মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ গোলাম রব্বানী

মোঃ গোলাম রব্বানী

Md Golam Rabbani

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ গোলাম রব্বানী রংপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, রংপুর জেলা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ গোলাম রব্বানী (Md Golam Rabbani) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমীর এই রাজনীতিক ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

মিঠাপুকুরে ও সংবাদমাধ্যমে তিনি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী নামে পরিচিত। শিক্ষকতা, স্থানীয় সরকার ও দলীয় সংগঠন, তিন ক্ষেত্রেই তাঁর কাজের কেন্দ্র নিজের উপজেলা মিঠাপুকুর।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

গোলাম রব্বানী ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোয়াজ্জম হোসেন, মাতা মোছা. ফাতেমা খাতুন। তাঁর স্ত্রী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক; তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে।

রাণীপুকুর হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে (Carmichael College) ভর্তি হন এবং সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

রাজনৈতিক জীবন

তাঁর ওয়েবসাইট অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীতে তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে চার বছর এবং উপজেলা আমীর হিসেবে সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব শেষে তিনি রংপুর জেলা জামায়াতের আমীর হন।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন; তাঁর ওয়েবসাইটের হিসাবে তিনি পান ১,২৫,৯৮৩ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ৫৫.৫১ শতাংশ। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে রংপুর-৫ আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মনোনয়নপত্র গৃহীত হলেও যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৫ সালের নভেম্বরে জামায়াত ও বিএনপি দুই দলই রংপুর-৫ আসনে গোলাম রব্বানী নামের দুই কলেজশিক্ষককে প্রার্থী করে; বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ফেসবুকে প্রতিদ্বন্দ্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী নই, সমাজ পরিবর্তনের সহযাত্রী।” প্রচারণার অংশ হিসেবে ২২ নভেম্বর ২০২৫ তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নজুড়ে জামায়াতের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ১,৭৬,৪১১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম রব্বানী পান ১,১৫,১১৬ ভোট; ব্যবধান ৬১,২৯৫ ভোট। আসনটিতে ভোটার ছিলেন ৪,৬৯,১৮৯ জন, ভোট পড়ে ৬৮.৩১ শতাংশ। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের জেতা আসনটি এভাবে জামায়াতের হাতে আসে। একই নির্বাচনে রংপুর জেলার ছয়টি আসনের সবকটিতেই জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা জয়ী হয়।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

তাঁর ওয়েবসাইট অনুযায়ী ১৯৯০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি অবসরে যান। একই সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য হওয়ার আগে দীর্ঘদিন তিনি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ, শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র এবং অসুস্থ ও বন্যা-অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), golamrabbani.info, dhakatribune.com, thedailystar.net, today.thefinancialexpress.com.bd, en.prothomalo.com, sarabangla.net, khoborsangjog.com, dailysangram.com, deshrupantor.com, bonikbarta.com, bssnews.net, tbsnews.net, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, bn.banglapedia.org। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৫ জানুয়ারি ১৯৬৩, ৬৩ বছর
জন্মস্থানমিঠাপুকুর, রংপুর জেলা*
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষারাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজকারমাইকেল কলেজরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়*
পিতামোয়াজ্জম হোসেন
মাতামোছা: ফাতেমা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি একজন সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন, সরকারের কাজের তদারকি এবং মিঠাপুকুরের মানুষের দাবি সংসদে তুলে ধরা তাঁর মূল দায়িত্ব। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন। ১৩ জুন ২০২৬ তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে মিঠাপুকুরের ১৭টি ইউনিয়ন ও ৩৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ২,৫০০ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ১১ আগস্ট ২০২৬ রংপুরে জামায়াতের ১১ জন সংসদ সদস্যের সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন, যেখানে দলমত নির্বিশেষে রংপুরের সমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি ছিলেন। ৪ অক্টোবর ২০২৬ রেলপথ কমিটির বৈঠকে রেলের আয় বাড়াতে যাত্রীবাহীর চেয়ে মালবাহী ক্যারেজ বাড়ানো এবং খাতটিকে লোকসান থেকে লাভজনক করার সুপারিশ করা হয়।

সূত্র: prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, dailysdigantabd.com, prothomalo.com ৩, somoyerkonthosor.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

রংপুর-৫

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

রংপুর-৫ জাতীয় সংসদের ২৩ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি রংপুর বিভাগের রংপুর জেলার পুরো মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ৫১৫.৬২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটির ভোটার ছিলেন ৪,৬৯,১৮৯ জন।

জেলা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরের মিঠাপুকুরের পশ্চিমে বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। ১৮৮৫ সালে থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি উপজেলায় উন্নীত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫,৩৮,৭২৩, খানা ১,৫২,৫৪৪ এবং সাত বছরের বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৬৯.৩৩ শতাংশ। যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও আখিরা এখানকার প্রধান নদী।

অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, আলু, আখ, ভুট্টা ও সবজি প্রধান ফসল। খোড়াগাছ ইউনিয়নে উদ্ভূত হাঁড়িভাঙা আম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। শঠিবাড়ি, জায়গীরহাট ও শুকুরেরহাট উপজেলার পরিচিত হাট। পায়রাবন্দে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার (Begum Rokeya) জন্মস্থান ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র অবস্থিত। তিন গম্বুজবিশিষ্ট মিঠাপুকুর মসজিদ, লতিফপুরের টাকা মসজিদ, ফুলচৌকি মসজিদ ও বেনুবন বৌদ্ধ বিহার এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয় (১৯৭০) ও পায়রাবন্দ সরকারি বেগম রোকেয়া স্মৃতি কলেজ পরিচিত।

রংপুর-৫ আসনে ১৯৯১ ও জুন ১৯৯৬-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (Hussain Muhammad Ershad) জয়ী হন; তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে যথাক্রমে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শাহ মোঃ সোলায়মান আলম এবং ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের আশিকুর রহমান জয়ী হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার এবং ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী আসনটিতে নির্বাচিত হন।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), bn.banglapedia.org, mithapukur.rangpur.gov.bd, dailynayadiganta.com, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬রংপুর-৫বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,০৬,৪৭১ ভোট
  1. মোঃ গোলাম রব্বানীBJEIবিজয়ী১,৭৬,৪১১৫৭.৬%
  2. Md. Golam RabbaniBNP১,১৫,১১৬৩৭.৬%
  3. S.M. Fakhruz ZamanJP(ERSHAD)১৪,৯৪৪৪.৯%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উৎসে ৮ জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা নেই। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: রংপুর-৫

আসনের পাতা →
এলাকা

মিঠাপুকুর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →