
মোঃ রফিকুল ইসলাম খান
Md. Rafiqul Islam Khan
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ রফিকুল ইসলাম খান (Md. Rafiqul Islam Khan) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ। দলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য।
ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তিনি। নিজের জন্মস্থান উল্লাপাড়া থেকেই তিনি প্রথমবার সংসদে এসেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৬৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ডিক্রিরচর এলাকার নওকৈড় গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা মোঃ খোরশেদ আলম খান, মা ফাতেমা বেগম।
ডিক্রিরচর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং পাবনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিল পাস করার পর ১৯৮৪ সালে তিনি হাজী আহমদ আলী আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Rajshahi) ইসলামী শিক্ষা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত হন। ১৯৯৩ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন; তিনি শিবিরের ১৩তম কেন্দ্রীয় সভাপতি।
ছাত্রজীবন শেষে ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং একই বছর দলের রুকন হন। ২০১৩ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বও পালন করেন। পরে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তিনি ৯৭,৪৬৩ ভোট পান; সেবার আসনটিতে জেতেন আওয়ামী লীগের মো. শফিকুল ইসলাম। ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রায় আড়াই বছর কারাগারে থেকে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ১,৬১,৮৭২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম আকবর আলী (M. Akbar Ali) পান ১,৬১,২৭৮ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৫৯৪ ভোট। ১৪৭টি কেন্দ্রের গণনায় তিনি ৭৬৫ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন; পোস্টাল ব্যালট যোগ হওয়ার পর চূড়ান্ত ফলে এগিয়ে যান। রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান পান ২,২১৬ ভোট। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে এটিই জামায়াতের একমাত্র জয়।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি হিসেবে ওই বছরের অক্টোবরে তিনি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য সংগঠনের উদ্যোগে ই-কার চালুর সিদ্ধান্ত জানান।
উল্লাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বন্যা ও শৈত্যপ্রবাহে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা এবং এতিম ও বিধবাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, web.archive.org ১, web.archive.org ২, web.archive.org ৩, jugantor.com ১, jugantor.com ২, ittefaq.com.bd, khoborsangjog.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, deshrupantor.com ১, dhakatimes24.com, dailyinqilab.com, prothomalo.com, deshrupantor.com ২, dailysangram.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিরোধী জোটের সংসদীয় দলের সভায় তাঁকে বিরোধীদলীয় হুইপের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে গঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও তিনি সদস্য।
বিরোধীদলীয় হুইপ হিসেবে তিনি সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণ সমন্বয় এবং সরকারি দলের সঙ্গে সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে যোগাযোগের কাজে যুক্ত। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন।
৯ মার্চ বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের (Nahid Islam) নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে তিনি সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন; সেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গঠন এবং সংসদকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ২৭ জুন বাজেট আলোচনায় তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সরকারীকরণ এবং গত ১৬ বছরে গুম ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন।
সূত্র: bssnews.net, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, dhakatimes24.com, deshrupantor.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
সিরাজগঞ্জ-৪ রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার একটি সংসদীয় আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে। উপজেলায় রয়েছে উল্লাপাড়া পৌরসভা (৯টি ওয়ার্ড) এবং সলঙ্গা, হাটিকুমরুল, রামকৃষ্ণপুর, সলপ, বড় পাঙ্গাসী, পূর্ণিমাগাঁতী, উধুনিয়া, পঞ্চক্রোশী, মোহনপুর, দুর্গানগর, বড়হর, বাঙ্গালা ও উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন; উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এখানকার দুটি থানা।
চারশো বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি আয়তনের উপজেলাটির উত্তরে রায়গঞ্জ ও তাড়াশ, দক্ষিণে শাহজাদপুর ও পাবনার ফরিদপুর, পূর্বে বেলকুচি ও কামারখন্দ এবং পশ্চিমে পাবনার ভাঙ্গুড়া। করতোয়া, ফুলজোড়, জপজাপিয়া ও কমলা দরগাদহ নদী এবং অনেকগুলো বিল এলাকাটিকে ঘিরে রেখেছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫,৮৯,০৪১; এর প্রায় ১৩ শতাংশ শহরে বাস করেন।
অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম ও সরিষা প্রধান ফসল। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ও ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ উপজেলার ভেতর দিয়ে গেছে। সলপের ঘোল ও মাঠা দেশজুড়ে পরিচিত। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি আকবর আলী কলেজ, ১৯০৫ সালের সলপ উচ্চ বিদ্যালয় ও উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজ। হাটিকুমরুলের নবরত্ন মন্দির ও দারোগাপাড়ার মাক্কাউলিয়া মসজিদ এখানকার প্রাচীন স্থাপনা।
২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৭৫,৮২১ জন; ভোট পড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ।
১৯৮৪ সালে গঠিত আসনটি উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়েই গঠিত বলে নির্বাচন কমিশনের নথিতে উল্লেখ আছে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এখানে বিএনপির এম আকবর আলী এবং ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ মির্জা জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল; ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামী আসনটিতে জয় পায়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), citypopulation.de, web.archive.org। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ রফিকুল ইসলাম খান
BJEIবিজয়ী১,৬১,৮৭২৫০.১%
- M. Akbar Ali
BNP১,৬১,২৭৮৪৯.৯%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: সিরাজগঞ্জ-৪
আসনের পাতা →উল্লাপাড়া উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৫)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…