
মোঃ গোলাম রছুল
Md. Golam Rasul
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ গোলাম রছুল যশোর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির, যশোর। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ গোলাম রছুল (Md. Golam Rasul) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) এই নেতা প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন এবং যশোর জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশায় তিনি শিক্ষক। ১৯৯৬ সাল থেকে ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন; স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি অধ্যাপক গোলাম রসুল নামেও পরিচিত।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
গোলাম রছুলের জন্ম ১৯৭১ সালের ১ মার্চ, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার একটি শিক্ষিত মুসলিম পরিবারে। তাঁর বাবা মোঃ ছিদ্দিক আহম্মাদ, মা আনোয়ারা খাতুন। বাঘারপাড়া সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে নড়াইলের শাহাবাদ মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে তিনি কামিল পাস করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং যশোর জেলায় দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি যশোর জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরারও তিনি সদস্য। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই দল তাঁকে যশোর-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দৈনিক সংগ্রাম জানায়, আসনটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন প্রকৌশলী টি এস আইয়ুব ও অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে যশোর-৪ আসনে লড়েন। প্রচারে তিনি ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, নওয়াপাড়া শিল্পনগরীর বন্ধ কারখানা চালু করা, ভৈরব নদ সংস্কার করে নওয়াপাড়া নদীবন্দরে বড় জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের ৫০ শয্যার হাসপাতাল দুটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং বেকারদের প্রশিক্ষণের জন্য দুটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ার অঙ্গীকার করেন। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বন্ধের কথাও তিনি বলেন। ভোটের কয়েক দিন আগে তিনি তাঁর নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও প্রচারে বাধার অভিযোগ তুলে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আট প্রার্থীর এই লড়াইয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ১,৭৬,৯১২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি, Bangladesh Nationalist Party) মোঃ মতিয়ার রহমান ফারাজী (Md Matiar Rahman Farazi) পান ১,৩১,৯১৭ ভোট; ব্যবধান ৪৪,৯৯৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন পান ১১,৮৩৮ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৫৮,৫২৯ জন; ভোট পড়ে ৭২.২৭ শতাংশ। একই দিনের গণভোটে এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ২,৯৩,০৯৯টি এবং ‘না’ ভোট ১,১৫,০৩২টি।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
১৯৯৬ সালে তিনি যশোরের হামিদপুর আল-হেরা কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দৈনিক সংগ্রামের তথ্য অনুযায়ী তিনি এখন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি যশোর ফাউন্ডেশন, আল হেলাল ট্রাস্ট ও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রসহ কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), dailysangram.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে গঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তিনি সদস্য হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে গোলাম রছুল বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও বসুন্দিয়ার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন।
২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট অভয়নগর উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করে তিনি সংস্কার করা ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষি কমিটির প্রথম বৈঠকে সার বিতরণে কঠোর তদারকি, যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। নওয়াপাড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি জানান, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আমডাঙ্গা ও রাজাপুর খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২২ অক্টোবর জামায়াতের পাঁচ সংসদ সদস্যের সংবাদ সম্মেলনে তিনি যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করেন; বিএনপি অভিযোগ অস্বীকার করে।
সূত্র: itvbd.com, onenewsbd.com, dailynayadiganta.com, tbsnews.net। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
যশোর-৪ জাতীয় সংসদের ৮৮ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের যশোর জেলার বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা এবং যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৫৮,৫২৯ জন।
বাঘারপাড়া উপজেলার উত্তরে ঝিনাইদহ, পূর্বে মাগুরা ও নড়াইল জেলা। আয়তন ৩০৮.২৯ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৩৮,১০৬। একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের এই উপজেলার প্রধান নদী চিত্রা ও ভৈরব। কৃষিই মূল জীবিকা; ধান, গম, সরিষা, পাট, আখ ও সবজি হয়, আর কলা, পেঁপে ও কাঁঠাল বাইরে যায়। বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২), তেলকুপের জমিদারবাড়ি ও নারিকেলবাড়িয়া কালীমন্দির এখানকার পরিচিত প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।
অভয়নগর উপজেলার সদর নওয়াপাড়া। আয়তন ২৪৭.২১ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৯০,১৪৩, যার প্রায় ৪৬ শতাংশ শহরবাসী। নওয়াপাড়া পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। ভৈরব নদের তীরে নওয়াপাড়া নদীবন্দর এবং পাট, বস্ত্র, কাগজ ও চামড়ার কারখানা এখানকার অর্থনীতির ভিত্তি। সিদ্ধিপাশা রাজবাড়ি, এগারো দুয়ারি মন্দির ও নওয়াপাড়া কলেজ (১৯৬৪) উল্লেখযোগ্য। উপজেলার একাংশ ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ভোগে। যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের বসুন্দিয়া বাজার কাঁঠালের হাটের জন্য পরিচিত; এলাকাটি লিচু চাষের জন্যও খ্যাত।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের শাহ হাদিউজ্জামান, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির নজরুল ইসলাম এবং ২০০১ সালে এম এম আমিন উদ্দিন জয়ী হন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের রণজিৎ কুমার রায় এবং ২০২৪ সালে একই দলের এনামুল হক বাবুল নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে জেতেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। আগে এক সময় আসনটিতে অভয়নগরের বদলে যশোর সদরের কয়েকটি ইউনিয়ন ছিল, তাই পুরোনো ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নয়।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, bangla.thedailystar.net, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ গোলাম রছুল
BJEIবিজয়ী১,৭৬,৯১২৫৪.৪%
- Md Matiar Rahman Farazi
BNP১,৩১,৯১৭৪০.৬% - Bayezid Hossain
IAB১১,৮৩৮৩.৬% - Md. Zahurul HaqueJP(ERSHAD)১,৭৫১০.৫%
- Sukriti Kumar MandalBMJP১,৫১০০.৫%
- M Nazim Uddin Al-AzadInd৭৯৭০.২%
- Md Asheq Elahi
KM৩০১০.১% - Md Abul Kalam Gazi
GOP২৫৭০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: যশোর-৪
আসনের পাতা →(ক)বাঘারপাড়া,(খ) অভয়নগর এবং(গ) যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…