মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ ইজ্জত উল্লাহ

মোঃ ইজ্জত উল্লাহ

Md. Izzatullah

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (Md. Izzatullah) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া ও তালা) আসনের সংসদ সদস্য। সংবাদমাধ্যমে ও এলাকায় ‘অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ’ নামে পরিচিত এই শিক্ষক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

দলে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং খুলনা অঞ্চলের পরিচালক। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর পর আসনটি আবার জামায়াতের হাতে আসে; এর আগে ১৯৯১ সালে দলটি এখানে জিতেছিল।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী ইজ্জত উল্লাহর জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৬ জানুয়ারি; তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায়। তাঁর বাবা ইউসুফ আলী সানা, মা মোছাঃ রুপজান বিবি। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বলে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবন

জামায়াতে ইসলামীতে তিনি দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নিজের ওয়েবসাইট অনুযায়ী তিনি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির ছিলেন; পরে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উঠে আসেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত সাতক্ষীরার চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে; তখন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি সাতক্ষীরা-১ আসনে দলের প্রার্থী মনোনীত হন।

একই মাসে তালা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি আসনটিকে অবহেলিত এলাকা বলে উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক উন্নয়নকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কাজ করার কথা বলেন। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর লড়াইয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ১,৯৩,৭৭২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হাবিবুল ইসলাম হাবিব (Md. Habibul Islam Habib) পান ১,৬৯,৯৯৫ ভোট; ব্যবধান ২৩,৭৭৭ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান পান ২,৫৪৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মোঃ রেজাউল করিম পান ২,০৭১ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ ইয়ারুল ইসলাম ৭১৫ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৪,৯৬,৮৪৮ জন; বৈধ ভোট ৩,৬৯,০৯৭টি এবং ভোট পড়ার হার ৭৫.৬৪ শতাংশ। একই দিনের গণভোটে এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ২,২৮,৪০৪টি, ‘না’ ভোট ১,২১,২৫৬টি। এই নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন।

নির্বাচনের দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি পাটকেলঘাটা বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত তিনি জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন; এখন দল, মত ও পেশা নির্বিশেষে তালা-কলারোয়ার সব মানুষের প্রতিনিধি। বাজারের উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী পেশায় তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কলারোয়ায় আয়োজিত এক শিক্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর জোর দেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), mdizzatullah.com, prothomalo.com ১, khulnagazette.com, kalaroanews.com ১, kalaroanews.com ২, dailybanglarpraticchabi.com, dhakatimes24.com, prothomalo.com ২, bangla.thedailystar.net, dailysangram.com ১, dailysangram.com ২, tbsnews.net, 103.183.38.66, deshrupantor.com, bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৬ জানুয়ারি ১৯৫৬, ৭০ বছর
জন্মস্থানফয়জুল্লাহপুর, জালালাবাদ ইউনিয়ন, কলারোয়া, সাতক্ষীরা
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাঅবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক
পিতাইউসুফ আলী সানা
মাতামোছাঃ রুপজান বিবি
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই সংসদে গঠিত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে ইজ্জত উল্লাহ কলারোয়া ও তালার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজ ও প্রকল্প পর্যালোচনায় অংশ নেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি কলারোয়া উপজেলার সমাজসেবা, কৃষি, মৎস্য, মহিলাবিষয়ক ও শিক্ষা দপ্তর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে হাসপাতালকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ২৪ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় তিনি রাজস্ব ঘাটতি, ঋণের সুদ ব্যয় এবং ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানান; সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ৫ জুলাই কলারোয়ার উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে তিনি কর্মকর্তাদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সূত্র: deshrupantor.com, dailysangram.com, banglatribune.com, kalaroanews.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

সাতক্ষীরা-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

সাতক্ষীরা-১ জাতীয় সংসদের ১০৫ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৯৬,৮৪৮ জন।

কলারোয়া উপজেলা জেলার উত্তরাংশে; এর পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আর পূর্ব সীমানা ধরে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। আয়তন ২৩১.৪২ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৬১,২৭০। কলারোয়া পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, আলু, গম, পান ও সরিষা উৎপন্ন হয়, আর চিংড়ি, পাট ও পান বাইরে যায়। সোনাবাড়িয়ার শ্যামসুন্দর মন্দির, কলারোয়া সরকারি কলেজ (১৯৬৯) এবং খোরদো ও সরসকাটি বাজার এখানকার পরিচিত স্থান।

তালা উপজেলা কলারোয়ার দক্ষিণে, পূর্বে খুলনার ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা। আয়তন ৩৩৭.২৪ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,২৬,১১১। ১২টি ইউনিয়নের এই উপজেলা দিয়ে কপোতাক্ষ ও দলুয়া নদী প্রবাহিত। প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, গম, পাট, সরিষা ও আলু প্রধান ফসল, আছে চালকল ও তেলকল। তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, তালা বি দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৮), তালা সরকারি কলেজ (১৯৬৯) ও পাটকেলঘাটা বাজার উল্লেখযোগ্য।

১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা জেলা গঠনের সময় আসনটি তৈরি হয়। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর আনসার আলী, ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ কামাল বখত এবং ২০০১ সালে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব জয়ী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবুর রহমান, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ফিরোজ আহমেদ স্বপন নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে আসনটি আবার পায় জামায়াতে ইসলামী।

সূত্র: tbsnews.net, 103.183.38.66, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ২, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬সাতক্ষীরা-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,৬৯,০৯৭ ভোট
  1. মোঃ ইজ্জত উল্লাহBJEIবিজয়ী১,৯৩,৭৭২৫২.৫%
  2. Md Habibul Islam HabibBNP১,৬৯,৯৯৫৪৬.১%
  3. Ziaur RahmanJP(ERSHAD)২,৫৪৪০.৭%
  4. Sheikh Md Rezaul KarimIAB২,০৭১০.৬%
  5. Md Iyarul IslamBangladesh Congress৭১৫০.২%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: সাতক্ষীরা-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)কলারোয়া এবং(খ) তালা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →