
মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক
Muhammad Abdul Khaleq
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (Muhammad Abdul Khaleq) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য। সাতক্ষীরায় তিনি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক নামে পরিচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং সাতক্ষীরা জেলা ও খুলনা অঞ্চলে জামায়াতের সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শৈশব ও পরিবার
জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক ১৯৬৩ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলায়। পিতা আফতাব উদ্দীন, মাতা শহর বানু।
রাজনৈতিক জীবন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তিনি দলের সাংগঠনিক সেক্রেটারি এবং খুলনা অঞ্চলের পরিচালক হন। ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলায় এক সিরাতুন্নবী মাহফিলে বিএনপির ১৫ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দিলে এই দুই পদে থাকা অবস্থায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁদের বরণ করে নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাঁকে সাতক্ষীরা-২ আসনে প্রার্থী করে। ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগে তিনি অবহেলিত সাতক্ষীরাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। সেখানে তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ এবং সুদমুক্ত ঋণের কথা বলেন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, ইনসাফপূর্ণ দেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ২,৬৬,৯৫৯ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. আব্দুর রউফ (Md Abdur Rauf) ধানের শীষ প্রতীকে পান ১,১৬,২৯৩ ভোট। ব্যবধান ১,৫০,৬৬৬ ভোট।
রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট অনুযায়ী আসনটির ৫,৩৫,৬৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৭৩.৭৯ শতাংশ; মোট বৈধ ভোট ছিল ৩,৮৯,৮২৩, যার প্রায় ৬৮.৫ শতাংশ পান তিনি। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মো. আশরাফুজ্জামান ৪,২৭৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতী রবীউল ইসলাম ১,৯৭৬ এবং বাংলাদেশ জাসদের মো. ইদ্রিস আলী ৩১৭ ভোট পান। জেলা রিটার্নিং অফিসার আফরোজা আখতার মধ্যরাতে ফল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন।
ফলাফলের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি দেবহাটার উত্তর পারুলিয়ায় উপজেলা জামায়াতের সভায় তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর দায়িত্ব বেড়েছে; আসনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী ধাপে ধাপে সমাধান করবেন এবং তাঁর কাছে পৌঁছাতে কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘এমপি মানে শুধু আমি নই, আপনারাই এমপি।’
সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (বাংলা), deshrupantor.com, crimebarta.com, 103.183.38.66, prothomalo.com, bangla.thedailystar.net, bssnews.net, dakshinermashal.com, dailyinqilab.com, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে গঠিত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।
সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া, সংসদে সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটার মানুষের দাবি তুলে ধরা এবং এলাকার উন্নয়ন কাজে ভূমিকা রাখা; স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় যুক্ত। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, সাংবাদিক, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা মিলে কাজ করলে সাতক্ষীরাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ২৭ জুলাই এক সভায় তিনি জানান, সংসদে তিনি সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল আবার চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক উন্নয়নের দাবি তুলেছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর সড়কের ৯১৫ মিটার উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, dailyinqilab.com, dailysangram.com, bartabazar.com, kalaroanews.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
সাতক্ষীরা-২ খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদে এর নম্বর ১০৬। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এবং দেবহাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৫৭২ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল শিট অনুযায়ী এখানে ভোটার ছিলেন ৫,৩৫,৬৫৪ জন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় জেলা শহর ও সাতক্ষীরা পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে; এর পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ৫,২২,৯৬৪। ইছামতী, বেতনা ও খোলপেটুয়া নদী এবং লাবণ্যবতী বিল এই এলাকার পরিচিত জলাশয়। মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, এরপর ব্যবসা; ধান, চাল, চিংড়ি ও কুল এখানকার প্রধান রপ্তানি পণ্য। ভোমরা ইউনিয়নে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ভোমরা স্থলবন্দর অবস্থিত। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ১৮৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান; সুলতানপুর শাহী মসজিদ ও সাতক্ষীরা পঞ্চমন্দির ঐতিহ্যের নিদর্শন।
দেবহাটা উপজেলা সদরের দক্ষিণে, ভারত সীমান্তঘেঁষা ইছামতী নদীর তীরে। দেবহাটা, কুলিয়া, নওয়াপাড়া, পারুলিয়া ও সখিপুর এই পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারিতে ১,৩৩,০১৪। কৃষি ও চিংড়ি চাষ এখানকার প্রধান জীবিকা; ১৮৯৪ সালে নির্মিত দেবহাটা থানা ভবন ও শ্রীশ্রী গোকুলানন্দ জিউ মন্দির উল্লেখযোগ্য স্থাপনা।
২০২৪ সাল পর্যন্ত আসনটি কেবল সাতক্ষীরা সদর নিয়ে গঠিত ছিল; দেবহাটা যুক্ত হয় ২০২৫ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণে। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালে এখানে জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়; ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টি এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেতেন। ২০২৬ সালে আসনটিতে আবার জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হন।
সূত্র: 103.183.38.66, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক
BJEIবিজয়ী২,৬৬,৯৫৯৬৮.৫%
- Md Abdur Rauf
BNP১,১৬,২৯৩২৯.৮% - Md AshrafuzzamanJP(ERSHAD)৪,২৭৮১.১%
- Mufti Rabiul Islam
IAB১,৯৭৬০.৫% - Md Idris AliBangladesh JaSad৩১৭০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: সাতক্ষীরা-২
আসনের পাতা →(ক) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এবং (খ) দেবহাটা উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…