মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদ

মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদ

Md Fazlur Rahman Sayed

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদ জয়পুরহাট-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির, জয়পুরহাট। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদ (Md Fazlur Rahman Sayed) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-১ (৩৪ নম্বর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রথমবার সংসদে এসেছেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর জয়পুরহাট জেলার কোনো সংসদীয় আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এই প্রথম কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

তাঁর জন্ম ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি। বাবার নাম তছির উদ্দীন, মায়ের নাম শরীফুন নেছা।

রাজনৈতিক জীবন

জামায়াতে ইসলামীর জয়পুরহাট জেলা আমির হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জেলায় দলের সংগঠন পরিচালনা করছেন। এ আসনে দলের অতীত অভিজ্ঞতা খুব অনুকূল ছিল না: ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী তৃতীয় হন, আর ২০০১ ও ২০০৮ সালে দলটি এখানে প্রার্থী দেয়নি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই জামায়াত জয়পুরহাট-১ আসনে প্রস্তুতি শুরু করে। কেন্দ্রভিত্তিক দল গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করা ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যোগাযোগের মধ্য দিয়ে দল মাঠে সক্রিয় থাকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে রয়েছি।’

২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জয়পুরহাট শহরে জেলা জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি বক্তব্য দেন। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবায় জয়পুরহাট পিছিয়ে রয়েছে। তিনি দুর্নীতি দূর করাকে প্রথম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন এবং জয়পুরহাটে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানান। জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দেন; ৫ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাট শহরের জিরো পয়েন্টে গণভোটের প্রচারণায় আসা জামায়াতের প্রচারবাসকে তিনি স্বাগত জানান।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১,৬৫,১৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. মাসুদ রানা প্রধান (Md Masud Rana Prodhan) পান ১,৫৫,৩০৯ ভোট; ব্যবধান ৯,৮৮৩ ভোট। মাসুদ রানা প্রধান জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এ আসনের প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধানের ছেলে। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার পান ১৩,২৮৬ ভোট। আসনটির ৪,৬৬,২৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ৩,৪১,৫৫৬টি ভোট পড়ে, যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ৩,৩৪,৯৮২টি। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের ফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে এ আসনের ফল জানান।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, deshrupantor.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২, bangla.bdnews24.com, bssnews.net ৩, dailysangram.com, tbsnews.net, thefinancialexpress.com.bd, ittefaq.com.bd, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২০ জানুয়ারি ১৯৬৯, ৫৭ বছর
লিঙ্গপুরুষ
পিতাতছির উদ্দীন
মাতাশরীফুন নেছা
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর সংসদ সদস্য পদের মেয়াদ শুরু হয়। ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে আছেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাজেট ও সরকারের কাজের তদারকিতে অংশ নেওয়া এবং জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবির মানুষের দাবি সংসদে তুলে ধরা তাঁর মূল দায়িত্ব। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনায় অংশ নেন; কমিটির সভাপতি পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (Shamsur Rahman Shimul Biswas)।

নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জয়পুরহাট শহরের পূর্ব বাজার এলাকায় নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে সড়ক পরিষ্কার করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।’ সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করার লক্ষ্যের কথাও তিনি জানান। ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ইফতার মাহফিলে অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

সূত্র: ittefaq.com.bd, dhakatimes24.com, thebangladeshtoday.com, dailysangram.com, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

জয়পুরহাট-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

জয়পুরহাট-১ জাতীয় সংসদের ৩৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। এটি রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত; বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৫৪৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬৬,২৭৪ জন।

জেলা শহর নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট সদর উপজেলার আয়তন ২৩৬.৭৯ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,১৫,২০৫। একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি; ধান, পাট, গম, আলু, আখ, সরিষা ও সবজি প্রধান ফসল। জয়পুরহাট চিনিকলসহ চালকল ও সিমেন্ট কারখানা এখানকার উল্লেখযোগ্য শিল্প। জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ, বেলআমলার বারো শিবালয় মন্দির এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি এ উপজেলায়।

জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তঘেঁষা পাঁচবিবি উপজেলার আয়তন ৩১১.৭৭ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৩৯,৬১২। আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার ওপর দিয়ে ছোট যমুনা, তুলসীগঙ্গা ও হরবতী নদী বয়ে গেছে। কৃষিই প্রধান জীবিকা; এখানকার কচু ও কচুর লতি বিদেশেও রপ্তানি হয়। লকমা জমিদারবাড়ি, তুলসীগঙ্গার তীরে পাথরঘাটা এবং মহিপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজ উল্লেখযোগ্য।

জয়পুরহাট-১ নামের আসনে ১৯৯১ সালে গোলাম রব্বানী, ১৯৯৬ (জুন) ও ২০০১ সালে আব্দুল আলীম এবং ২০০৮ সালে মোজাহার আলী প্রধান নির্বাচিত হন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আসনটি আওয়ামী লীগের সামছুল আলম দুদুর হাতে ছিল। ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রথমবার এ আসনে জয় পায়। বর্তমান সীমানা ২০২৫ সালের পুনর্নির্ধারণ অনুযায়ী; আগের ফলগুলো সংশ্লিষ্ট সময়ের সীমানার আসনের।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, tbsnews.net, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬জয়পুরহাট-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,৩৪,৯৮২ ভোট
  1. মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদBJEIবিজয়ী১,৬৫,১৯২৪৯.৩%
  2. Md Masud Rana ProdhanBNP১,৫৫,৩০৯৪৬.৪%
  3. Sabekun NaharInd১৩,২৮৬৪.০%
  4. Towfika DewanSPB-M৬১৭০.২%
  5. Md Wazed ParvejBasad৫৭৮০.২%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদ, ৩৪ জয়পুরহাট-১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: জয়পুরহাট-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)জয়পুরহাট সদর এবং(খ) পাঁচবিবি উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →