
মোঃ নূরুল ইসলাম
Md. Nurul Islam
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ নূরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ নূরুল ইসলাম (Md. Nurul Islam), রাজনৈতিক অঙ্গনে যিনি নূরুল ইসলাম বুলবুল নামে পরিচিত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালে তিনি প্রথমবার সংসদে আসেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির।
শিক্ষকতা ও শিক্ষা-প্রশাসনে কর্মজীবন শুরু করা এই রাজনীতিক নিজের জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
নূরুল ইসলাম বুলবুলের জন্ম ১৯৬৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রেহাইচর গ্রামে। বাবা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসরাইল ছিলেন কৃষ্ণগোবিন্দপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, মা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম নূরী। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
তাঁর ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনী অনুযায়ী, তিনি হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক এবং নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। একই কলেজ থেকে ১৯৮৭ সালে বিএসএস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯১ সালে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি কোহিনূর আখতার সীমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের (Bangladesh Islami Chhatra Shibir) মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে আসা। ১৯৮৭ সালে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের জিএস নির্বাচিত হন। ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি, ২০০০ সালে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০০১ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০০৩ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং সে বছরের ১৫ অক্টোবর রুকন হন। গুলশান থানা আমির, ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি এবং ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পর ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নির্বাচিত হন। ২০-দলীয় জোটে দলের অন্যতম সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ সময়ে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ৫৯,৫১৭ ভোট পান; সেবার আসনটিতে বিএনপির হারুনুর রশীদ জয়ী হন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ১,৮৯,৬৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ (Md. Harunur Rashid) পান ১,২৭,০৩৭ ভোট; ব্যবধান ৬২,৬০৩ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬৮,৪৭৯ জন। এই নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
তাঁর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, নবাবগঞ্জ সিটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু। চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনি প্যান এশিয়াটিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (Victoria University of Bangladesh) ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং জাবালে নূর হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকার ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। রাজশাহী শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি কর্মসূচি চালু করা, বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং চক্ষু শিবির আয়োজনের মতো সামাজিক কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
সূত্র: nurulislambulbul.com, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), ittefaq.com.bd, deshrupantor.com ১, deshrupantor.com ২, tbsnews.net, bangla.bdnews24.com ১, bssnews.net, bangla.bdnews24.com ২, deshrupantor.com ৩, dailyinqilab.com, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর মেয়াদ শুরু হয়। সংসদের প্রথম বৈঠকে (মার্চ ২০২৬) গঠিত বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির তিনি সদস্য; ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এবং সেপ্টেম্বরে গঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতেও তিনি সদস্য হিসেবে আছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব, আইন প্রণয়ন ও বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাজের তদারকি তাঁর মূল দায়িত্ব। স্বরাষ্ট্র কমিটিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনায় এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল কমিটিতে সংসদ সদস্যদের আনা বিল ও প্রস্তাব যাচাইয়ের কাজে যুক্ত।
২০২৬ সালের ১৫ জুলাই, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ক্যারাভান উদ্বোধন করে তিনি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ২০ জুলাই নিজ এলাকার নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩ জনের মধ্যে বৃত্তি পাওয়া ৫২ শিক্ষার্থীকে তিনি সংবর্ধনা দেন এবং এই সাফল্যকে শৃঙ্খলা, সঠিক প্রস্তুতি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: bssnews.net, bangla.bdnews24.com ১, deshrupantor.com, bangla.bdnews24.com ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ জাতীয় সংসদের ৪৫ নম্বর আসন। রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬৮,৪৭৯ জন (পুরুষ ২,৩৬,৬৪৮ ও নারী ২,৩১,৮৩১)।
দেশের পশ্চিম প্রান্তের এই উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৫১.৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে নাচোল ও শিবগঞ্জ, পূর্বে রাজশাহী জেলার তানোর ও গোদাগাড়ী, পশ্চিমে শিবগঞ্জ এবং দক্ষিণে পদ্মা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৫,৮৩,৪৭৫ এবং সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৪ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা (১৫টি ওয়ার্ড) এবং আলাতুলী, বালিয়াডাঙ্গা, বারঘরিয়া, চর অনুপনগর, চরবাগডাঙ্গা, দেবীনগর, গোবরাতলা, ইসলামপুর, ঝিলিম, মহারাজপুর, নারায়ণপুর, রানীহাটি, শাহজাহানপুর ও সুন্দরপুর, এই ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত।
এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর, আর আম প্রধান অর্থকরী ফসল। মহানন্দা নদীর তীরের জেলা শহরে রয়েছে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু, চাঁপাই জামে মসজিদ, হজরত বুলন্দশাহের মাজার এবং লাহোরপুরের তাঁতপল্লি এলাকার পরিচিত স্থান।
১৯৮৪ সালে সৃষ্ট এই আসনে ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর লতিফুর রহমান, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির হারুনুর রশীদ এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আবদুল ওদুদ নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে হারুনুর রশীদ আবার জয়ী হন; পরে ২০২৩ সালের উপনির্বাচন ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল ওদুদ নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে জামায়াতের নূরুল ইসলাম বুলবুলের জয়ে আসনটি আবার দলটির হাতে আসে। আগের নির্বাচনগুলো তৎকালীন সীমানা অনুযায়ী হয়েছিল।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, deshrupantor.com, thedailystar.net, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ নূরুল ইসলাম
BJEIবিজয়ী১,৮৯,৬৪০৫৯.৫%
- Md. Harunur Rashid
BNP১,২৭,০৩৭৩৯.৯% - Md. Monirul Islam
IAB৮২০০.৩% - Md. Fazlul Islam KhanJSD৬৩৭০.২%
- Md. Shofiqul Islam
GOP৩৬১০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩
আসনের পাতা →চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…