মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ শফিকুল ইসলাম

মোঃ শফিকুল ইসলাম

Md. Shafiqul Islam

পরিচিতি

মোঃ শফিকুল ইসলাম পটুয়াখালি-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (Shafiqul Islam Masud) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য; সংসদের নথিতে তাঁর নাম মোঃ শফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে তিনি প্রথমবার সংসদে এসেছেন, নিজের জন্মস্থান বাউফল থেকেই।

ছাত্ররাজনীতিতে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। এখন তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা এবং রাজধানীতে দলের অন্যতম সাংগঠনিক দায়িত্বে আছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭৮ সালের ১ মার্চ পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মদনপুরা গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা মরহুম মোঃ সিরাজ উদ্দিন খান, মা মোসাঃ কানিজ ফাতিমা।

দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (University of Rajshahi) থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সংসদের তথ্যে তাঁর পেশা পরামর্শক। তাঁর স্ত্রী ডা. জাকিয়া ফারহানা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ; তাঁদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে।

রাজনৈতিক জীবন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের (Bangladesh Islami Chhatra Shibir) নেতৃত্বে আসেন। ২০০২-০৩ সালে তিনি সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, ২০০৪-০৫ সালে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০০৬-০৭ সালে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সংগঠনটির বিশতম কেন্দ্রীয় সভাপতি।

ছাত্রজীবন শেষে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৪ সালে তিনি দলের ঢাকা মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি ছিলেন; সে বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাঁকে পটুয়াখালী-২ আসনে মনোনয়ন দেয় এবং দশ দলীয় জোট তাঁকে সমর্থন জানায়। প্রচারে তিনি বাউফলের দীর্ঘদিনের দাবি বগা সেতু নির্মাণ, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, নদীভাঙন রোধ এবং মাদক ও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দেন। ২৪ জানুয়ারি বাউফলের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত সরকারি গাড়িসহ রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা তিনি নেবেন না। ভোটের সময় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেদিন রাতেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদার (Shahidul Alam Talukder), যিনি ২০০১ সালে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মালেক হোসেন হন তৃতীয়।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে আসনটিতে প্রথমবার জামায়াতের কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হলেন। ২০০৮ সাল থেকে টানা চারটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের আ স ম ফিরোজের (A. S. M. Feroz) হাতে ছিল।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নিজ উপজেলার উন্নয়নে তিনি বাউফল উন্নয়ন ফোরাম ও বাউফল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সংসদে আসার আগে থেকেই এই দুই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, shafiqulislammasud.com, bssnews.net, deshrupantor.com, dhakatimes24.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, bangla.bdnews24.com, ecoi.net। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ মার্চ ১৯৭৮, ৪৮ বছর
জন্মস্থানমদনপুরা, বাউফল, পটুয়াখালী
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ সম্মান, এমএ ও পিএইচডি)
পেশাপরামর্শক
পিতামৃত মোঃ সিরাজ উদ্দিন খান
মাতামোসাঃ কানিজ ফাতিমা
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। দলে তিনি কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি আইন প্রণয়ন, সংসদীয় বিতর্ক ও সরকারের কাজের তদারকিতে অংশ নেন; এই সংসদে জামায়াত বিরোধী দলে রয়েছে। ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি নিজের বারবার গ্রেপ্তার ও গুমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। ২ সেপ্টেম্বর সংসদে গঠিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য। ১৫ সেপ্টেম্বর কমিটির প্রথম বৈঠকে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ১৩ অক্টোবরের দ্বিতীয় বৈঠকে কমিটি বিটিভিকে রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে দায়বদ্ধ গণমাধ্যম হিসেবে পরিচালনা, ফিল্ম আর্কাইভে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই অভ্যুত্থানের দলিল সংরক্ষণ এবং বিটিভি ও এফডিসি সরেজমিন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্র: unb.com.bd, dhakatimes24.com, deshrupantor.com, ittefaq.com.bd, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

পটুয়াখালি-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

পটুয়াখালী-২ বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদের ১১২ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো বাউফল উপজেলা নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,১৫,২৮২ জন।

বাউফলের আয়তন ৪৮৭.১০ বর্গকিলোমিটার; জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। উত্তর ও পশ্চিমে বাকেরগঞ্জ, পশ্চিমে পটুয়াখালী সদর ও দুমকি, দক্ষিণে গলাচিপা ও দশমিনা এবং পূর্বে তেঁতুলিয়া নদী; লোহালিয়াও এখানকার প্রধান নদী। উপজেলাটি একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১৮৭৪ সালে থানা এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলা হয়। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,২৭,৪৯৮, সাক্ষরতার হার ৭৬.২১ শতাংশ।

এলাকাটি কৃষিনির্ভর; আবাদি জমি প্রায় ৮৪ হাজার একর। কালাইয়া, বগা, কালিশুরী ও নওমালা বন্দর এবং বাউফল পৌর শহর প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র। মদনপুরার মৃৎশিল্প এখানকার পরিচিত কারুশিল্প। দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে বিলবিলাসে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের (A. K. Fazlul Huq) পৈতৃক বাড়ি, চন্দ্রদ্বীপের রাজকন্যা সুন্দরী কমলা রানীর দিঘি, ঘসেটি বিবির মসজিদ এবং কালাইয়ায় তমিরুদ্দিন আউলিয়ার মাজার। বাউফল সরকারি কলেজ ও ড. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার।

আসনটি ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়। ২০১৪ সালের আগে পটুয়াখালী সদরের কমলাপুর ও লোহালিয়া ইউনিয়নও এর অংশ ছিল। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের আ স ম ফিরোজ, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির ইয়াকুব আলী শরীফ এবং ২০০১ সালে বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদার এখানে জয়ী হন। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আবার আ স ম ফিরোজ নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ আসনটিতে জয় পান।

সূত্র: tbsnews.net, dhakatimes24.com, bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬পটুয়াখালি-২বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৮৮,৬০৭ ভোট
  1. মোঃ শফিকুল ইসলামBJEIবিজয়ী১,০০,৭৫০৫৩.৪%
  2. Md Shahidul Alam TalukdarBNP৭২,৬৭৬৩৮.৫%
  3. Malek HossainIAB১৪,৪১৮৭.৬%
  4. Md Ruhul AminAB৪১০০.২%
  5. Md Habibur RahmanGOP৩৫৩০.২%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: পটুয়াখালি-২

আসনের পাতা →
এলাকা

বাউফল উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →