মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ মশিউর রহমান খান

মোঃ মশিউর রহমান খান

Md Moshiur Rahman Khan

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ মশিউর রহমান খান বাগেরহাট-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ মশিউর রহমান খান (Md Moshiur Rahman Khan) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য। ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য।

পেশায় তিনি মাদরাসা শিক্ষক। এলাকায় তিনি অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান নামেই পরিচিত।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৬৮ সালের ২ জুন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় তাঁর জন্ম। পিতা সুলতান আহমদ খান, মাতা আছিয়া বেগম। আট ভাইবোনের মধ্যে পাঁচ ভাইয়ের চতুর্থ তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই মেয়ে ও দুই ছেলের জনক।

গ্রামের মক্তবে তাঁর লেখাপড়ার শুরু। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ১৯৭৫ সালে তিনি হিজলা আলিম মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮০ সালে দাখিল এবং ১৯৮২ সালে আলিম পাস করেন। ১৯৮৪ সালে রহমতপুর ফাজিল মাদরাসা থেকে ফাজিল এবং ১৯৮৬ সালে পিরোজপুরের ছারছিনা দারুস সুন্নাহ আলিয়া মাদরাসা থেকে হাদিস বিভাগে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবন

ছাত্রজীবনে ১৯৮২ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে যুক্ত হন এবং ১৯৮৩ সালে সংগঠনের কর্মী হন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে দলের সদস্য পদ লাভ করেন। তৎকালীন কর্মস্থল মাগুরায় ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সাত বছর তিনি মাগুরা পৌরসভা জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৯ সালে বাগেরহাটে ফিরে তিনি জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন। ২০০৪ সালে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে বাগেরহাট জেলা আমির নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত এক যুগ এই দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যের পাশাপাশি তিনি দলের খুলনা অঞ্চল টিমের সদস্য এবং বাগেরহাট জেলার কেয়ারটেকারের দায়িত্বে রয়েছেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ১,১৭,৫২৭ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল (Kapil Krishna Mondal) পান ১,১৪,৩২৩ ভোট; ব্যবধান ৩,২০৪ ভোট। নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী আসনটির ৩,৭৫,৫৬০ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়ে ২,৪৪,৮৭১টি; আট প্রার্থীর এই লড়াইয়ে তিনি প্রায় ৪৮ শতাংশ বৈধ ভোট পান। নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর এই আসনে এটিই জামায়াতে ইসলামীর প্রথম জয়।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

শিক্ষকতাই তাঁর কর্মজীবনের কেন্দ্র। ১৯৯৯ সাল থেকে আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। ধর্মীয় অঙ্গনেও তিনি নিজ এলাকায় পরিচিত মুখ: নয়া দিগন্তের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে তিনি নিজ গ্রামের ঈদগাহে ঈদের জামাতে ইমামতি করে আসছেন।

সূত্র: dailynayadiganta.com ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), 103.183.38.66, bssnews.net ১, tbsnews.net, banglatribune.com, bssnews.net ২, dailynayadiganta.com ২, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২ জুন ১৯৬৮, ৫৮ বছর
জন্মস্থানআড়ুয়াবর্নী চরপাড়া, চিতলমারী, বাগেরহাট
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাছারছিনা দারুস সুন্নাহ আলিয়া মাদরাসা, পিরোজপুর (হাদিসে কামিল)
পেশাঅধ্যক্ষ, আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসা, কচুয়া
পিতাসুলতান আহমদ খান
মাতাআছিয়া বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আইন প্রণয়ন ও সরকারের কাজের তদারকিতে অংশ নেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ও কার্যক্রম পর্যালোচনা তাঁর দায়িত্বের অংশ।

নির্বাচনের পর ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মোল্লাহাটে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি সবাইকে নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। ২৬ মে মোল্লাহাটে ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দেড় শতাধিক অসহায় মানুষের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম তিনি উদ্বোধন করেন। ১৩ জুলাই সংসদে কমিটিটি গঠিত হয়; ১৩ আগস্ট কমিটির বৈঠকে তিনি অংশ নেন, যেখানে মন্ত্রণালয়ের চলমান ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারাজ, ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং নদীভাঙন রোধের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র: prothomalo.com, dailyinqilab.com ১, bssnews.net, dailyinqilab.com ২, channel7tvbd.com, banglatribune.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

বাগেরহাট-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

বাগেরহাট-১ জাতীয় সংসদের ৯৫ নম্বর আসন। খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার উত্তরাংশে অবস্থিত এই আসন নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। তিন উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৫৪০ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৩,৭৫,৫৬০ জন: পুরুষ ১,৯০,৮৩৮, নারী ১,৮৪,৭২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন; ভোটকেন্দ্র ছিল ১৪৭টি।

জেলার পশ্চিমে খুলনার রূপসা ও বটিয়াঘাটার লাগোয়া ফকিরহাট উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১,৫৯,০১৯। কৃষিনির্ভর এই উপজেলার নারকেল, পান, সুপারি ও চিংড়ি বাইরে যায়। রূপসা, ভৈরব ও চিত্রা এখানকার উল্লেখযোগ্য নদী; ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মূলঘর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।

মধুমতী নদীর তীরে, গোপালগঞ্জের সীমানায় মোল্লাহাট উপজেলা; ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,৪৪,৬১৫। এখানকার প্রায় ৬৯ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; পান, আখ, খেজুরের গুড়, নারকেল ও মাছ উল্লেখযোগ্য পণ্য। মুক্তিযুদ্ধের এক সম্মুখযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে এই উপজেলায়।

উত্তরে টুঙ্গিপাড়ার লাগোয়া চিতলমারী উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালে ১,৫৩,০৩৩। মধুমতী, বলেশ্বর ও চিত্রা নদীঘেরা এই জনপদের প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী; ধান, পাট, ডাল, নারকেল ও সুপারি প্রধান ফসল।

১৯৮৪ সালে পুরোনো খুলনা জেলা ভাগ হলে খুলনা-১ আসন থেকে বাগেরহাট-১ গঠিত হয়। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় সব নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল; ব্যতিক্রম প্রধান দলগুলোর বর্জিত ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, যাতে বিএনপি জেতে। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসনটিতে জয় পায়। ২০২৫ সালে কমিশনের এক গেজেটে জেলার আসন চার থেকে তিনটিতে নামানো হলেও উচ্চ আদালত তা বাতিল করে, ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে আগের চার আসনের বিন্যাসই বহাল থাকে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), tbsnews.net, 103.183.38.66, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, newagebd.net, dailynayadiganta.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬বাগেরহাট-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৪৪,৮৭১ ভোট
  1. মোঃ মশিউর রহমান খানBJEIবিজয়ী১,১৭,৫২৭৪৮.০%
  2. Kapil Krishna MondalBNP১,১৪,৩২৩৪৬.৭%
  3. Md Sheikh Masud RanaInd৬,৪৬৭২.৬%
  4. M A H SelimInd৫,২৮৩২.২%
  5. S M Golam SarwarJP(ERSHAD)৫৭১০.২%
  6. Md Aminul IslamAB২৯১০.১%
  7. M D Shamsul HaqueBangladesh Muslim League২৪২০.১%
  8. A Sabur SheikhBML১৬৭০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: বাগেরহাট-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)ফকিরহাট,(খ) মোল্লাহাট এবং(গ) চিতলমারী উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →