মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ তাজউদ্দীন খান

মোঃ তাজউদ্দীন খান

Md. Tajuddin Khan

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

ফেসবুক পেজ যাচাই করা হয়নি

পরিচিতি

মোঃ তাজউদ্দীন খান মেহেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির, মেহেরপুর। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ তাজউদ্দীন খান (Md. Tajuddin Khan) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ (মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। তিনি দলের মেহেরপুর জেলা শাখার আমির।

পেশায় তিনি শিক্ষক; এলাকায় তিনি মাওলানা তাজউদ্দীন খান নামে পরিচিত। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা এখন মেহেরপুরের দুই উপজেলার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

মোঃ তাজউদ্দীন খানের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তাঁর পিতা মোঃ আবুল হোসেন খান এবং মাতা মোছাঃ সুফিয়া খাতুন।

শিক্ষকতাকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন-এর ২০২৬ সালের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী পদে কর্মরত ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী তিনি ১৯৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। পরে তিনি জেলা শাখার আমিরের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মেহেরপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তিনি আসনজুড়ে গণসংযোগ চালান; ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মেহেরপুর পৌর এলাকায় দলের পৌর শাখার গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দেন। ভোটের আগে বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মাদক ও অনলাইন জুয়ামুক্ত মেহেরপুর গড়া, জেলার এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখা এবং দলীয় পরিচয় নয়, চাষের ভিত্তিতে কৃষকদের সার, বীজ ও সেচ সুবিধা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পকারখানা গড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর কথাও তিনি বলেন। নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি সবার জন্য সমান সুযোগ ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভোটাররা পরিবর্তন চান এবং তিনি আশা করেন তাঁরা জামায়াতের ন্যায় ও সুশাসনের রাজনীতিকে সমর্থন দেবেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১,২৩,২৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ (Masud Arun) পান ১,০৫,৪৪১ ভোট; ব্যবধান ১৭,৮৩০ ভোট। জাতীয় পার্টির মোঃ আবদুল হামিদ পান ১,৪২৯ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহা. মিজানুর রহমান ৭৯২ ভোট।

আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,১৬,৯৭৫ জন। চার প্রার্থীর মোট ভোটের প্রায় ৫৩.৪ শতাংশ পান তিনি।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, prothomalo.com, ajkermeherpur.com, meherpurpratidin.com, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪, ৫২ বছর
লিঙ্গপুরুষ
পেশাশিক্ষকতা
পিতামোঃ আবুল হোসেন খান
মাতামোছাঃ সুফিয়া খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সংসদের পক্ষে ওই মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা, সংসদে উত্থাপিত সংশ্লিষ্ট বিল পরীক্ষা, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ দেওয়ার কাজে অংশ নেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মেহেরপুর সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নিরসন, নতুন ভবন দ্রুত চালু এবং হাসপাতালকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করার অঙ্গীকার করেন। ২৫ এপ্রিল ২০২৬ মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি লোডশেডিং ও গ্রাহক হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন এবং কোনো গ্রাহক যেন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই দিন তিনি শহরের কয়েকটি তেল পাম্প পরিদর্শন করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দেন এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে সতর্ক করেন।

সূত্র: banglatribune.com, meherpurpratidin.com ১, meherpurnews.com, meherpurpratidin.com ২, prothomalo.com, meherpurpratidin.com ৩, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

মেহেরপুর-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

মেহেরপুর-১ জাতীয় সংসদের ৭৩ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। এটি খুলনা বিভাগের মেহেরপুর জেলায়; আসনের পশ্চিম ও দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,১৬,৯৭৫ জন।

মেহেরপুর সদর উপজেলা জেলা সদর; আয়তন প্রায় ২৬১ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৭৬,৯০৩। মেহেরপুর পৌরসভা এবং আমদহ, আমঝুপি, বুড়িপোতা, কুতুবপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। ভৈরব ও কাজলা নদী এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি; ধান, গম, ভুট্টা, পাট, পান, পেঁয়াজ ও রসুন প্রধান ফসল। আমঝুপি নীলকুঠি, ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মেহেরপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত মেহেরপুর সরকারি কলেজ এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনা।

মুজিবনগর উপজেলার আয়তন প্রায় ১১৩ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,০৫,৭৫২। বাগোয়ান, দারিয়াপুর, মহাজনপুর ও মোনাখালী ইউনিয়ন নিয়ে এই উপজেলা। ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এখানকার প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন বৈদ্যনাথতলায়, আজকের মুজিবনগরে, বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়; সেখানে গড়ে উঠেছে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স। বল্লভপুরের খ্রিষ্টান মিশন ও গির্জাও এই উপজেলায়।

পুরোনো কুষ্টিয়া জেলা ভাগ হওয়ার পর ১৯৮৪ সালে কুষ্টিয়া-৫ আসন থেকে মেহেরপুর-১ গঠিত হয়। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালে বিএনপি, ১৯৯৯ সালের উপনির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে বিএনপি আসনটিতে জয়ী হয়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রাখে; ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এখানে জয়ী হন।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬মেহেরপুর-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৩০,৯৩৩ ভোট
  1. মোঃ তাজউদ্দীন খানBJEIবিজয়ী১,২৩,২৭১৫৩.৪%
  2. Masud ArunBNP১,০৫,৪৪১৪৫.৭%
  3. Md. Abdul HamidJP(ERSHAD)১,৪২৯০.৬%
  4. Moha Mizanur RahmanCPB৭৯২০.৩%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)

জনাব মোঃ তাজউদ্দীন খান, ৭৩ মেহেরপুর-১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
জনাব মোঃ তাজউদ্দীন খান (৭৩ মেহেরপুর-১)১৬ আগস্ট ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: মেহেরপুর-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)মেহেরপুর সদর এবং (খ)মুজিবনগর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →