মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান

মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান

Muhammad Azizur Rahman

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান যশোর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (Muhammad Azizur Rahman) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য। এলাকায় তিনি মাওলানা আজীজুর রহমান নামে পরিচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) এই প্রবীণ নেতা পেশায় শিক্ষক এবং বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয়; ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৫১ সালের ১ মে; তাঁর স্থায়ী ঠিকানা যশোরের শার্শা উপজেলায়। তাঁর পিতা ইদরিছ আলী, মাতা রাবিয়া খাতুন।

রাজনৈতিক জীবন

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। যশোর জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি যশোর-১ আসনে লড়েন এবং আওয়ামী লীগের শেখ আফিল উদ্দিনের (Sheikh Afil Uddin) কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যান।

নির্বাচনের আগে বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি খাল খনন করে শার্শার জলাবদ্ধতা কমানো, বেহাল সড়ক টেকসই করা, উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল সংস্কার এবং বেনাপোলে নতুন হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। বেনাপোল স্থলবন্দরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো এবং শার্শাকে মাদকমুক্ত করার কথাও বলেন তিনি। নারীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তিনি জানান, জুলাই সনদ গণভোটে তাঁর দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এবং কর্মীদের তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে বলবেন।

২০২৬ নির্বাচন

এই আসনে বিএনপি প্রথমে মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে (Mofikul Hasan Tripti) মনোনয়ন দিয়েছিল; প্রচার শুরুর প্রায় এক মাস পর তাঁর বদলে নুরুজ্জামান লিটনকে (Nuruzzaman Liton) প্রার্থী করা হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ১,১৯,০৯৩ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নুরুজ্জামান লিটন পান ৯৩,৫৪২ ভোট; জয়ের ব্যবধান ২৫,৫৫১ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান ১,৭৬৮ এবং জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ১,৩৯৮ ভোট পান। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed) ঢাকায় ব্রিফিংয়ে বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। যশোরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতেই এবার জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১,৫১,৭৯২ এবং ‘না’ ভোট ৪৬,৯০৬।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), bssnews.net ১, bssnews.net ২, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, ittefaq.com.bd, bangla.thedailystar.net ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, জাতীয় সংসদ ১, banglatribune.com, জাতীয় সংসদ ২, prothomalo.com ৩, bangla.thedailystar.net ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ মে ১৯৫১, ৭৫ বছর
জন্মস্থানদক্ষিণ বাগআঁচড়া, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন, শার্শা উপজেলা, যশোর জেলা
লিঙ্গপুরুষ
পেশাশিক্ষকতা
পিতাইদরিছ আলী
মাতারাবিয়া খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনি যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য গঠিত জামায়াতের ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে তিনি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সংসদে শার্শার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, আইন প্রণয়নে অংশ নেন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকিতে যুক্ত।

২০ ফেব্রুয়ারি শার্শার নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে গণসংবর্ধনায় তিনি হাট-বাজার ও ঘাটে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন এবং চাঁদাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বলার কথা জানান।

এপ্রিলের শেষে তিনি নির্যাতন, চাঁদাবাজি বা হামলার শিকার মানুষের জন্য সরাসরি তাঁর কাছে অভিযোগ জানানোর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেন; অভিযোগকারীর তথ্য গোপন রাখার কথা বলা হয়।

৪ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি অংশ নেন; বৈঠকে রেলওয়েকে আয় বাড়িয়ে লাভজনক করতে এবং যাত্রীবাহী কোচের তুলনায় মালবাহী ওয়াগন বাড়াতে সুপারিশ করা হয়।

২২ অক্টোবর যশোর প্রেসক্লাবে জেলার আরও চার জামায়াত সংসদ সদস্যের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

সূত্র: thedailycampus.com ১, thedailycampus.com ২, banglatribune.com ১, banglatribune.com ২, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

যশোর-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

যশোর-১ আসন খুলনা বিভাগের যশোর জেলায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষে। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী পুরো শার্শা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে বেনাপোল পৌরসভা এবং দিহি, লক্ষ্মণপুর, বাহাদুরপুর, বেনাপোল, পুটখালী, গোগা, কায়বা, বাগআঁচড়া, উলাশী, শার্শা ও নিজামপুর ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনের নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,১১,৬৩৩ জন।

শার্শা উপজেলার আয়তন প্রায় ৩৩৬ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩,৮৭,৬৩১, সাক্ষরতার হার ৭৬.৭১ শতাংশ। উপজেলার পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে চৌগাছা, পূর্বে ঝিকরগাছা এবং দক্ষিণে সাতক্ষীরার কলারোয়া। প্রধান নদী বেতনা; সোনানদিয়া, বনমান্দারসহ বেশ কয়েকটি বিল ও বাঁওড় আছে।

কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা। ধান, পাট, আলু, গম, সরিষা ও সবজি প্রধান ফসল; খেজুরের গুড়, তিল ও সবজি বাইরে যায়। বাগআঁচড়া, নাভারণ, শার্শা ও বেনাপোল উল্লেখযোগ্য বাজার। বেনাপোলে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর; ঐতিহাসিক যশোর রোড এই উপজেলা দিয়ে গেছে। দিহি ইউনিয়নের কাশিপুরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বেনাপোল সীমান্তের কাগজপুকুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

১৯৮৬ সালে আসনের সীমানায় বড় পরিবর্তন হয়েছিল। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ আসনটি জেতে; ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি, জুনে আবার আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে বিএনপি জয়ী হয়। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের শেখ আফিল উদ্দিন জয়ী হন। ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান নির্বাচিত হন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, prothomalo.com ১, dailysangram.com, bssnews.net, 103.183.38.66, prothomalo.com ২, ittefaq.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬যশোর-১বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,১৫,৮০১ ভোট
  1. মুহাম্মাদ আজীজুর রহমানBJEIবিজয়ী১,১৯,০৯৩৫৫.২%
  2. Md Nuruzzaman LitonBNP৯৩,৫৪২৪৩.৩%
  3. Md Baktiar RahmanIAB১,৭৬৮০.৮%
  4. Md Jahangir Alam ChoncholJP(ERSHAD)১,৩৯৮০.৬%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: যশোর-১

আসনের পাতা →
এলাকা

শার্শা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →