প্রচার কেন্দ্র থেকে তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ১৯৯১ সালের পর থেকে এ আসনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন; দ্বাদশ সংসদে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন স্বতন্ত্র শাহ সারোয়ার কবীর (Shah Sarwar Kabir)। এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো প্রার্থী আসনটিতে জয় পেলেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.prothomalo.com, banglatribune.com, thedailystar.net, bssnews.net, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, ittefaq.com.bd, জাতীয় সংসদ ২। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মেয়াদে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-২ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।
সংসদ সদস্য হিসেবে আব্দুল করিমের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার মানুষের দাবি ও সমস্যা সংসদ ও সরকারের কাছে তুলে ধরা। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোরে দলীয় নেতাকর্মী ও জেলা স্কাউটসের সদস্যদের নিয়ে তিনি গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজার এলাকা থেকে পুরাতন ব্রিজ ও ডিবি রোড হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান এবং পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডেই ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানান। পরদিন আগাম ঘোষণা ছাড়াই গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জরুরি বিভাগে জনবল বাড়ানো ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। ৭ মে হাটলক্ষ্মীপুরে এক মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে তিনি বালাসি-বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সদর হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
সূত্র: deshrupantor.com, dailynayadiganta.com, sarabangla.net, dailysangram.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
গাইবান্ধা-২ জাতীয় সংসদের ৩০ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো গাইবান্ধা সদর উপজেলা নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা শহর গাইবান্ধা পৌরসভা (৯টি ওয়ার্ড) এবং লক্ষ্মীপুর, মালিবাড়ী, কুপতলা, সাহাপাড়া, বল্লমঝাড়, রামচন্দ্রপুর, বাদিয়াখালী, বোয়ালী, খোলাহাটী, ঘাগোয়া, গিদারী, কামারজানি ও মোল্লারচর, এই ১৩টি ইউনিয়ন। আসনটি রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায়। উপজেলার আয়তন প্রায় ৩২৪ বর্গকিলোমিটার, আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৪,১১,৪৬০ জন।
উপজেলার পূর্ব সীমানা ধরে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র; ঘাঘট ও বাঙালি নদীও এ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৪,৯৯,১৯৬, যার প্রায় ২৬ শতাংশ শহরে বাস করেন। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, আলু, সরিষা, ভুট্টা ও সবজি প্রধান ফসল। বিসিক শিল্পনগরীতে কিছু ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠেছে। দারিয়াপুর, লক্ষ্মীপুর, সাহাপাড়া, ঘাগোয়া ও কামারজানির হাট এলাকায় পরিচিত। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধা কলেজ এবং কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঐতিহ্যের নিদর্শনের মধ্যে আছে মীরের বাগান মসজিদ ও ১৮৫৮ সালের ভবানীগঞ্জ ডাকঘর। গাইবান্ধা থানা গঠিত হয় ১৮৫৭ সালে, উপজেলায় উন্নীত হয় ১৯৮৪ সালে।
১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা জেলা গঠনের পর আসনটি গঠিত হয়। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকারের, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এ বিএনপির এবং ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের লুৎফর রহমানের হাতে ছিল। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মাহাবুব আরা বেগম গিনি জয়ী হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ সারোয়ার কবীর এবং ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আব্দুল করিম নির্বাচিত হন।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ আব্দুল করিম
BJEIবিজয়ী১,২২,৬৩০৫৬.৯%
- Md Anisuzzam Khan Babu
BNP৯২,৮৯০৪৩.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)
আসন: গাইবান্ধা-২
আসনের পাতা →গাইবান্ধা সদর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…