মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ সাইফুল আলম

মোঃ সাইফুল আলম

Md Saiful Alam

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ সাইফুল আলম ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ সাইফুল আলম, যিনি সাইফুল আলম খান মিলন (Saiful Alam Khan Milon) নামে বেশি পরিচিত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য। এটি তাঁর প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।

আশির দশকের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের (Bangladesh Islami Chhatrashibir) কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের পর রাজধানীর তেজগাঁও, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর এলাকার এই আসন থেকে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

সাইফুল আলম খান মিলনের জন্ম ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি, ঢাকায়। তাঁর বাবা মোঃ হাবিবুর রহমান খান এবং মা লুৎফুন নাহার। পেশাগত জীবনে তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত; জাতীয় সংসদের সদস্য-তথ্যে তাঁর বর্তমান পেশা অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ আছে।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৮৩ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনটির সভাপতিদের তালিকায় তিনি ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সভাপতি; তাঁর সভাপতিত্বকালে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন মুহাম্মদ তাসনিম আলম (Muhammad Tasneem Alam), যিনি পরে সভাপতি হন।

পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হন। ২০২৫ সালে ঢাকা-১২ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি তেজগাঁও ও হাতিরঝিল এলাকায় দলীয় সভা-সমাবেশে নিয়মিত অংশ নেন। সে বছরের মার্চে হাতিরঝিল অঞ্চলের এক মতবিনিময় সভায় তিনি জুলাই আন্দোলনে ছাত্র ও শ্রমিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এপ্রিলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কুনিপাড়া ওয়ার্ড জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী ও দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-১৫ আসনে দলের এক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর মনোনয়নে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী হন। প্রচারে তিনি চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ঢাকা-১২ গড়াকে প্রথম অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করেন। জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্থানীয় হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং হাতিরঝিলকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন। কারওয়ান বাজারের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও রাতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য শৌচাগার সুবিধার কথাও তাঁর প্রতিশ্রুতিতে ছিল।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যা ওই নির্বাচনে কোনো আসনে সর্বোচ্চ। একই নামের তিন প্রার্থীর কারণে লড়াইটি ‘সাইফুল’ জট হিসেবে আলোচিত হয়।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম খান মিলন পান ৫৩,৭৭৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক (Saiful Huq) পান ৩০,৯৬৩ ভোট; বিএনপি জোটসঙ্গী হিসেবে আসনটি তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব (Saiful Alam Nirob) পান ২৯,৮৬৯ ভোট; ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক এই আহ্বায়ক দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ভোটের আগে বহিষ্কৃত হন। জয়ের ব্যবধান ছিল ২২,৮১০ ভোট। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের ফল সংগ্রহ ও প্রচার কেন্দ্র থেকে ফল ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, prothomalo.com ১, deshrupantor.com, dailysangram.com, ntvbd.com, banglatribune.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২, bdnews24.com, tbsnews.net, prothomalo.com ২, bangla.bdnews24.com, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ জানুয়ারি ১৯৫৪, ৭২ বছর
জন্মস্থানঢাকা
লিঙ্গপুরুষ
পেশাঅবসর
পিতামোঃ হাবিবুর রহমান খান
মাতালুৎফুন নাহার
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই বছরের জুনে গঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য; অর্থ কমিটিতে তিনি জামায়াতের দুই প্রতিনিধির একজন।

সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর কাজ আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া, সরকারের জবাবদিহি চাওয়া এবং ঢাকা-১২ এলাকার নাগরিক সমস্যা সংসদে তুলে ধরা; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাজের সংসদীয় তদারকিতেও তিনি যুক্ত। ৩০ মার্চ ২০২৬ সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হিসাব তুলে ধরে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং নিহতদের ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত বলে মত দেন। ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় তিনি ইসলামী ব্যাংক রক্ষার আহ্বান জানান এবং কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি ও মাদক বিস্তার রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ চান। ২৬ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও মুদ্রানীতি নিয়ে অর্থ কমিটির প্রথম বৈঠকে এবং ৮ সেপ্টেম্বর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় পরিকল্পনা কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি অংশ নেন।

সূত্র: bangla.thedailystar.net, dailynayadiganta.com, bssnews.net, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ঢাকা-১২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ঢাকা-১২ জাতীয় সংসদের ১৮৫ নম্বর আসন, ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় অবস্থিত এবং পুরোটাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি উত্তর সিটির ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এলাকাটি তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর ও রমনা থানার আওতায় পড়ে; হাতিরঝিলও এই আসনের অংশ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৩৩,৩২০ জন: পুরুষ ১,৭৪,৩৪৯, নারী ১,৫৮,৯৬৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ছয়টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার মানুষের বাস। তেজগাঁও থানা পুরোটাই এই আসনে: ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে জনসংখ্যা ১,২৩,১৬০। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ও ২৫ নম্বরের বাকি অংশে ১,০৪,২০৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৭,৭৩৭ জন এবং রমনা থানার ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১,৪৩,৬৯৮ জনের বাস।

কারওয়ান বাজার, তেজগাঁওয়ের শিল্প ও পরিবহন এলাকা, হাতিরঝিল এবং মগবাজার এই আসনের পরিচিত জায়গা। কারওয়ান বাজারে রাতভর কাজ করা শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ এখানে জীবিকা নির্বাহ করেন। চাঁদাবাজি, মাদক, জলাবদ্ধতা, সড়কে আলোর স্বল্পতা এবং স্থানীয় হাসপাতালে শয্যার ঘাটতি নির্বাচনের সময় প্রধান নাগরিক সমস্যা হিসেবে আলোচিত হয়।

২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণে রাজধানীর আসনসংখ্যা বাড়লে এই আসনের সীমানা বদলায়; তাই আগের নির্বাচনের ফল ভিন্ন সীমানার। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত এই নম্বরের আসনে বিএনপি জয়ী হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস (Sheikh Fazle Noor Taposh) এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান (Asaduzzaman Khan) নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাতে আসে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net, citypopulation.de, bdnews24.com, banglatribune.com, bssnews.net, dailynayadiganta.com, dailyinqilab.com, prothomalo.com, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ঢাকা-১২বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,২২,২৬৮ ভোট
  1. মোঃ সাইফুল আলমBJEIবিজয়ী৫৩,৭৭৩৪৪.০%
  2. Saiful HuqRWPB৩০,৯৬৩২৫.৩%
  3. Saiful Alam NirobInd২৯,৮৬৯২৪.৪%
  4. Mahmudul HasanIAB২,০৫৮১.৭%
  5. Sarkar Mohammad SalahuddinJP(ERSHAD)১,৭৭০১.৪%
  6. Taslima AkhterGSA১,৫১১১.২%
  7. Md. Tarek RahmanAmjanatar Dol১,০৪৪০.৯%
  8. Kallol BanikCPB৪৫৩০.৪%
  9. Mohammad ShahjalalBIF১৮৪০.২%
  10. Farid AhmedJanotar Dol১৭৫০.১%
  11. Mosa. Salma AkterIBB১৩৩০.১%
  12. Abul Bashar ChowdhuryGOP১১৫০.১%
  13. Muntasir MahmudBSM১১৫০.১%
  14. Mominul AminNDM৫৮০.০%
  15. Mohammad Naeem HasanBJP৪৭০.০%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: ঢাকা-১২

আসনের পাতা →
এলাকা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর- ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬

সংসদীয় কমিটি(৩)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →