মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ রুহুল আমিন

মোঃ রুহুল আমিন

Md. Ruhul Amin

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ রুহুল আমিন চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির, চুয়াডাঙ্গা। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ রুহুল আমিন (Md. Ruhul Amin) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আমির।

পেশায় তিনি আয়কর আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। ছাত্রসংগঠন থেকে শুরু করে জেলা জামায়াতের নেতৃত্বের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তিনি জাতীয় সংসদে পৌঁছেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৮০ সালের ৪ জানুয়ারি। তাঁর বাবার নাম মোঃ আব্দুল খালেক এবং মায়ের নাম বুলবুলি খাতুন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।

রাজনৈতিক জীবন

বাসসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের (Bangladesh Islami Chhatrashibir) মাধ্যমে রুহুল আমিনের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ২০০৩ সালে তিনি ছাত্রশিবিরের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে ২০০৯ সালে জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০২২ সাল থেকে তিনি জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দল তাঁকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে প্রার্থী করে। প্রচারণায় তিনি চুয়াডাঙ্গাকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করা, জীবননগর হাসপাতালের আধুনিকায়ন, কৃষিপ্রধান জীবননগরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটারদের প্রত্যাশা হিসেবে তিনি ভালো রাস্তা, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবার কথা তুলে ধরেন। ভোটের আগে তিনি জাল ভোট ও ভোট কেনাবেচামুক্ত অবাধ নির্বাচন, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানান; দলীয় কর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান। জুলাই সনদ প্রশ্নে গণভোটে তিনি ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৪,৯২,৪৩০ জন। রুহুল আমিন পান ২,০৮,০১১ ভোট, বৈধ ভোটের প্রায় ৫৫ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মাহমুদ হাসান খান বাবু (Mahmud Hasan Khan Babu) পান ১,৬৩,৮৭৭ ভোট; ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৪,১৩৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ হাসানুজ্জামান পান ৬,৩৭৪ ভোট। আসনটিতে ভোট পড়ে ৭৮.২৭ শতাংশ। একই দিনের গণভোটে এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ২,৫৭,৫৭৫টি, ‘না’ ভোট ৮৩,১২৯টি।

১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের ফল সংগ্রহ ও প্রচার কেন্দ্র থেকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed) তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল।

সূত্র: bssnews.net ১, জাতীয় সংসদ, bssnews.net ২, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, dailyjanakantha.com, dailynayadiganta.com, banglatribune.com, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৪ জানুয়ারি ১৯৮০, ৪৬ বছর
জন্মস্থানধোপাখালী, জীবননগর উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা জেলা
লিঙ্গপুরুষ
পেশাআয়কর আইনজীবী ও ব্যবসায়ী
পিতামোঃ আব্দুল খালেক
মাতাবুলবুলি খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মেয়াদে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সংসদে রুহুল আমিন সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের (Syed Abdullah Mohammad Taher) সভাপতিত্বে সরকারি হিসাব কমিটি সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনা করে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি অংশ নেন; সেখানে ২০২০-২১ সালের কমপ্লায়েন্স অডিট প্রতিবেদনের আপত্তি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্বাচনী এলাকায় ২৬ ফেব্রুয়ারি দামুড়হুদা এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিনি নিজে অংশ নেন। জীবননগরে তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে অপারেশন থিয়েটার চালুর লক্ষ্যে কাজ করা হবে। প্রেষণে থাকা কর্মীদের ফেরাতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দেন তিনি। ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্যপক্ষের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যসম্মত মাছ উৎপাদনের আহ্বান জানান।

সূত্র: banglatribune.com, bangla.tob.news, dailynayadiganta.com ১, dailysomoyersomikoron.com, dailynayadiganta.com ২, জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

চুয়াডাঙ্গা-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

চুয়াডাঙ্গা-২ জাতীয় সংসদের ৮০ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ, বেগমপুর, নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার, ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৪টি।

দামুড়হুদা উপজেলার দক্ষিণ ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। আয়তন প্রায় ৩১১.৯ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,১৭,৫৫২। মাথাভাঙ্গা, ভৈরব ও চিত্রা এর প্রধান নদী। কৃষিই প্রধান জীবিকা; আখ, ধান, গম, পান ও কলা উল্লেখযোগ্য ফসল। উপজেলার দর্শনা পৌরসভায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল হিসেবে পরিচিত কেরু অ্যান্ড কোং (Carew & Co), ১৮৭১ সালে চালু হওয়া দর্শনা রেলস্টেশন এবং ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দর। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ১৯২০ সালের এপ্রিলে বাংলার প্রথম কৃষক সম্মেলন এখানে অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ইউনিয়ন দর্শনা পৌরসভার সীমানাঘেঁষা।

জীবননগর উপজেলা চুয়াডাঙ্গা সদরের দক্ষিণে; এর পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ, পূর্ব ও দক্ষিণে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর। আয়তন প্রায় ১৯৯.২ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৯৭,৭৮৫। ভৈরব এখানকার প্রধান নদী। কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় ধান, আখ, পাট ও গম প্রধান ফসল। ধোপাখালীর তিন গম্বুজ মসজিদ ও খাজা পরেশ শাহের মাজার এখানকার পরিচিত নিদর্শন; ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জীবননগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জীবননগর কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ১৯৯৬ সালের দুই নির্বাচন ও ২০০১ সালে বিএনপির মোজাম্মেল হক এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা চারবার আওয়ামী লীগের আলী আজগার টগর (Md. Ali Azgar) আসনটিতে জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার জামায়াতের হাতে আসে। বিভিন্ন সময়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হওয়ায় আগের নির্বাচনগুলোর এলাকা বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু এক নাও হতে পারে।

সূত্র: tbsnews.net, bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬চুয়াডাঙ্গা-২বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,৭৮,২৬২ ভোট
  1. মোঃ রুহুল আমিনBJEIবিজয়ী২,০৮,০১১৫৫.০%
  2. Mahmud Hasan KhanBNP১,৬৩,৮৭৭৪৩.৩%
  3. Md HasanuzzamanIAB৬,৩৭৪১.৭%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)

জনাব মোঃ রুহুল আমিন, ৮০ চুয়াডাঙ্গা-২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
জনাব মোঃ রুহুল আমিন, ৮০ চুয়াডাঙ্গা-২ (স্পেন সফর)১৩ জুলাই ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: চুয়াডাঙ্গা-২

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)দামুড়হুদা, (খ)জীবননগর এবং (গ)চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহঃ (১) তিতুদহ,(২) বেগমপুর(৩) নেহালপুর ও(৪) গড়াইটুপি ইউনিয়ন

সংসদীয় কমিটি(২)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →