
মোঃ মুজিবুর রহমান
Md. Mujibur Rahman
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ মুজিবুর রহমান রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান (Md. Mujibur Rahman) গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) সিনিয়র নায়েবে আমির। ইংরেজি সাহিত্যের এই শিক্ষক ১৯৮৬ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে সংসদে গিয়েছিলেন।
প্রায় চার দশক পর একই আসনে আবার জয়ী হয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এসেছেন। সংসদের নথিতে এটি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি, রাজশাহী জেলায়। বাবা সেরাজুল ইসলাম, মা হামিদা খাতুন। তাঁর স্থায়ী নিবাস গোদাগাড়ী উপজেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (University of Rajshahi) থেকে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও এমএ ডিগ্রি নেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ও ফারসি ভাষায় ডিপ্লোমা করেন। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি ইসলামী সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে মনোযোগ দেন। পরে একটি বেসরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের (Bangladesh Sramik Kalyan Federation) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
দলের নায়েবে আমির হিসেবে ২০১৬ ও ২০১৯ সালে আমির নির্বাচনের তিন সদস্যের প্যানেলে তাঁর নাম ছিল; ২০১৬ সালে ওই প্যানেল থেকে মকবুল আহমাদ (Maqbul Ahmad) আমির নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দলের আমির শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) গ্রেপ্তার হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান; ২০২৩ সালের জুনেও তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে দলের তিনজন নায়েবে আমিরের একজন হিসেবে তাঁর নাম প্রকাশিত হয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান। একই বছরের নভেম্বরে গোদাগাড়ীর ঠাকুর যৌবন গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের এক সমাবেশে তিনি সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
২০২৬ নির্বাচন
নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা জাতীয়করণ, গোদাগাড়ী-তানোর-রাজশাহী ও কাঁকনহাট সড়ক প্রশস্তকরণ, রাজাবাড়ী-বালিয়াঘাটায় পদ্মার ভাঙন রোধ, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে বিদ্যুতায়ন এবং নির্ধারিত দামে কৃষকের কাছে সার, বীজ ও সেচের পানি পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে তিনি ১,৭১,৭৮৬ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির (BNP) মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীন (Sharif Uddin) পান ১,৬৯,৯০২ ভোট; ব্যবধান ছিল ১,৮৮৪ ভোট। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে আসনটিতে ভোটার ছিলেন ৪,৬৮,৭৮০ জন, ভোট হয় ১৫৯টি কেন্দ্রে। এই জয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের হাত থেকে জামায়াতের কাছে আসে।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
শিক্ষকতা ও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করেছেন; তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা ৪০টির বেশি। ইসলামের আদর্শ তুলে ধরতে তিনি বিশ্বের ১৫টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, vote4mujibur.com, thedailystar.net, samakal.com, bangla.thedailystar.net, dailyinqilab.com, en.prothomalo.com, deshrupantor.com, bangla.bdnews24.com, bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, khoborsangjog.com। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শুরু হয় ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। দলীয় পদে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির।
সংসদ সদস্য হিসেবে গোদাগাড়ী-তানোরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি তিনটি সংসদীয় কমিটিতে কাজ করছেন। ১২ মার্চ ২০২৬ সংসদের প্রথম বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের বিশেষ কমিটির সদস্য হন তিনি। সেপ্টেম্বরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
৯ মার্চ তিনি গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাট দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামার পরিদর্শন করেন; জনবল সংকট, গভীর নলকূপ ও সীমানাপ্রাচীর মেরামতের মতো সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রস্তাব চান। ১৮ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে শ্রমিকদের বাজেট ভাবনা বিষয়ক আলোচনায় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য বরাদ্দের দাবি তোলেন। ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে বিশেষ অধিকার প্রশ্নের দুটি নোটিশে তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন এবং প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে তাঁর দেওয়া ডিও লেটার কার্যকর হয়নি।
সূত্র: bangla.bdnews24.com, banglatribune.com, জাতীয় সংসদ, bssnews.net, dailyinqilab.com, jugantor.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
রাজশাহী-১ জাতীয় সংসদের ৫২ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত; জেলাটি রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭১ বর্গকিলোমিটার, যেখানে ৪টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার ছিলেন ৪,৬৮,৭৮০ জন।
গোদাগাড়ী (Godagari) উপজেলার দক্ষিণ সীমায় পদ্মা (Padma) নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ; মহানন্দা নদীও এই উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ৩,৭৬,৩৮৬। গোদাগাড়ী ও কাঁকনহাট পৌরসভা এবং ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, গম, পাট, আখ ও মসুর প্রধান ফসল। খেতুরের শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গবাড়ী মন্দির (১৫৮২), দেওপাড়ায় রাজা বিজয় সেনের দিঘি ও শিলালিপি, সুলতানগঞ্জে হযরত শাহ সুলতানের মাজার এবং প্রেমতলীর খেতুর মেলা এখানকার পরিচিত ঐতিহ্য।
তানোর (Tanore) উপজেলা গোদাগাড়ীর উত্তর-পূর্বে; শিব নদী এর প্রধান নদী। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,১২,৯৮৩। তানোর ও মুণ্ডুমালা পৌরসভা এবং ৭টি ইউনিয়নের এই উপজেলায় প্রায় ৭৮ শতাংশ আয় কৃষিনির্ভর; ধান, গম, আলু, সরিষা ও পান উল্লেখযোগ্য ফসল। সিধাইরের তিন গম্বুজ মসজিদ, তালন্দ শিবমন্দির (১৮৬০), তালন্দ আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮২) ও মুণ্ডুমালা কামিল মাদ্রাসা এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনা; সাঁওতাল জনগোষ্ঠীরও বসবাস রয়েছে।
১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটিতে বিএনপির আমিনুল হক (Aminul Haque) নির্বাচিত হন, যিনি ২০০১-২০০৬ মেয়াদে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারটি নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী (Omar Faruk Chowdhury)। ২০২৬ সালে আসনটি জেতেন জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান, যিনি ১৯৮৬ সালেও এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, bssnews.net, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ১টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ মুজিবুর রহমান
BJEIবিজয়ী১,৭১,৭৮৬৫০.০%
- Md. Sharif Uddin
BNP১,৬৯,৯০২৪৯.৪% - Md. Abdur RahmanAB১,১০০০.৩%
- Md. Al-SaadInd৬৬৩০.২%
- Mir Md. Shahjahan
GOP৪০৭০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৬)
আসন: রাজশাহী-১
আসনের পাতা →(ক)গোদাগাড়ী এবং(খ) তানোর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…